For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের পদ্ধতি

করোনা ভাইরাস শনাক্তকরণের পদ্ধতি

 

 

সারা বিশ্বের বিজ্ঞানীরা এখন নতুন ছড়ানো করোনা ভাইরাসের টেস্ট কীট ও প্রতিষেধক তৈরিতে ব্যস্ত, কিভাবে যত দ্রুত সম্ভব এই ভাইরাস শনাক্ত করা যায় এটাই এখন তাদের প্রধান লক্ষ্য, যাতে করে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দ্রুত চিকিৎসা পেতে পারে। কিন্তু এখন এই ভাইরাস শনাক্তকরার এই পরীক্ষা এখনো সম্পূর্ণ সঠিক তথ্য দিতে পারছে কি না তা এখনো নিশ্চিত নয়। ভাইরাসটি ছড়ানোর প্রথম দিকে চায়নার উহান নগরীতে অনেক মানুষকে পরীক্ষার মাদ্ধমে দেখা গেছে তাদের মধ্যে রোগটি নেই কিন্তু পরবর্তীতে ধরা পরে যে তারা রোগটিতে আক্রান্ত। এই ভুল তথ্যের কারণে ভাইরাসটি আরো দ্রুত ছড়িয়ে পরে।

 

 

 

করোনা ভাইরাস মূলত মানুষের upper respiratory tract কে আক্রান্ত করে অর্থাৎ এটি উপরের শ্বাস নালীকে আক্রান্ত করে, যা সাধারণত ঠান্ডা, গলা ব্যাথা, কাশি ও শ্বাস কষ্টের সৃষ্টি করে। কিন্তু এই একই লক্ষণগুলো সাধারণ ঠান্ডা জ্বরেও হয়ে থাকে। তাই এই ভাইরাসে আক্রান্ত কিনা তা জানার জন্য ভাইরাসটির উপস্থিতি পরীক্ষা করা জরুরি।

 


করোনা ভাইরাস আমাদের ফুসফুসের এপিথেলিয়াল কোষে প্রবেশ করে angiotensin converting enzyme 2(ACE2) নামক রিসেপ্টরের মাদ্ধমে, যা প্রবেশের পরে শরীরের ক্ষতি করতে থাকে।

 


করোনা ভাইরাস হলো Coronaviridae পরিবারের একটি সদস্য যার জেনেটিক মেটেরিয়াল হলো RNA যেটি হলো (+ve) RNA। জেনেটিক মেটেরিয়াল ছাড়াও এই ভাইরাসে রয়েছে এনভেলপ প্রোটিন যাদের মধ্যে রয়েছে S Protein, E Protein এবং M Protein। এই প্রোটিনগুলো ভাইরাসের বেঁচে থাকার জন্য খুবই জরুরি। Orf1a এবং Orf1b হচ্ছে ভাইরাসের বেঁচে থাকার জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় প্রোটিন যা ভাইরাসের DNA replication এর জন্য প্রয়োজনীয়। যদি রোগীর দেহ থেকে নেওয়া সেম্পলে এই fragment বা এই combination fragment পাওয়া যায় তাহলে বলা যেতে পারে যে ব্যক্তি ভাইরাসে আক্রান্ত।

 

 

 

করোনা ভাইরাস শনাক্ত করার জন্য আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে nasopharyngeal and oropharyngeal swabs এই দুই উপায়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির নমুনা সংগ্রহের সময় যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হয় যেন পরীক্ষাকারী কোনো ভাবে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে না আসে। এ সময় পরীক্ষাকারীকে Personal protective equipment (PPE) ব্যবহার করতে হয়, যার মধ্যে থাকে n95 respirator mask, protective goggles, protective medical gown. পরীক্ষা করার সময় প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তির মাথা পেছন দিকে রেখে আরামদায়ক অবস্থায় বসাতে হয় । নাকের ভিতর থেকে নমুনা নেওয়ার জন্য এক ধরণের sterile swabs ব্যবহার করা হয় যা মেডিকেল কটন দিয়ে তৈরী যা একটি প্লাস্টিকের লম্বা কাঠির সাথে যুক্ত থাকে। এমন দুটি ভিন্ন sterile swabs এর দ্বারা দুই নাকের ছিদ্র দিয়ে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। নমুনা সংগ্রহের সাথে সাথে তাকে একটি টিউবের মধ্যে রাখা হয় যাতে ২-৩ মিলিলিটার viral transport medium থাকে।

 

 

 

