For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
ব্র‍্যান্ডিং এবং এডভার্টাইজিং এর কৌশল সম্পর্কে জানুন

ব্র‍্যান্ডিং এবং এডভার্টাইজিং এর কৌশল সম্পর্কে জানুন

ব্র‍্যান্ডিং মানে “কমোডিটি উইথ আইডেন্টিটি”। এখানে কমোডিটি হচ্ছে পণ্য, আর আইডেন্টিটি হচ্ছে পরিচিতি। কাস্টমারের কাছে একটি পণ্যের ইউনিক বা অনন্য নাম এবং পরিচিতি তুলে ধরাকে ব্র্যান্ডিং বলা হয়। এক কথায় বলতে গেলে ব্র্যান্ডিং হচ্ছে ক্রেতার কাছে পণ্যের মান ও সেবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া। ব্র্যান্ডিং এমন একটি মানদন্ড যা কোন প্রতিষ্ঠানের পণ্য বা সেবার মান নির্দেশ করে। একজন ক্রেতা বা গ্রাহক মূলত ব্র্যান্ডিংয়ে প্রভাবিত হয়েই বিশ্বাস ও আস্থা নিয়ে কোন পণ্য বা সেবা গ্রহণ করে। আকর্ষণীয় লোগো, ওয়েবসাইট, ব্যানার, বিলবোর্ড, লোগো সম্বলিত মগ অথবা টি শার্ট কখনোই ব্রান্ডিং হতে পারে না, তবে এগুলো শুধুমাত্র কোম্পানিকে ব্র্যান্ড হতে সহযোগিতা করবে, যেটাকে বলা হয় ব্র্যান্ড আইডেন্টিটি। ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে বড় কোম্পানি গুলো আরোও বড় হয়। ছোট কোম্পানিগুলোর নিজের পরিচয় তুলে ধরার জন্য ব্র্যান্ডিং প্রয়োজন। ব্র্যান্ডিং সফল ব্যবসার মূল হাতিয়ার। ব্যবসার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে ক্রেতার কাছে তার কাঙ্খিত পণ্য বা গ্রাহকে মানসম্মত সেবা পৌছে দেওয়া।

একটি কোম্পানি একজন নিয়মিত ক্রেতা তৈরি করতে পারবেন যখন তিনি।সেজন্য ব্র্যান্ডিং করার কিছু কৌশল উল্লেখ করা হলো-

ব্যবসার ধরণ নির্দিষ্ট করুন

প্রথমেই আপনাকে ঠিক করে নিতে হবে আপনি কিসের ব্যবসা করবেন, কি বিক্রি করবেন। আপনি কি একটি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রি করবেন? নাকি কয়েকধরনের পণ্য বিক্রি করবেন? যদি আপনি নির্দিষ্ট ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রি করতে চান তাহলে সেটার ব্র্যান্ডিং এক রকম হবে, আবার বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য বিক্রি করতে চাইলে সেটার ব্র্যান্ডিং হবে ভিন্ন। ই-কমার্স কোম্পানির ব্র্যান্ডিং দুইভাবে করা হয়। ১/ যে পণ্য বিক্রি করবেন সেটার ব্র্যান্ডিং করুন অথবা ২, আপনার অনলাইন শপের ব্র্যান্ডিং করুন। আপনি যদি আপনার পণ্যের ব্র্যান্ডিং করতে চান তাহলে আপনার পণ্যগুলো একই ক্যাটাগরির হলে ভাল হয়। আর আপনার যদি বিভিন্ন ক্যাটাগরির পণ্য থাকে সেক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পণ্যের ব্র্যান্ডিং না করে আপনার অনলাইন শপটিকে ব্র্যান্ড হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করুন।

৬টি সেরা ওপেন সোর্স এবং ফ্রী SMS অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপ

ফ্রি এবং নিরাপদ টেক্সট মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন, অনেকের কাছে অজানা। কিন্তু ওপেন সোর্স Text Messaging অ্যাপ্লিকেশনগুলো এ ধারণাকে সত্য প্রমাণ করেছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে আমাদেরকে টেক্সট মেসেজ

Read More »

বিটকয়েন এর অসাধারণ কয়েকটি ব্লকচেইন এক্সপ্লোরার

বিটকয়েন ব্লকচেইন এক্সপ্লোরার কি? বিটকয়েন ব্লকচেইন এক্সপ্লোরার এর মাধ্যমে ট্রান্সজেক্টশন, ওয়ালেট ডিটেইলস এবং লেজার তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্লকসমূহ দেখার উপায়। এক কথায়, বিটকয়েন ব্লকচেইন

Read More »

