For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
টপ কোম্পানির ইন্টারভিউর কমন প্রশ্ন

টপ কোম্পানির ইন্টারভিউর কমন প্রশ্ন

 

কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের প্রথম ধাপটি হলো ইন্টারভিউ। ইন্টারভিউ সঠিক না হলে চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পরে। তাই কিভাবে একটা সুন্দর ইন্টারভিউ এর জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে যা সবার জানা উচিত। ইন্টারভিউর জন্য শুধুমাত্র একটা সুন্দর ড্রেস কোড জানা থাকাই জরুরি না বরং কিভাবে নিজেকে প্রকাশ করতে হবে তাও জানা থাকা দরকার। ইন্টারভিউর নাম শুনলে অনেকেই ভয় পেতে শুরু করে। কিন্তু ইন্টারভিউ কোনো রকম ভয় ছাড়া দেওয়া সম্ভব যদি আগে থেকে নিজেকে প্রস্তুত করা যায়। ইন্টাভিউ এর আগে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আগে থেকে কিছু কমন প্রশ্নের উত্তর তৈরী করে রাখা ভালো যা পরবর্তীতে ইন্টারভিউ ভীতি দূর করতে এবং নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করবে। তাই আজকে আমরা আলোচনা করবো কিভাবে ইন্টারভিউর কমন প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া যায়।

 

১। নিজের সম্পর্কে বলুন
চাকরির ইন্টারভিউতে সব থেকে বেশি যে প্রশ্নটি করা হয় তা হলো নিজের সম্পর্কে বলা। এই প্রশ্নটির উত্তর সুন্দর ভাবে দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই মনে করে নিজের সম্পর্কে বলা তেমন কঠিন কিছু নয় কিন্তু আসলে গুছিয়ে নিজের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো দেওয়া মোটেও সোজা কোনো বেপার না। তাই অবশ্যই এই প্রশ্নের উত্তর আগে থেকে তৈরী করে রাখা উচিত।
এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের সম্পর্কে বলার জন্য প্রথমে নিজের নাম এবং কোথা থেকে এসেছি বা গ্রামের বাড়ির নাম বলে শুরু করা যেতে পারে। এরপর নিজের পড়াশুনার ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়ে খুব সংক্ষেপে কিছু বলা যেতে পারে। এরপর সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস, যা হলো নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতটা নিয়ে কথা বলতে হবে, যাদের পূর্বে চাকরির অভিজ্ঞতটা নেই তারা নিজের কিছু দক্ষতার কথা উল্লেখ করতে পারে। এবং সব শেষে নিজের ফ্যামিলির সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলে এই প্রশ্নের উত্তর শেষ করা যেতে পারে।

 

 

২। কেন আপনি এই কোম্পানিতে চাকরি করতে চান?
কোনো কোম্পানিতে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে যাওয়ার আগেই সেই কোম্পানির সম্পর্কে ভালো মতো জেনে নেওয়া উচিত। কোম্পানির খুঁটিনাটি বিভিন্ন তথ্য জানা থাকলে এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সহজ হবে। এই প্রশ্নের উত্তরে কোম্পানির বিভিন্ন ভালো দিক তুলে ধরতে হবে। পাশাপাশি কোম্পানি কিভাবে নিজের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করবে অর্থাৎ কোম্পানির কোন বিষয় গুলো নিজের কাজের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে তা সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে হবে।


৩। নিজের সবথেকে শক্তিশালী দিক কোনটি অথবা নিজের কিছু ভালো দিক সম্পর্কে বলুন।
এই প্রশ্নটির উত্তরের মাধ্যমে নিজের ভালো দিক গুলো ফুটিয়ে তুলতে হবে। এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের দক্ষতাগুলোর প্রতি প্রশ্নকর্তার দৃষ্টি নিয়ে আসতে হবে। এই প্রশ্নের উত্তরে নিজেকে কঠোর প্ররিশ্রমী, আশাবাদী, সৎ, সাহসী ও নিষ্ঠাবান হিসাবে পরিচয় করানো যেতে পারে। নিজের সৃজনশীলতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, কাজের প্রতি উৎসাহী ইত্যাদি বিষয়গুলোকে সুন্দরকরে প্রশ্নকর্তার কাছে উপস্থাপন করতে পারলে চাকরির সম্ভবনা অনেকাংশেই বেড়ে যাবে।

 

 

৪। নিজের দুর্বল দিক গুলো কি কি?
এই প্রশ্নের উপর কিছুটা দক্ষতার সাথে দিতে হবে। এই প্রশ্নে নিজের খারাপ দিক গুলো তুলে ধরতে হবে। কিন্তু এমন কোনো খারাপ দিক বলা যাবে না যা চাকরির জন্য খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। তাই খারাপ দিকগুলোকে নিজের ভালো গুন হিসাবে তুলে ধরতে হবে। যেমন আমি যদি বলি, আমি আমার কাজে সহজে সন্তুষ্ট হই না অর্থাৎ সবথেকে ভালো কাজটা না পাওয়া পর্যন্ত আমি কাজ চালিয়ে যাই। এখানে আমি আমার খারাপ দিকটা ভালো দিক হিসাবে উপস্থাপন করলাম, যা এই প্রশ্নের উত্তরে করা খুবই জরুরি।

