For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ কেন জরুরি

কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ কেন জরুরি

 

রেগুলার কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ বা একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি এক্সট্রা যে অ্যাকটিভিটিজ নিজের পছন্দে বা নিজের ইচ্ছায় করা হয় তাই মূলত এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ | ছাত্র থাকা অবস্থায় স্কুল, কলেজ বা ইউনিভার্সিটির পড়াশুনার পাশাপাশি অন্য যে কোনো কাজ করাকেই মূলত এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ বলে। নিজের জীবনকে শুধুমাত্র পাঠ্যবইয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে নিজেকে বাইরের জগতের সাথে পরিচয় করানোর একটা অন্যতম উপায় হলো কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ এ অংশগ্রহণ করা।

 

বিভিন্ন ধরণের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ এর সাথে নিজেকে যুক্ত করা যায়, কিন্তু সাধারণত নিজের যে বিষয়ে আগ্রহ জন্মে তাই করা উচিৎ। ছাত্র অবস্থায় বিভিন্ন ধরণের এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ এর মধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য অ্যাকটিভিটিজ হলো –

  • প্রাতিষ্ঠানিক ক্লাবের সাথে যুক্ত হওয়া
  • বিতর্ক
  • বিভিন্ন স্পোর্টসে অংশগ্রহণ করা( ক্রিকেট, ফুটবল, ব্যাটমিন্টন ইত্যাদি)
  • সাংস্কৃতিক সম্পর্কৃত অনুষ্ঠানে বা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ ( গান, নাচ, কবিতা ইত্যাদি)
  • সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ(গাছ লাগানো,পরিবেশ রক্ষার কাজ)
  • সৃজনশীল কাজ করা ( যেমন ডিজাইনিং, ছবি আঁকা ইত্যাদি)
  • অনলাইন কোর্সে অংশগ্রহণ (যেমন উদেমি কোর্স )
  • প্রতিযোগিতামূলক প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ(ম্যাথ অলেম্পিয়ার্ড, প্রোগ্রামিং কন্টেস্ট, গেমিং কম্পিটিশন ইত্যাদি)
  •  

নিজের আগ্রহে নিজের পছন্দের কাজটি করার মাধ্যমে নিজের শারীরিক ও মানুষিক প্রশান্তির পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিত্বেরও উন্নতি ঘটে। ছাত্রবস্থায় এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ এর সাথে যুক্ত হওয়ার রয়েছে অনেক সুবিধা, তার মধ্যে কিছু সুবিধার কথা নিয়ে আমরা আজকে আলোচনা করবো।

 

১। আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে:

আত্মবিশ্বাস হলো এমন এক অস্ত্র যা নিজেকে সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যেতে পারে। কিন্তু অনেকের মধ্যেই এই আত্মবিশ্বাস থেকে না। অনেকে দেখা যায় অনেক কিছু করতে পারে বা অনেক লুকানো প্রতিভা থাকে তাদের মধ্যে কিন্তু নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস এর অভাবে কখনো নিজেকে ফুটিয়ে তুলতে পারে না। এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ যে কোনো মানুষের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস বারিয়ে তুলতে পারে। মানুষ যখন বিভিন্ন ক্লাব বা অ্যাকটিভিটিজ এর মধ্যে যুক্ত হয় তখন তাকে অনেক ধরণের কাজ করতে হয় যা তার গন্ডি থেকে নিজেকে বের করে আনতে সাহায্য করে। অনেকের সামনে যখন ধীরে ধীরে নিজেকে ফুটিয়ে তোলা যায় তখন নিজের আত্মবিশ্বাস এমনিতেই বাড়তে শুরু করে। নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস বাড়লে যে কোনো কাজ করে সহজ হয়ে যায়।

 

২। সামাজিক সম্পর্ক দৃঢ় করে:

 স্কুল ,কলেজ বা ইউনিভার্সিটি জীবনে যদি আমরা ক্লাব এর সাথে যুক্ত হই তাহলে এর মাধ্যমে আমাদের বিভিন্ন মানুষের সাথে পরিচয় হবে। ক্লাব এ বিভিন্ন সময় একসাথে অনেক রকম কাজ করার মাধ্যমে নিজেদের মধ্যে ভাল সম্পর্ক গড়ে উঠতে পারে যা পরবর্তীতে কাজে লাগতে পারে। কর্মজীবনে তারাই বেশি সফল হতে পারে যাদের নেটওয়ার্কিং ভালো থাকে অর্থাৎ যাদের পরিচিত মানুষের সংখ্যা বেশি। তাই ছাত্রজীবনে ক্লাব এর মাধ্মে বা এক্সট্রা কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ এর সাথে যুক্ত হওয়ার মাধ্মে ভালো নেটওয়ার্কিং তৈরী করা যায়। এক সাথে কাজ করার মাধ্যমে জানা যায় কে কোন কাজে দক্ষ, পরে কখনো কোনো প্রয়োজনে সেই মানুষটার সাহায্য নেওয়া যায়।

 

৩। নেতৃত্বদানের প্রবণতা সমৃদ্ধ হয়:

নেতৃত্ব সেই দিতে পারে যে অন্যকে কাজ করতে উৎসাহিত করতে পারে এবং সঠিক নির্দেশনায় কাজ করাতে ও করতে পারে। জীবনের যে কোনো পর্যায়ে নেতৃত্বদানের গুণাবলীর প্রয়োজন রয়েছে। স্কুল জীবনে বিভিন্ন দলবদ্ধ কাজের নেতৃত্ব দানের দ্বারা এই ব্যক্তিত্ব গড়ে উঠে।

 

