For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
রিভিশন দেওয়ার সহজ উপায়

রিভিশন দেওয়ার সহজ উপায়

 

বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী সারা বছর নিয়মিত পড়াশোনা করতে চায় না। তারা মনে করে যারা নিয়মিত পড়াশোনা করে তারা বাবা – মায়ের অতি ভক্ত এবং আঁতেল প্রকৃতির মানুষ। তাদের মধ্যে আবেগ অনুভূতি কম এবং তারা রােবটের মতাে বাবা – মায়ের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করে। দুষ্টু প্রকৃতির ছাত্ররা বিভিন্ন ভাবে ভালাে ছাত্রদের নিয়ে হাসি ঠাট্টা করে তাদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু পরীক্ষার আগের দিন রাতে তাদের টনক নড়ে যারা সারা বছর হেসে খেলে আর বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করে। তখন তারা ভালো ছাত্রদের হিংসা করে তবে মনে মনে অনুধাবনও করে যে আগে একটু পড়াশোনা করা উচিৎ ছিল। কিন্তু তখন আর নিজেকে সুধরাবার সময় থাকে না। পরীক্ষার আগের রাতে তারা প্রার্থনা করে বলে,”হে আল্লাহ, এবারের মতো পাস করিয়ে দাও, এটাই শেষ বার, পরের বার বছরের শুরু থেকে নিয়মিত লেখাপড়া করবাে।” কিন্তু পরীক্ষা শেষ হতেই তারা পরীক্ষার আগের রাতের কথা ভুলে গিয়ে আবার আগের মতো হয়ে পরে। তাই সবার প্রথমে আভিভাবকের উচিৎ ছেলেমেয়েকে সঠিক পাথে চালনা করা এবং উৎসাহ দিয়ে তাদের মনোবল বাড়ানাে।


একজন ছাত্রের পরীক্ষা নেওয়া হয় তার মেধা যাচাই করার জন্য আর সে কী শিখলাে এবং সেই শিক্ষাটি জীবনে কোন ক্ষেত্রে কীভাবে কাজে লাগতে পারলাে তা নিশ্চিত করার জন্য।
পরীক্ষার কথা উঠলেই প্রথমে যেটি দরকার সেটি হলাে নিয়মিত পড়ালেখা করা। তবে শুধু দায়সারা পড়ালেখা করলেই হয় না, সেই পড়া কারও স্মৃতিতে চিরতরে স্থায়ী হয় না। সে জন্য দরকার বারবার অনুশীলন। আগের পড়াটিকে পুনরায় ঝালাই করে নেওয়ার নামই রিভিশন দেওয়া।
রেজাল্ট খারাপ করার একটি বড় কারণ হল ঠিক মতো রিভিশন না দিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া। যে যার ইচ্ছে মতো রিভিশন দিলেই হয় না। রিভিশন দেওয়ারও কিছু পদ্ধতি রয়েছে। সেই পদ্ধতি অনুসরণ করলে পড়া যেমন মনে থাকবে তেমন পড়ার প্রতি আগ্রহও জন্মাবে। তাহলে জেনে নেওয়া যাক কী সেই পদ্ধতি –

 

 

 

 

১. শুরু থেকে চর্চা করা :

শারীরিক সৌন্দর্যের জন্য আমরা যেমন রুপচর্চা করে থাকি তেমনি আমাদের জ্ঞানকে পালিশ করতে পড়ার চর্চা করা বাঞ্ছনীয়। এ চর্চা শুরু করতে হবে বছরের শুরু থেকে। নতুন বছরে সবাই যেমন নতুনভাবে আরও এক বছর বাঁচার অনুপ্রেরণা নিয়ে পথ চলতে শুরু করে তেমনি পড়ালেখাকেও নতুন উদ্দমে শুরু করতে হবে। মনের ভেতর জোশঃ আনতে হবে যেন সারা বছর নিয়মিত পড়াশােন করার শক্তি সঞ্চিত হয়। তাহলে পরীক্ষার সময় শুধু রিভিশন দিলেই হয়ে যাবে। বাড়তি চাপ অনুভব হবে না।