উপযুক্ত নাম নির্ধারণ

ব্র্যান্ডিং করতে হলে প্রথমেই একটি উপযুক্ত নাম বাছাই করতে হবে। এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং এক্ষেত্রে অনেকেই ভুল করেন। আপনার কোম্পানির নামটি অবশ্যই পণ্য বা সেবার সাথে মানাসই হতে হবে। আপনি যদি জামাকাপড় বিক্রি করার সাইটের নাম চাল-ডাল এর মত রাখেন তাহলে সেটা কখনই উপযুক্ত হবে না। বাংলাদেশের অনলাইন শপের মধ্যে বেশীরভাগ শপের নামই বাংলা শব্দের নাম আর তাই নতুনরাও তাদের অনলাইন শপের জন্য বাংলা নাম নির্বাচন করে। তবে কিছু কিছু বিজনেস এর ক্ষেত্রে বাংলা নাম কখনই মানানসই নয়। আপনি যদি দেশীয় পণ্য, হস্তশিল্প ইত্যাদি বিক্রি করেন তাহলে বাংলা নাম দেওয়া ভাল, কারণ এক্ষেত্রে তা প্রয়োজনীয় এবং মানানসই। কিন্তু আপনি বিক্রি করবেন খুবই বিলাসবহুল পণ্য যেমন, দামী ঘড়ি, পারফিউম, মোবাইল, পোশাক — এক্ষেত্রে কখনোই বাংলা নাম দেয়া উচিত হবে না আর যদি দিতেই চান তাহলে এমন বাংলা নাম নির্বাচন করুন যেটায় বিলাসী একটা ভাব আছে। আপনার অনলাইন শপের জন্য অবশ্যই এমন নাম বাছাই করতে হবে যে নামের ডোমেইন নেম খালি আছে অথবা কিনতে পারবেন। সাধারণত ডট কম এর বেশীরভাগ ডোমেইনই আপনি খালি পাবেন না, এক্ষেত্রে নামটাকে একটু পরিবরতন করে, নামের বানান পরিবরতন করে, সাথে বিডি লাগিয়ে চেষ্টা করে দেখতে পারেন। অথবা এমন নাম বাছাই করতে পারেন যার নির্দিষ্ট অর্থ নেই, যেটা ইউনিক, অপরিচিত, সহজে উচ্চারনযোগ্য। এই ধরণের ইউনিক নাম ব্র্যান্ডিং এর জন্য খুবই উপযোগী।

স্লোগান তৈরি করা

নাম বাছাই করার পরের ধাপ হচ্ছে, “স্লোগান”  তৈরি করা যা আপনার সেবা, মান ও বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে কাস্টোমার ধারণা পাবে। যেমন নাইকি ব্র্যান্ড এর স্লোগান হচ্ছে “ডু ইট”, নোকিয়া ব্র্যান্ডের স্লোগান “কানেক্টিং পিপল”। আপনার ব্যবসার জন্য এমন একটা উপযুক্ত স্লোগান নির্বাচন করুন।

লোগো তৈরি করা

মানানসই ও আকর্ষণীয় লোগো তৈরি করুন। এমন লোগো তৈরি করুন যেটা সহজেই যেকোন মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। লোগো খুব বেশী জটিল হলেই আকর্ষণীয় হবে এমন কোন কথা নেই। সম্ভব হলে প্রফেশনাল কাউকে দিয়ে লোগো ডিজাইন করুন, কারণ ব্র্যান্ডিং এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হচ্ছে লোগো।

ট্রেড লাইসেন্স প্রাপ্তির চেষ্টা

এরপর চেষ্টা করুন আপনার ব্র্যান্ড এর নাম বা লোগো ট্রেডমার্ক এবং রেজিস্টার্ড করে নিতে। এখন সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে সামর্থ্য হলে চেষ্টা করুন।

ওয়েবসাইট তৈরি

অনলাইন শপের জন্য পারফেক্ট ওয়েবসাইট খুবই জরুরী। ওয়েবসাইটের ডিজাইন অবশ্যই ব্র্যান্ড উপযুক্ত হতে হবে। অন্যকে দেখে ডিজাইন নকল করা যাবে না।

অনন্য উপায়ে পণ্যের মান উপস্থাপন

আপনার সেবা বা পণ্যকে বাজারের অন্যান্য পণ্য বা সেবা থেকে আলাদা ও মৌলিক উপায়ে উপস্থাপন করুন। এজন্য প্রয়োজন প্রচুর মার্কেট রিসার্চ। ক্রেতার চাহিদা ও ইচ্ছা অনুযায়ী পণ্য বা সেবা দিতে পারলে ব্র্যান্ডিং এর মূল কাজ হয়ে যাবে।