যদি কোনো কারণে nasopharyngeal পদ্ধতির মাদ্ধমে নমুনা সংগ্রহ করা না যায়, তাহলে oropharyngeal পদ্ধতি অবলম্বন করে মুখের ভিতর থেকেও নমুনা সংগ্রহ করা যায়। এ পদ্ধতিতে আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের মধ্যে swabs প্রবেশ করানো হয় এবং ঠোঁট, দাঁত, জিহ্ববা কোনো কিছু স্পর্শ না করিয়ে মুখের একদম পিছনের অংশ থেকে নমুনা নেওয়া হয়। নমুনা সংগ্রহের সাথে সাথে তা আগের মতো একটি টিউব এ রাখা হয় এবং যত দ্রুত স্বভব পরীক্ষা করার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়।

 


করোনা ভাইরাস পরীক্ষার জন্য সব থেকে প্রচলিত পদ্ধতি হলো Real Time PCR বা Real-time polymerase chain reaction পদ্ধতি।এই পরীক্ষার মাদ্ধমে মূলত নমুনার মধ্যে নির্দিষ্ট RNA বা নির্দিষ্ট transcripts এর উপস্থিতি আছে কি না তা পরীক্ষা করা হয় এবং উপস্থিতি থাকলে তা কি পরিমানে আছে বা কি অনুপাতে আছে তা জানা যায়। এই পরীক্ষা করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট নির্দেশনা অনুসরণ করা হয় যার মধ্যে কোন Fragments এর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে তা থাকে। বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন রিসার্চ ইনস্টিটিউট এই পদ্ধতির জন্য ভিন্ন ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে। চায়নার চায়না সিডিসি ইনস্টিটিউট এই পরীক্ষার জন্য ORF1ab এবং N জিন সংগ্রহ করে যেখানে জার্মানি RBRP, E এবং N জিন সংগ্রহ করে থাকে। ভিন্ন ভিন্ন কৌশলের মাদ্ধমে PCR পদ্ধতি সম্পন্ন করা হলেও এই পরীক্ষার মূল লক্ষ্য থাকে নমুনার ভাইরাল জেনোমে প্রোটিনের উপস্থিতি আছে কি না তা নিশ্চিত করা।

 

 

 

করোনা ভাইরাস সনাক্তকরণের এই পরীক্ষাটি বেশ সময় সাপেক্ষ। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি দ্রুত ভাইরাসের উপস্থিতি সনাক্ত করা সম্ভব না হয় তাহলে তা আরো বেশি ছড়াতে পারে। তাই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত দেশ যুক্তরাষ্টের Abbott নামক মেডিকেল ডিভাইস তৈরী কোম্পানি Covid-19 পরীক্ষার জন্য নতুন পদ্ধতির আবিষ্কার করেছে এবং তাদের ভাষ্যমতে, এই পদ্ধতির মাদ্ধমে ৫ – ১৫ মিনিটের মধ্যে ভাইরাসের উপস্থিতি শনাক্ত করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে ব্যবহৃত টেস্ট কীট আকারে ছোট হওয়ায় এই পরীক্ষা যে কোনো জায়গায় করা সম্ভব। এপ্রিলের ১ তারিখ থেকে দেশটিতে প্রতিদিন 50 হাজার মানুষকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

 

এই পদ্ধতিতে রোগীর নাক বা মুখ থেকে নমুনা সংগ্রহের সাথে সাথে তা পরীক্ষা করার যন্ত্রে দেওয়া হচ্ছে এবং ১৫ মিনিটের মধ্যে জানা যাচ্ছে ভাইরাসের উপস্থিতি আছে কি না। এই যন্ত্রের কারণে এখন অনেক সময় ধরে অপেক্ষা করতে হচ্ছে না পাশাপাশি এটি ভাইরাস সম্পর্কে সম্পূর্ণ নির্ভুল তথ্য দিচ্ছে কিন্তু আগে এতটা নির্ভুল তথ্য পাওয়া যেত না। আগে নমুনা সংগ্রহের পর ৫ দিনের মতো সময় লাগতো পরীক্ষার ফলাফল জানার জন্য, পরবর্তীতে তা ৪৫ মিনিটের মধ্যে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয় বায়োটেকনোলজি কোম্পানি সেফেইড। সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্র তাদের নতুন পদ্ধতির মাদ্ধমে জানায় ৫ মিনিটের মধ্যেই এই ভাইরাস শনাক্ত করা সম্ভব। PCR পদ্ধতির মতো এই পদ্ধতিও নমুনাতে ভাইরাস জেনোমে প্রোটিনের উপস্থিতি আছে কি না তা পরীক্ষা করে। কিন্তু আগে PCP পদ্ধতিতে যেখানে নমুনা অনেক উচ্চ তাপে তাপ পরিবর্তনের মাদ্ধমে পরীক্ষা করা হতো, সেখানে বর্তমান পদ্ধতিতে একটি নির্দিষ্ট তাপে করা হয় ফলে ছোট ডিভাইস এর মাদ্ধমে পরীক্ষাটি করা যায়।

leave your comment