 

 

২. সিলেবাস সম্পর্কে জ্ঞান রাখা :


এলােমেলো ভাবে যেখান থেকে ইচ্ছে সেখান থেকে পড়লেই হবে না। পড়ার জন্য সিলেবাসে কোন বিষয় কতটুকু বরাদ্য সেটি জানতে হবে এবং সেই সিলেবাস অনুযায়ী বইয়ে মার্ক করে নিতে হবে। সিলেবাসের একটি টপিক পড়াশেষ হয়ে গেলে বিষয়টির টপিকের পাশে টিক চিহ্ন দিয়ে ফেললে পড়া শেষ করার প্রবণতা জন্মে এবং নতুন টপিক পড়ার আগ্রহ সঞ্চিত হয়।

 

৩. রুটিন করে নিয়মিত পড়া :
সিলেবাস সম্পর্কে ধারণা নিয়ে চটপট একটি রুটিন তৈরি করে নিতে হবে, যেখানে সারাদিনের পড়ার জন্য নির্দিষ্ট সময় সীমা থাকবে এবং প্রতিটি বিষয়ের অল্প অল্প অংশ প্রতিদিনের রুটিনে থাকবে। একসাথে একটি বিষয় গদবাধা ভাবে পড়লে একঘেয়েমি চলে আসে আর অবসাদ দেখা দেয়। তাই সব বিষয় একটু একটু করে পড়লে বিভিন্ন বিষয়ে মন বিক্ষিপ্ত হয় এবং চিন্তাশীলতা বিস্তার লাভ করে।

 

৪. নির্দিষ্ট পড়ার জায়গা রাখা :
পড়াশোনা করার সময় ছোট ভাই-বোনের জ্বালাতন বা কারও কথার শব্দ কানে আসলে খুব অস্বস্তি বোধ হয় এবং পড়া থেকে মন ছুটে যায়। তাই নিরিবিলি জায়গায় পড়ার টেবিল স্থাপন করলে এবং লোকারণ্য স্থান পরিহার করলে পড়া মুখস্থ করা সহজ হয়।

 

৫. বই গ্রহণ এবং স্লাইড বর্জন :
আজকালকার ছেলেমেয়েরা মোবাইল বা কম্পিউটারে স্লাইড নিয়ে লেখাপড়া করে। এতে চোখের ক্ষতি হয় এবং বই পড়ার অভাবে সৃজনশীলতা নষ্ট হয়। যতটুকু সম্ভব স্লাইড বর্জন করে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। বই পড়লে একটি বিষয়ের পূর্ণাঙ্গ ধারণা পাওয়া যায় এবং বই খুঁজে পড়া বের করা সহজ হয় ফলে সময় কম লাগে আর তাড়াতাড়ি পড়া শেষ করা যায়।

 

৬. মোবাইল ফোন দূরে রাখা :
পড়তে বসার সময় মোবাইল অফ করে বা মায়ের কাছে জমা রেখে পড়তে বসতে হবে। তা না হলে বারবার সোশাল মিডিয়াতে ঘুরে আসতে মন চাইবে। পড়ার মনোযোগ বিচ্ছিন্ন হবে এবং একবার মোবাইলে আসক্ত হয়ে পরলে সেদিন আর পড়াশোনা হবে না। তাই অবশ্যই মোবাইল দূরে রেখে পড়তে বসতে হবে।

 

৭. সময় ধরে পড়া :
একটি বিষয় পড়া শুরু করে ঘড়ি দেখে সেটি শেষ করার চেষ্টা করতে হবে। এতে সময় মতো পড়া শেষ হবে এবং পড়ার গতি বৃদ্ধি পাবে। প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। যেহেতু সময় এবং নদীর স্রোত কারও জন্য অপেক্ষা করে না সেহেতু স্রোতের সাথে তাল মিলিয়ে সাঁতরাতে হবে অর্থাৎ সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পড়ার গতি বাড়াতে হবে।

