For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
করোনা ভাইরাস এবং এর প্রতিরোধের উপায়

করোনা ভাইরাস এবং এর প্রতিরোধের উপায়

 

করোনা ভাইরাস এমন এক আতঙ্কের নাম যা এখন ওয়ার্ল্ড টেরোরিসম এর থেকেও ভয়ংকর হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, বিশ্বের ৬০% মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থা ইতোমধ্যে একে পান্ডেমিক বা বৈশ্বিক মহামারী হিসাবে ঘোষণা করেছে।

 

করোনা ভাইরাস কি?
করোনা ভাইরাস অথবা COVID-19 হলো এমন এক ধরণের ভাইরাস যা মূলত মানুষের মধ্যে ঠান্ডা জ্বর এর মতো অসুস্থতার সৃষ্টি করে কিন্তু এর ভয়াবহতা অনেক বেশি। 2019 সালের ডিসেম্বরে চীনের উহান শহরে huanan মার্কেট থেকে প্রথম এই ভাইরাস ছড়ায় বলে ধারণা করা হয় এবং এই শহরেই প্রথম এই ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ধরা পরে। ধারণা করা হয় কোনো বন্য প্রাণীর মাদ্ধমে ভাইরাসটি মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হয় এটি বাদুড় জাতীয় কোনো প্রাণী থেকে এসেছে এবং পরবর্তীতে জানানো হয় এটি Pangolins নামক এক প্রকার প্রাণীর মাদ্ধমে মানুষের মধ্যে প্রবেশ করেছে।


করোনা ভাইরাস এ আক্রান্তের লক্ষণসমূহ –করোনা ভাইরাস এ আক্রান্ত হওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে লক্ষণ লক্ষণ প্রকাশ পাওয়া শুরু করে কিন্তু লক্ষণ প্রকাশের আগেই আক্রান্ত ব্যাক্তি ভাইরাস ছড়াতে সাহায্য করে এবং অন্যকে আক্রান্ত করে।

 

 

মূলত এই ভাইরাস এ আক্রান্তের প্রধান লক্ষণ হিসাবে প্রাথমিক অবস্থায় জ্বর, ঠান্ডা, শুস্ক কাশিকে চিহ্নিত করা হয়। যদিও ধীরে ধীরে আরো অনেক সমস্যা ধরা পরে। কিন্তু ৮৮ শতাংশ ক্ষেত্রে জ্বরকে প্রথম লক্ষণ হিসাবে ধরা হচ্ছে এবং ৬৮ শতাংশ ক্ষেত্রে কাশি প্রধান লক্ষণ হিসেবে ধরা হচ্ছে । এছাড়া চিহ্নিত লক্ষণসমূহ হলো-
১। শুস্ক কাশি
২। শারীরিক দুর্বলতা
৩। শ্লেষ্মা সহ কাশি
৪। শ্বাসকষ্ট
৫। শরীল ব্যথা
৬। গলা ব্যথা
৭। মাথা ব্যথা
৮। শরীল ঠান্ডা হয়ে যাওয়া
৯। বমি বমি ভাব


লক্ষণগুলো ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে। কখনো ভাইরাস আক্রান্ত রোগীর মধ্যে কোনো লক্ষণ নাও দেখা যেতে পারে। চায়না থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে এই ভাইরাস প্রাণঘাতী নয়। সাধারণত ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে উঠে। খুব কম শতাংশ মানুষ এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছে। যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে বয়স্কদের সংখ্যা বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৪০ উর্দ্ধ যাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম তাদের মধ্যে মৃত্যু হার বেশি। কিন্তু ভাইরাস সবার মধ্যেই ছড়াতে পারে এবং ছোটরা এই ভাইরাসের প্রধান বাহক হতে পারে।


