For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
এইচ এস সি পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতি

এইচ এস সি পরীক্ষার পূর্বপ্রস্তুতি

 

ছাত্র জীবনে সবথেকে ভয়ংকর নাম হলো পরীক্ষা, ছাত্রজীবন মধুর মনে হতো যদি পরীক্ষা না থাকতো। কিন্তু পরীক্ষা হলো নিজেকে প্রমান করার একটা উপায়। পরীক্ষার সময় আমরা নিজেকে যেমন ভাবে উপস্থাপন করতে পারবো তার মাধ্যমেই আমাদের মেধা যাচাই হবে। তাই পরীক্ষাকে মেনে নিতে হবে আর পরীক্ষা ভয়কে জয় করতে হবে। সামনেই এইচ এস সি পরীক্ষা, পরীক্ষার আগের এই অল্প সময়টা কাজে লাগানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা আজকে পরীক্ষার আগের এই সময়টা কিভাবে সঠিক পদ্ধতিতে কাজে লাগানো যায় তা নিজে কথা বলবো।


১। প্ল্যান তৈরী করা: প্ল্যান ছাড়া লক্ষ্য হলো শুধুমাত্র একটা স্বপ্ন বা ইচ্ছা যা পূরণ করা কষ্টের। কিন্তু প্ল্যান করে কাজ করা মানে নিজের লক্ষ্য পূরণের জন্য ধাপে ধাপে আগানো যা সফলতার জন্য বেশ প্রয়োজনীয়। এইচ এস সি পরীক্ষার আগেই উচিৎ নিৰ্দ্দিষ্ট একটা প্ল্যান করা যা শুধু পড়াশুনার জন্য নয় বরং পরীক্ষার আগে পর্যন্ত সম্পূর্ণ জীবনযাপনের জন্য প্রযোজ্য হবে। প্রথমেই নিজের সুবিধা অনুযায়ী নিজের কাজগুলোকে ভাগ করে নিতে হবে। কোন কাজগুলো বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা ঠিক করে সেই অনুযায়ী প্ল্যান করতে হবে। যেমন কোনো সাবজেক্ট পড়া শুরু করার আগেই ওই সাবজেক্ট পড়ার জন্য প্রয়োজনীয় যা যা লাগবে তা হাতের কাছে আছে কি না তা নিশ্চিত করতে হবে। পড়া শুরু করার পর যদি নোট, খাতা, কলম খুঁজতেই সময় চলে যায় তাহলে তা সময় নষ্টের কারণ হবে। তাই প্ল্যান আগেই করে নিতে হবে যেন পড়ার সময় অন্য কিছুতে সময় নষ্ট না হয়। এই ভাবে সব বেপারেই প্ল্যান করে নেওয়া উচিত যেমন কোন সাবজেক্ট আগেই শেষ করতে হবে কোনটি পরে শেষ করলেও সমস্যা নেই তা খুঁজে বের করে সেই অনুযায়ী পড়া শুরু করতে হবে। প্রয়োজনীয় কাজগুলোর একটা লিস্ট করে সেই অনুযায়ী কাজ শেষ করতে পারলে সফলতা দ্রুত পাওয়া যাবে।

 

 

 

 

 

২। সময় ভাগ করে নেওয়া: একটা সুন্দর রুটিন জীবনে সবকিছুতে একটা সামঞ্জস্য নিয়ে আসে। পরীক্ষার আগেই রুটিন তৈরী করা একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ, যাতে নিজের কাজগুলোকে একটা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করার প্রবণতা তৈরী হয়। পরীক্ষার আগেই কোন সাবজেক্টে কত টুকু সময় দিতে হবে সেই অনুযায়ী একটা রুটিন তৈরী করা উচিত। কঠিন সাবজেক্টগুলোর বা যেই সাবজেক্টগুলো পড়া বেশি দরকার তার জন্য বেশি সময় বরাদ্দ রেখে রুটিন করা উচিত। একটা সাবজেক্ট শেষ করে তারপর অন্যটি পড়া শুরু করা উচিত, সব কিছু এক সাথে শুরু করলে অবশই কোনো ভালো ফলাফল পাওয়া যাবে না।


৩। নিজের প্রতি বিশ্বাস: পরীক্ষার আগে অনেক ধরণের ভয় কাজ করে যা নিজের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। পরীক্ষকের আগে কম সময় এর মধ্যে প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এক ধরণের মানুষিক চাপ তৈরী হয় যা পড়াশুনার জন্য ক্ষতিকর। এই সময় নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বন্ধুর পড়া শেষ তার মানে আমি পিছিয়ে পড়েছি বা আমার দ্বারা পড়া হবে না এমন চিন্তা করা যাবে না। এই ধরণের চিন্তা নিজেকে শুধু দুর্বলই ভাবায় না সাথে নিজের লক্ষ্য থেকে নিজেকে সরিয়েও দেয়। নিজের উপর সব সময় বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আমি পারবো। প্রয়োজনে নিজের বাড়ির লোকের সাথে বা বদ্ধুদের সাথে কথা বলতে হবে, তাদের সাহায্য নিতে হবে নিজের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার জন্য।