৪। শক্তিশালী সিভি তৈরী করতে সাহায্য করে:

চাকরির ক্ষেত্রে সাধারণত সব থেকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয় পূর্ব অভিজ্ঞতাকে। এ জন্য নতুনদের বা যাদের চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই তাদের জন্য চাকরি পাওয়া কঠিন হয়ে পরে। কিন্তু অনেকেক্ষেত্রেই দেখা যায় যাদের চাকরির পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই তাদের কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অর্থাৎ কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ আসলে নিজের অভিজ্ঞতার ভান্ডারকে সমৃদ্ধ করে, যা একজন নবীন চাকরি সন্ধানীর জন্য বেশ উপকারী হয়ে উঠতে পারে।

 

৫। মনকে সতেজ প্রৎফুল্ল করে:

অলস মস্তিস্ক শয়তানের কারখানা। তাই নিজেকে সব সময় ভালো কাজে ব্যস্ত রাখা উচিত। বিভিন্ন ধরণের সামাজিক ও সাস্কৃতিক অথবা সৃজনশীল কাজের মধ্যে থাকলে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নিজেকে অনেক ধরণের খারাপ কাজ ও খারাপ সঙ্গ থেকেও বিরত রাখা যায়। এছাড়া নিজের পছন্দের কাজ করার মাধ্যমে মন ভালো রাখা যায়, কাজে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। মনকে সতেজ ও প্রৎফুল্ল রাখতে তাই নিজেকে নিজের পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ এ যুক্ত করা উচিৎ।

৬। নতুন নতুন বিষয়ে জ্ঞানবৃদ্ধি:

যারা বিতর্ক করে তাদের অনেক বিষয় জানা থাকতে হয়। ইন্টারনেট এখন জ্ঞান বৃদ্ধির একটা অনেক বড় মাধ্যম। এছাড়া যারা সিনিয়র বিতার্কিক আছে তাদের থেকেও অনেক কিছু জানা যায়।

আবার যারা গান, নাচ, কবিতা আবৃতি করে তাদের শুধু এই বিষয়ে সীমাবদ্ধ না থেকে কখনো হয়তো একটা অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব পালন করতে হয়। তখন তাদের জানতে হয় কিভাবে একটা সফল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। এভাবে তাদের নতুন কিছু শেখা বা জানা হয়।

এভাবে নতুন নতুন জিনিস জানার সম্ভবনা তখনি পাওয়া যায় যখন নিজেকে নতুন কোনো কাজে, নতুন কোনো পরিবেশে যুক্ত করা হয়, কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ এক্ষেত্রে নতুন সম্ভবনার সৃষ্টি করতে পারে।

 

7কর্মজীবনের পূর্ব অভিজ্ঞতা অর্জন:

 ছাত্রজীবনে ক্লাব এ যুক্ত হওয়া মানে হলো এক ধরণের ছোট পরিসরের কর্মজীবন শুরু করা যেখানে কাজের পাশাপাশি আনন্দও পাওয়া যায়। একটা ক্লাব এ নানান ধরণের কাজের মধ্যে দায়িত্বশীলতা, সঠিক ভাবে কাজ সম্পন্ন করা বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর এই গুনাগুনগুলোই পরবর্তীতে কর্মজীবনে কাজে লাগে। ছাত্র থাকা অবস্থা এই গুনগুলো অর্জন করা সম্ভব হলে কর্ম জীবন অনেক সহজ হয়ে যায়।

 

৮। ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে:

সহশিক্ষা কার্যক্রম বা কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ ছাত্রবস্থায় সুন্দর ব্যক্তিত্ব গঠনে সাহায্য করে। নানান ধরণের কাজে অংশগ্রহণের মাধ্যমে এ সময় ছাত্রদের মধ্যে জটিল সমস্যা সমাধান এর প্রবণতা তৈরী হয়। অনেকের সাথে একসাথে কাজ করার মাধ্যমে একে অপরকে সাহায্য করার মানুষিকতা গড়ে উঠে। দায়িত্বশীলতার সাথে কাজ করাও ছাত্ররা এই সময়টাতেই শিখতে পারে। নতুন নতুন আইডিয়া দেওয়ার মাধ্যমে নিজের সৃজনশীলতার মূল্যায়ণ করা একটি সুন্দর ব্যক্তিত্ব গঠনে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

সহশিক্ষা ক্রিয়াকলাপ বা কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের শেখার, তৈরি করার এবং করার আনন্দ উপভোগ করার জন্য বাস্তব-বিশ্বের সুযোগগুলিকে সীমাহীন সম্ভবনার মাধ্যমে উপস্থাপন করে। এই ক্রিয়াকলাপগুলি ছাত্রদের একাডেমিক পাঠ্যক্রমের বাইরে নিয়ে যায় এবং ছাত্র থাকা অবস্থার দিনগুলিকে পুরোপুরি অর্থপূর্ণ উপায়ে সাজিয়ে দিয়ে ছাত্রজীবনের আনন্দকে বাড়িয়ে তোলে। কিন্তু এই অ্যাকটিভিটিজ অবশ্যই একাডেমিক পড়াশুনার পাশাপাশি করতে হবে। কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ এতটাও গুরুত্ব দেওয়া যাবে না যেন রেগুলার পড়াশুনার কোনো ক্ষতি হয়। তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে নিজের পছন্দের কাজটি বেছে নিতে হবে। আর এ ক্ষেত্রে অভিবাবকদেরও সচেতন হতে হবে এবং সন্তানকে সঠিক পথটি বেছে নিতে সাহায্য ও উৎসাহিত করতে হবে।

leave your comment