 

৮. লিখে লিখে পড়া :
মুরব্বিরা বলেন, একবার লেখা নাকি ৩ বার পড়ার সমান। তাই পড়ে মুখস্ত না হলে লিখে লিখে মুখস্ত করতে হবে। কোনো জিনিস একবার লিখলে সেটি স্মৃতিতে বেশিক্ষণ থাকে। লেখার সময় পড়ার কমতি গুলো নজরে পরে। পরীক্ষার খাতায় লেখার সময় আগের লেখার কথা মনে পরে যায়। তাই লিখে অনুশীলন করা অধিক কার্যকর।

 

৯. পড়ার ফাঁকে বিশ্রাম নেওয়া :
একটানা কয়েক ঘন্টা একনাগাড়ে বিরতিহীন ভাবে পড়লে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। ঘাড় ব্যথা, কোমর ব্যথা এমনকি মাথা ব্যথাও করতে পারে। তাছাড়া পড়ার প্রতি ক্লান্তি বিরক্তি এবং অবসাদ চলে আসে। তাই পড়ার মাঝে বিশ্রাম নিয়ে আবার নতুন উদ্দমে পড়া শুরু করলে সেটি স্বাস্থ্য ও মনের পক্ষে উপকারী।

 

১০. ক্লাসে নোট করা :
পরীক্ষার আগের দিন রাতে যখন বই পড়তে পড়তে মাথায় চাপ পরে তখন নিজের হাতে বানানো হ্যান্ড নোটটি খুব কাজে লাগে। শিক্ষকদের লেকচার অনুযায়ী ক্লাসে নোট করে নিলে সেগুলো পরীক্ষায় কমন পাওয়া যায় এবং নিজের হাতের লেখা বইয়ের ভাষার চেয়ে সহজ মনে হয়। রিভিশন দেওয়ার সময় ক্লাস নোটটি বের করে কয়েক বার পড়লেই সব বোধগম্য হয়ে যায়।

 

১১. ব্যবহার করো ফ্ল্যাশ কার্ড :
ভোক্যাবুলারি আর সূত্র আমরা সময় নিয়ে পড়ি বা শিখি কিন্তু খুব জলদি ভুলে যাই। তাই সূত্র আর নতুন নতুন শব্দার্থগুলো মনে রাখার জন্যে ব্যবহার করা যায় ফ্ল্যাশ কার্ড। সবসময় ভোকাবুল্যারি বা সূত্র লেখা বই সাথে নিয়ে ঘোরা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সহায়ক হবে এই ফ্ল্যাশ কার্ড। ছোট ছোট এই কার্ডগুলো সবসময় নিজের সাথে রাখা যায় এবং যখন তখন রিভিশন দেওয়া যায়।

 

 

১২. কেবল প্রয়োজনীয় অংশটুকুই চিহ্নিত করে রাখা :
বই দাগাতে গিয়ে আমাদের কারো কারো বইয়ের অবস্থা এমন হয়ে যায় যে শেষ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে পাওয়া যায় না। তাই, বই দাগিয়ে পড়ার সময় কেবল প্রয়োজনীয় তথ্যগুলোই দাগ দিয়ে হাইলাইট করে রাখা ভালো। এতে রিভিশন দিতে সুবিধা হয়।

● এমন হাজারটি উপায় নিজের সুবিধা মতো বের করে পড়লে এবং রিভিশন দিলে ভালো রেজাল্ট অবশ্যই নিজে এসে ধরা দিবে। বারবার রিভিশন দেওয়ার অভ্যাস কোনো টপিকের ওপর যে কারো দক্ষতা বাড়িয়ে দেবে বহুলাংশে।

leave your comment