কি করা উচিত এবং কি করা উচিত নয়?
এখন পর্যন্ত এই ভাইরাস এর কোনো প্রতিষেধক তৈরী করা সম্ভব হয় নি। কিন্তু এই ভাইরাস দমনের জন্য ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে কিন্তু তা বিভিন্ন পরীক্ষা নিরীক্ষার পর মানুষের কাছে পৌঁছানো এখনো বেশ সময়সাপেক্ষ ব্যাপার যা প্রায় ১৮ মাসের মতো সময় নিতে পারে। এই ভাইরাস এখনই দমন করা সম্ভব না হলেও কিছু সচেতনতার মাদ্ধমে ভাইরাসের বিস্তার কমিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে।


১। ঠান্ডা, জ্বর বা কাশি হলে নিজেকে অন্যদের থেকে দূরে রাখতে হবে এবং মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, যেন হাঁচি কাশির মাদ্ধমে ভাইরাস না ছড়াতে পারে। সবার জন্যই মাস্ক ব্যবহার করা ভালো কিন্তু মাস্ক ব্যবহারের মাদ্ধমে ভাইরাসকে প্রতিরোধ করা যাবে তা নয়। যারা অসুস্থ তাদের মাদ্ধমে যেন ভাইরাস না ছড়ায় তাই অসুস্থদের মাস্ক সবসময় ব্যবহার করতে হবে।


২। অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। যদি মনে হয় ভাইরাস আক্রান্ত হওয়া লক্ষণগুলোর কোনটি নিজের মধ্যে দেখা দিচ্ছি তাহলে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করতে হবে। ভুল চিকিৎসা নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।


২। ভাইরাসটি নাক, মুখের মাদ্ধমে দেহের ভিতরে প্রবেশ করে তাই হাত পরিষ্কার না করে নাক মুখে হাত দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁচি কাশির সময় রুমাল বা টিস্যু ব্যবহার করতে হবে। কোনো ভাবে হাঁচি কাশির সংস্পর্শ শরীরে লাগলে তা সাথে সাথে পরিষ্কার করতে হবে।


৩। হাতের মাদ্ধমে ভাইরাস ছড়াতে পারে তাই যত বেশি সম্ভব হাত ধুতে হবে এবং কমপক্ষে 20 সেকেন্ড সময় নিয়ে হাত ধুতে হবে। হাত ধোয়ার জন্য সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ ব্যবহার করা ভালো। হাত ধোয়া সম্ভব না হলে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও ব্যবহার করা যেতে পারে। হ্যান্ডশেক করা থেকে এই মুহূর্তে বিরত থাকাই শ্রেয়। টাকা ধরার পর, সবজি বা মাছ মাংস ধরার পরও ভালো ভাবে হাত ধুতে হবে।

 

 

৪। জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে বের না হওয়াই ভালো। ভাইরাস মানুষের সংস্পর্শে বেশি ছড়ায় তাই এই মুহূর্তে জরুরি কাজ ছাড়া বাইরে যত কম যাওয়া যায় ততই ভালো।


৫। নিজেকে এবং পরিবারের সবাইকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। বিশেষ করে ছোটদের পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে।


সঠিক তথ্য না জেনে অন্যকে বিভ্রান্ত করা যাবে না এবং ভুল তথ্য ছড়ানো যাবে না। কোনো তথ্য জানার পর তা সঠিক কি না তা প্রথমে যাচাই করতে হবে তারপর অন্যকে জানাতে হবে নতুবা ভুল তথ্যের কারণে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হবে, যা হয়তো পরিস্থিতি আরো খারাপ করে দিতে পারে। ভাইরাসটি বর্তমান সময়ের সবথেকে বড় আতঙ্কের নাম হলেও আতংকিত না হয়ে সচেতন হতে হবে। যেহেতু ভাইরাসটির এখনো কোনো ভ্যাকসিন তৈরী হয় নি তাই ভাইরাসরি পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব নয় কিন্তু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। এই মুহূর্তে শুধুমাত্র সচেতনতাই পারে করোনা ভাইরাসের বিস্তার কমাতে। তাই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সবাই সচেতন হই।

leave your comment