 

 

৫। আমাদের কোম্পানি কেন আপনাকে চাকরিতে নিবে?
এই প্রশ্নের উত্তরটা হবে পুরোটাই নিজের মার্কেটিং। আমরা কোনো পণ্য বিক্রির জন্য যে ভাবে পণ্যটির সুনাম করবো বা পণ্যটির সুবিধাগুলো বলবো এই প্রশ্নের উত্তর ঠিক তেমন হবে। একটা কোম্পানিকে কাছে নিজেকে পণ্য মনে করে বিক্রি করার জন্য যা বলা দরকার তাই এই প্রশ্নের উত্তরে বলতে হবে। প্রথমেই নিজের দক্ষতাগুলো তুলে ধরতে হবে এবং কিভাবে তা এই চাকরির সাথে সম্পর্কযুক্ত তা ব্যাখ্যা করতে হবে।

 


৬। ৫ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের মনগড়া স্বপ্নের কথা বা এমন কিছু বলা যাবে না যা চাকরির সাথে সম্পর্কিত না। এই প্রশ্নের উত্তরে বলা যেতে পারে যে, নিজেকে এই কোম্পানির উচ্চতর কোনো একটি পর্যায়ে দেখতে চাই। আবার এমনটাও বলা যাবে না যে আমি এই কোম্পানিকে নিজের কোম্পানি বানিয়ে ফেলতে চাই। একটা ভালো অবস্থানের কথা বলতে হবে যেন প্রশ্নকর্তার মনে হয় যে, আবেদনকারীর মধ্যে সামনে আগানোর স্পৃহা আছে।

 

 

৭। আপনি এই কোম্পানি সম্পর্কে কি জানেন?
ইন্টারভিউর আগেই কোম্পানির সম্পর্কে জানতে হবে। কোম্পানিটি কি নিয়ে কাজ করে, বর্তমানে কোন প্রজেক্ট এর উপর কাজ চলতাসে, কোম্পানির বর্তমান অবস্থা, কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতার নাম ইত্যাদি বিষয় গুলো জেনে রাখা ভালো। এই তথ্যগুলো জানা থাকলে সহজেই এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব।

৮। কেন আপনি চাকরি পরিবর্তন করতে চান?
এই প্রশ্নটি শুধু তাদের জন্য যাদের চাকরি করার পূর্ব অভিজ্ঞতা আছে। এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের পূর্বের চাকরীকৃত কোম্পানিকে ধন্যবাদ দ্বার শুরু করে কোম্পানি ছাড়ার কারণ বলে শেষ করতে হবে। যে কারণেই হোক, যেমন সেলারি প্রব্লেম, সুযোগসুবিধার অভাব ইত্যাদি চাকরি ছাড়ার কারণ হলেও সত্যিকারের কারণটি এখানে বলা উচিত। এছাড়া এই চাকরি কিভাবে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাকে সমর্থন করে তাও উল্লেখ করা উচিত।

৯। আপনি কত টাকা সেলারি চান?
এই প্রশ্নের উত্তর আবেদনকারীর অভিজ্ঞতার উপর নির্ভর করে। যারা চাকরিক্ষেত্রে একবারে নতুন তারা এই প্রশ্নে উত্তরে কোনো টাকার পরিমান না বলে, অভিজ্ঞতা অর্জনের সম্ভবনার কথা বলতে পারে। এই চাকরি একজন নতুন আবেদনকারীর অভিজ্ঞতা কিভাবে বৃদ্ধি করতে পারে সেই কথাটাই এখানে প্রাধান্য দিয়ে উত্তর দেওয়া উচিত।

যাদের আগে চাকরির অভিজ্ঞতা আসে তারা আগের চাকরির বেতনের উপর ধারণা করে নিজের মূল্য নির্ধারণ করতে পারে। অথবা কোম্পানি কত টাকা সেলারীর জন্য বরাদ্দ করেছে তা জেনে সেই অনুযায়ীও একটা সেলারি রেঞ্জ নির্ধারণ করে দেওয়া যায়।


১০। নিজের নেতৃত্বের গুণাবলী সম্পর্কে বলুন
যে কোনো ক্ষেত্রে নেতৃত্বের গুণাবলী থাকা একটি বিশেষ গুন। তাই এই প্রশ্নের উত্তরে নিজের নেতৃত্ব দানের ক্ষমতা, অন্যকে উৎসাহিত করা, সহজে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে। পূর্বে নেতৃত্বদানের অভিজ্ঞতা থাকলে যেমন ক্লাব লিডার বা কোনো প্রোগ্রাম আয়োজনের নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলে তা এই পর্যায় বলা যেতে পারে।
যদিও প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর নির্ভর করে আবেদনকারীর উপর তারপরও এই ভাবে নিজেকে তৈরী করতে পারলে যে কোনো চাকরিপ্রার্থী তার ভয় কাটিয়ে উঠে নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারবে। ইন্টারভিউর আগেই তাই প্রতিটি আবেদনকারীর উচিত এই প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরী করে যাওয়া তাতে তার আত্মবিশ্বাস অনেক বেশ বেড়ে যায়।

Comments (1)


leave your comment