For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
ভিয়েতনামের করোনা জয়

ভিয়েতনামের করোনা জয়

 

 

 

প্রায় ৩,৩১,২১০ বর্গ কিলোমিটার আয়তনের এবং ৯৭ মিলিয়নের উপর জনসংখ্যার, একক দলের সমাজতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থার যে দেশটা দূর্বল স্বাস্থ্য ব্যাবস্থা নিয়েও করোনা মোকাবেলায় পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিচ্ছে তার নাম ভিয়েতনাম।
বিগত কয়েক দশকে দেশটা দারিদ্রতা থেকে ঘুরে দাঁড়ানো, বার্ষিক ৭.১% হারে জিডিপি বৃদ্ধি অর্জন সম্ভব করেছে। দেশের ৪৫% মানুষ ২০০২-২০১৮ সালের মধ্যে দারিদ্রসীমার নিচে থেকে বের হয়ে এসেছে। নানা প্রতিবন্ধকতা এখনও যাদের ছেয়ে আছে, সেসব অন্ধকারকে দূরে ছুড়ে ফেলে কিভাবে তারা এত সাফল্যের সাথে করোনা মোকাবেলা করছে?

এখন পর্যন্ত মাত্র ২৭০ জন করোনা আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়েছে এবং মৃত রোগীর সংখ্যা (০) শূণ্য। জ্বি, আপনি ঠিক ই শুনছেন শূণ্য। যেখানে চীন এর করোনা উৎপত্তি স্থল থেকে দশ হাজার কি.মি দূরে হয়েও অনেক বাঘা বাঘা ইউরোপিয়ান দেশ করোনার কাছে ধরাসায়ী, সেখানে চীনের সাথে ১১০০ কি.মি সীমান্ত ভাগাভাগি করেও তারা বীরদর্পে করোনা মোকাবেলার উদাহরণ সৃষ্টি করে ফেলেছে।

 

 

চলুন তাহলে এবার শুনি এ অসাধ্য তারা কিভাবে সাধন করলোঃ


১ম ধাপঃ
(পূর্ব প্রস্তুতির প্রয়োজন অনুধাবন)
চীনে যখন উহানে করোনা প্রকোপ শুরু হলো তখন ই সাবধান হয়ে যায় ভিয়েতনাম সরকার। পরিস্থিতির ভয়াবহতা পূর্বেই আচ করতে পেরে সরকার প্রধান, সরকারের গ্রুত্বপূর্ণ পদের ব্যাক্তিরা, দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রথি-মহারথিরা, সামরিক বাহিনীর কর্ণধাররা জরুরী বৈঠকে বসেন।

 

 

 

 

২য় ধাপঃ
(নিজেদের শক্তি-সামর্থ সম্পর্কে আলোকপাত)
দেশের প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্যে চিকিৎসক মাত্র ৮ জন। বাকি অন্য শহর তো বাদ ই দিলাম, শুধু হু চি মিন শহরের ৮ লাখ মানুষের জন্যে আই সি ইউ বেড মাত্র ৯০০ টি! এছাড়া লাখ লাখ কিট মজুদ করার মত অবস্থাও তাদের নেই। এসব বিষয় নিয়ে শহরের মেয়র নুয়্যুয়েন থান ফং এর সাথেও পর্যালোচনা করেন তারা।

 

 

৩য় ধাপঃ
(সরকারি আদেশ জারি ও বাস্তবায়ন)
>লুনার লিপ ইয়ারের পর পর ই চীনের করোনা পরিস্থিতি উত্তরোত্তর বৃদ্ধি দেখে স্কুল-কলেজ সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
>চীন থেকে আগত সকল ফ্লাইট বাসা-যাওয়া বন্ধ করা হয়।
>শেষ ফ্লাইটে ওখান থেকে আসা সকল মানুষজনকে বাধ্যতামূলক ১৪-১৫ দিনের কোয়ারেন্টিন এ পাঠানো হয়।
>করোনা আক্রান্ত ব্যাক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যাক্তি ই শুধু না, বরং ৩য়,৪র্থ ধাপেও যাদের কাছে আসার শঙ্কা আছে বলে ধারণা করা হয় তাদের ও বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়।
>দেশে ৬ষ্ঠ ব্যাক্তি আক্রান্ত নিশ্চিত হলে পুরো দেশ লকডাউনের নির্দেশ দেয়া হয়।
>দেশের জন্যে, দেশের মানুষের জন্যে ঝাপিয়ে পরেন সরকার প্রধান থেকে কর্মচারী, ডাক্টার থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী সবাই।

 

৪র্থ ধাপঃ
(পুলিশের পাশাপাশি মিলিটারি ও গুপ্তচর এর ব্যবহার)

পুলিশ, সিকিউরিটি অফিসিয়াল সহ লক ডাউন নজরদারিতে অতিরিক্তভাবে দায়িত্ব দেয়া হয় মিলিটারি বাহিনী এবং সরকারি গুপ্তচরদের। পুরো ভিয়েতনামের প্রতি পাড়া-মহল্লা-শহরে তাদের নজরদারিতে লকডাউন ছিল শতভাগ সফল।

 

 

৫ম ধাপঃ
(জনগণের আনুগত্যতা)

দেশের প্রতিটি মানুষ , বড় বড় ব্যাবসায়ীরা সবাই অত্যন্ত ধৈর্য্যের এবং আনুগত্যের সাথে সরকারের দেয়া সকল আদেশ মান্য করে চলছেন।

 



বর্তমান করোনা অবস্থাঃ



শেষ চারদিনে নতুন করে আর কোনো করোনা রোগী সণাক্ত হয়নি। সর্বমোট আক্রান্ত ২৭০ জন। আরোগ্য লাভ করেছেন ২২৫ জন।

দেশের ব্যবসায়ী খাতের ও অর্থনীতির বিশাল ধ্বস সামলাতে ১১১ মিলিয়ন ডলারের প্রমোদনার ব্যবস্থা করেছে সরকার। স্থাপন করা হয়েছে চালের এটিএম বুথ যা এক নজির সৃষ্টি করেছে।
এখন পর্যন্ত ১৪,৬০০ টেস্ট বিনামূল্যে করা হয়েছে।

তারা এখানেই থেমে নেই বরং,
>৫,৫০,০০০ টি মাস্ক পাঠিয়েছে ইউরোপে।
>যে দেশ তাদের উপহার দিয়েছিল নাপাম বোমা, তাদের দেশে পাঠিয়েছে ৪,৪০,০০০ টি পিপিই।
> পি সি আর মেশিন পাঠিয়েছে লাওস এবং কম্বোডিয়ায়।
>টেস্টিং কিট পাঠিয়েছে ইন্দোনেশিয়ায়।

 

এত পরিকল্পিত লড়াই কে ‘’WHO’’ এবং ‘’World Economy Forum’’ কুর্নিশ জানিয়েছে।

দেশের মানুষেরা এখন সরকারের নির্দেশের অপেক্ষায় খুব দ্রুতই তাদের সকল স্থানের জনজীবন স্বাভাবিক করে দেয়া হবে। সরকারের ডাকে সাড়া দিয়ে তারা যে যেভাবে পারছেন সরকারকে সাহায্য করে যাচ্ছেন।

এই ভিয়েতনাম আজ বিশ্বের অন্য সকল দেশের কাছে করোনা যুদ্ধের রোল মডেল।

 

 

 

 

 

The post is wriiten by Akash Manzur. He is a Civil engineer from CUET.

leave your comment