For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত  হলে যা যা করবেন

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত  হলে যা যা করবেন

By Sanzida Emu

 

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস – যা গত বছরের ডিসেম্বরে সর্বপ্রথম চীনে ছড়িয়েছে।

 

এই ভাইরাসে বিশ্বব্যাপী প্রাণহানি হয়েছে তিন লাখ ১৪ হাজার মানুষের। বিশ্বব্যাপী আক্রান্তের সংখ্যা ৪৪ লাখ ছাড়িয়েছে।

 

কোভিড-১৯ যা করোনা ভাইরাস নামে পরিচিত – সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমের শিরোনামে প্রাধান্য বিস্তার করেছে।

 

করোনা ভাইরাসের লক্ষণ :

 

১.রেসপিরেটরি লক্ষণ ছাড়াও জ্বর, কাশি, শ্বাস প্রশ্বাসের সমস্যাই মূলত প্রধান লক্ষণ।

২.এটি ফুসফুসে আক্রমণ করে।

৩.সাধারণত শুষ্ক কাশি ও জ্বরের মাধ্যমেই শুরু হয় উপসর্গ, পরে শ্বাস প্রশ্বাসে সমস্যা দেখা দেয়।

৪.সাধারণত রোগের উপসর্গগুলো প্রকাশ পেতে গড়ে পাঁচ দিন সময় নেয়।

 

 

 

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে, ভাইরাসটির  পিরিয়ড ১৪দিন পর্যন্ত স্থায়ী থাকে। তবে কিছু কিছু গবেষকের মতে এর স্থায়িত্ব ২৪দিন পর্যন্ত থাকতে পারে।

 

এশিয়ার বিভিন্ন অংশ এবং এর বাইরেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এই ভাইরাস। সাধারণ সতর্কতা অবলম্বন করে আপনি এই ভাইরাসটির সংক্রমণ ও বিস্তারের ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারেন।

 

প্রতিষেধক না থাকায় এর প্রতিরোধে সচেতন হওয়াই এখন পর্যন্ত কার্যকর উপায়। ঘন ঘন সাবান ও পানি দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে হবে, অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে, ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন—এমন ব্যক্তিদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে, হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলতে হবে, অসুস্থ পশুপাখির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে।

 

 

 

 

এ ছাড়া যতটা সম্ভব ঘরে থাকতে হবে, প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না যাওয়া ও জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। আর এই মুহূর্তে বিদেশ থেকে কেউ এলে তাঁকে বাধ্যতামূলকভাবে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে।

 

কারও জ্বর বা সর্দি-কাশি হলে ফোনে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রাথমিক চিকিৎসা নিতে হবে। এরপরও অবস্থার উন্নতি না হলে বা কারও মধ্যে করোনার লক্ষণ দেখা দিলে সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে নাক-মুখ ঢেকে (মাস্ক ব্যবহার) বাড়িতে অপেক্ষা করতে হবে। অবস্থা খারাপ হলে নিকটস্থ সদর হাসপাতালে যোগাযোগ করতে হবে।

 

প্রয়োজনে আইইডিসিআর এর করোনা কন্ট্রোল রুম (০১৭০০৭০৫৭৩৭) অথবা হটলাইন নম্বরে (০১৯৩৭১১০০১১, ০১৯৩৭০০০০১১, ০১৯২৭৭১১৭৮৪, ০১৯২৭৭১১৭৮৫, ০১৯৪৪৩৩৩২২২, ০১৫৫০০৬৪৯০১–০৫) যোগাযোগ করা যাবে। এ ছাড়া করোনাসংক্রান্ত তথ্য জানতে বা সহযোগিতা পেতে স্বাস্থ্য বাতায়ন ১৬২৬৩ এবং ৩৩৩ নম্বরে ফোন করা যাবে।

 

এছাড়া আরো কিছু বিষয় মেনে চলা এবং সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরী।যেমন:

 

১.কোয়ারেন্টিন ও আইসোলেশন বিষয়ে সরকারের নির্দেশনা প্রত্যেক নাগরিকের মেনে চলা বাঞ্ছনীয়। প্রত্যকের কোয়ারেন্টিনের নিয়ম সম্পর্কে জ্ঞান থাকা প্রয়োজন। নিজ উদ্যোগে হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা অনেক বিদেশফেরত নাগরিক মেনে চলছে না, তাদের কঠোর নির্দেশনার মাধ্যমে কোয়ারেন্টিনে রেখে অন্যদের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করা সম্ভব।

 

২. পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে অধিকতর সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। যেমন সাবান দিয়ে ২০ সেকেন্ড সময় ধরে হাত ভালোভাবে ধুইয়ে নেওয়া, বাইরে বের হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করা, বাসাবাড়ি, লিফট, সিঁড়ি, সিঁড়ির রেলিং, জামাকাপড়, ঘরের জানালা পরিষ্কার রাখা বাঞ্ছনীয়। প্রতিদিনের ময়লা প্রতিদিন ডাস্টবিনে ফেলে দিতে হবে। পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রতি অফিসের সামনে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বা হ্যান্ডওয়াশ রাখা উচিত। প্রত্যেকেই অফিসে প্রবেশের আগে হাত পরিষ্কার করতে পারে। তাইওয়ান ও হংকং এই পদ্ধতি অনুসরণ করে করোনা প্রতিরোধ করছে। ঘরের ও বাইরের জুতা আলাদা থাকা উচিত। আমরা সবাই নিজের আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে সাবধানতা অবলম্বন করি।

 

৩.প্রতিদিন কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত। ব্যায়াম করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত ডায়েট মেনে চলুন। দুশ্চিন্তা ও ভয় কমিয়ে জীবন এগিয়ে নিতে হবে। ঘরের মধ্যে হেঁটে বা অন্যান্য মাধ্যমে ব্যায়ামের কার্যক্রম করা উচিত, যা দেহের শান্তি ও ভারসাম্য বৃদ্ধিতে কাজ করে। এসবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।

 

৪.এ সময় প্রচুর পরিমাণ বিশুদ্ধ পানি পান করা উচিত। অল্প অল্প করে ১৫ মিনিট পরপর পানি পান করতে হবে। ঠান্ডার সমস্যায় পড়লে হালকা কুসুম গরম পানিতে গড়গড়া করতে হবে। পানির পিপাসা মেটানোর জন্য কখনোই আইসক্রিম বা ঠান্ডা খাওয়া যাবে না। পানির বিকল্প হিসেবে মাঝেমধ্যে ডাবের পানি পান করতে পারেন। ডাবের পানি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলেও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। প্রয়োজনে বাইরে বের হলে সঙ্গে পানি নিয়ে যেতে পারলে খুবই ভালো।

 

 

 

 

৫.যারা হাঁচি, কাশি, জ্বর, গলা ব্যথা অনুভব করছে, তারা যেন জুমার নামাজ পড়তে না যায়। ঘর থেকে বের না হয়, ঘরের মধ্যে আলাদা বিছানায় ঘুমানোর ব্যবস্থা করা ইত্যাদি করোনার বিস্তার ঠেকাতে কাজ করে। এ সময় হ্যান্ডশেক ও কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন এবং ইতিমধ্যে যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন, তাঁদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।

 

সর্বোপর্রি সকলের সচেতনতাই পারে এ মহামারী থেকে সকলকে রক্ষা করতে।

 

leave your comment