৪। পড়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী: মনোযোগ সহকারে পড়ার জন্য পরিবেশ খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা জিনিস। এমন জায়গায় পড়তে বসা উচিত নয় যেখানে মনোযোগ ক্ষুন্ন হয়। এমন জায়গায় পড়তে বসা যাবে না যেখানে বাড়ির লোকের কথা, টিভির সাউন্ড, গান বাজনা চলতে থাকে। তাই নিজের জন্য উপযুক্ত একটা নিরিবিলি পরিবেশ তৈরী করতে হবে যেখানে সম্পূর্ণ মনোযোগ পড়ার প্রতি থাকবে। পড়ার সময় নিজের ফোন, ল্যাপটপ বা এমন কিছু কাছে রাখা যাবে না যাতে পড়ার সময় মন অন্য দিক এ যেতে পারে। পড়ার সময় এগুলো নিজের থেকে দূরে রাখতে হবে। এছাড়া সুন্দর পরিপাটি করে গুছানো পড়ার টেবিল পড়ার সময় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করে।


৫। নিজেকে সময় দিতে হবে: সামনে পরীক্ষা তাই সব কিছু বাদ দিয়ে সারাদিন রাত শুধু পড়তে হবে, এমন চিন্তা করা পরীক্ষার আগেই মোটেও ঠিক হবে না। পরীক্ষার আগে অবশই অন্য সময় এর থেকে বেশি পড়তে হবে কিন্তু তার মানে এই না যে সব কাজ বাদ দিয়ে শুধু পড়তেই হবে। পড়ার মাঝে নিজের জন্য কিছু সময় রাখতে হবে নিজের মানুষিক প্রশান্তির জন্য। ঘুম বাদ দিয়ে সারাদিন রাত না পরে বরং পর্যাপ্ত পরিমানে ঘুমাতে হবে যাতে পড়ার সময় ঘুম না আসে এবং মনোযোগ দিয়ে পড়া যায়। বেশিক্ষন পড়ার পর একটা বিরতি নিতে হবে যেন ব্রেন একঘেয়ে একটা পরিস্থিতির মধ্যে না পরে। এই সময় গান বা নিজের পছন্দের কোনো কাজ করা যেতে পারে যেন ব্রেন পরবর্তীতে পড়ার সময় পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারে।


৬। মনে রাখার পদ্ধতি: পড়া পড়ার পরে মনে না থাকলে আসলে পড়ার কোনো মূল্য থাকে না। তাই যা পড়লাম তা যেন মনে থেকে সেইভাবে পড়তে হবে। এই জন্য একই পড়া বার বার পড়তে হবে যাতে তা মনে থেকে, এবং পড়ার পাশাপাশি তা লিখতে হবে। কোনো কিছু দশ বার পড়া আর একবার লিখা এক কথা তাই বার বার পড়ার সাথে সাথে লিখতে হবে। এছাড়া মনে রাখার জন্য কোনো কিছুর সাথে মিলিয়ে পড়াটাও বেশ উপকারী যেমন কেমিস্ট্রিতে পর্যায় সারণি মনে রাখার জন্য বিভিন্ন ছড়ার সাহায্য নেওয়া হয়। পড়া শেষ করে তা বারবার রিভাইস করাটা পড়া মনে রাখার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। গুরুত্বপূর্ন পয়েন্টগুলো বারবার পড়তে হবে যেন ভালো মতো মনে থাকে।

 

 


৭। নিজের পরীক্ষা নিতে হবে: প্রতিটা সাবজেক্ট পড়া শেষ হওয়ার পর নিজের একটা পরীক্ষা নিতে হবে। নিজে প্রশ্ন তৈরী করে নিজে উত্তর দিতে হবে। এইচ এস সি পরীক্ষার্থীরা বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করেও নিজের পরীক্ষা নিতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন গুলো খুজে বের করতে হবে। কোনো প্রশ্নের সমাধান না করতে পারলে তার সমাধান খুজতে হবে প্রয়োজনে শিক্ষক বা বন্ধুদের সাহায্য নিতে হবে। এভাবে পরীক্ষা দেওয়ার মাধ্যমে নিজের দুর্বলতাগুলো বের হয়ে আসবে, এবং পরে নিজেকে এই দুর্বলতা গুলো কাটানোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

 


৮। বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না: পরীক্ষার আগে অনেক মানুষ অনেক রকম পরামর্শ দিবে কিন্তু নিজেকে খুজে বের করতে হবে নিজের জন্য কোনটা সবথেকে সঠিক এবং তা বেছে নিতে হবে। অনেক সময় দেখা যায় বন্ধুদের কথায় বা কারো পরামর্শে ছাত্রছাত্রীরা শেষ সময়ে নতুন করে নতুন বই পড়া শুরু করে কিন্তু তা না করে যেই বই এতো দিন পড়া হয়েছে তাই পড়া উচিত। সবকিছু না পড়ে প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো খুজে বের করে তারপর পড়াশুরু করলে পড়া দ্রুত শেষ করা সম্ভব।
এই বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখা যে কোনো পরীক্ষার্থীর সফলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। পরীক্ষায় সফল হওয়ার জন্য শুধু পড়লেই হবে না, অবশ্যই কিছু বিষয় লক্ষ্য রেখে তারপর পড়া শুরু করা উচিত যাতে সাফল্য নিশ্চিত করা যায়। আশা করি এই বিষয় গুলো লক্ষ্য রেখে পড়া শুরু করলে যে কোনো এইচ এস সি পরীক্ষার্থীই একটা ভালো ফলাফল পাবে।

 

leave your comment