নিজেদেরকে সুন্দরভাবে তুলে ধরা

মানুষের ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায় তার চরিত্র, আচার-আচরণ, পোশাক-পরিচ্ছেদ, মূল্যবোধ ইত্যাদির মাধ্যমে। সুন্দর ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হয়ে মানুষ তার প্রতি আস্থাশীল হয়। সকলের প্রিয়ভাজন হন।

আকর্ষণীয় প্যাকেজিং

অবশ্যই ভাল প্যাকেজিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। সাদ্ধ অনুযায়ী যতটা সম্ভব সুন্দর এবং আকর্ষণীয় প্যাকেজিং এর ব্যবস্থা করতে হবে। এটা না থাকলে আপনি সস্তা ব্র্যান্ড হয়ে কোন সুফল পাবেন না। প্যাকেজিংয়ে কোম্পানির নাম, লোগো এবং ওয়েবসাইটের ডিজাইনের রঙের সাথে মিলিয়ে প্যাকেজিংয়ের ডিজাইন করুন।

ডেলিভারি সিস্টেম

যদি সম্ভব হয় প্রফেশনাল ডেলিভারি কোম্পানির মাধ্যমে আপনার ডেলিভারি দিন। কারণ লোকাল ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর ডেলিভারি বয়রা কাস্টোমারের কাছে চা-নাস্তা করার টাকা চায় বলে অনেক প্রমান আছে। এটি আপনার ব্র্যান্ড ভ্যালুকে ধুলোয় মিশিয়ে দেবার জন্য যথেষ্ট। তবে সবচেয়ে ভাল ডেলিভারি কোম্পানিগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে Delivery Tiger. তাদের ফেসবুক পেইজ https://www.facebook.com/deliverytigerbd

অন্যান্য

কাস্টমার কেয়ার সার্ভিস অবশ্যই ভাল রাখবেন যাতে কোন কাস্টোমারই যেন আপনার উপর কোন কারনে বিরক্ত বা অসন্তুষ্ট না হয়। কাস্টোমারের প্রোডাক্ট পছন্দ না হলে ভদ্রতার সাথে রিটার্নের ব্যবস্থা করুন। যদি রিটার্নের সাপোর্ট পায়, তাহলে পরবর্তীতে আপনার কাছ থেকে নিশ্চিন্তে শপিং করবে। বিশেষ বিশেষ উপলক্ষগুলোতে কাস্টমারকে ছোটখাট উপহার দেবার চেষ্টা করুন, এতে করে সে আপনার কোম্পানিকে নিজের সাথে সম্পর্কিত মনে করবে। এছাড়া কোম্পানির প্রোফাইল, ভিজিটিং কার্ড, সিল, প্যাড, রশিদ সব ক্ষেত্রেই ইউনিক নজরকাড়া ডিজাইন রাখুন যাতে সব কিছুতেই আপনার লোগো ও নাম ছড়িয়ে যায়।

 

বিজ্ঞাপনের কৌশল

বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মূলত ব্যবসার প্রচার-প্রচারণা চালানো হয়। ব্র্যান্ডিং এর সঙ্গে বিজ্ঞাপনের বিষয়টি অতপ্রোতভাবে জড়িত। বেশ কিছু কার্যকরী বিজ্ঞাপনের কৌশল উল্লেখ করা হলো-

• আপনি যেকোনো ম্যাগাজিনে বিজ্ঞাপন দিন এমনভাবে যে বিজ্ঞাপনের একটি কুপন অংশ থাকবে তা যিনি সাথে নিয়ে আসবেন তাকে আপনি একটা ছাড় দেবেন।

•          বাস বা লঞ্চ, মেলা, সিনেমা হল ইত্যাদির টিকেট ছেপে দিতে পারেন। শর্ত হলো টিকেটে বিজ্ঞাপন থাকবে।

•          এমন একটা পন্য বিক্রি করুন যাতে ব্যবসা এবং বিজ্ঞাপন যেন দুটোই হয়। যেমন শপিং ব্যাগ, খাতা যাতে অন্তত একটা অংশে বিজ্ঞাপন দেয়া হবে।

•          এসএমএসের মাধ্যমে অফার দিন। যেমনঃ এই এসএমএস দেখালে আপনি ৫% ছাড় পাবেন অথবা আপনার অর্ডার নিশ্চিত করতে ফিরতি এসএমএস দিন। আপনি বিশেষ ছাড় পাবেন।

•          পরোক্ষ ওয়েব মার্কেটিং করুন। ধরুন আপনি অনলাইনে ঘড়ির ব্যবসা করবেন। আপনার নিজস্ব অফিস, শো-রুম, ওয়েবসাইট, ফেইসবুক পেইজ আছে। সেখানে কিন্তু তারাই আসবে যারা আপনার পন্যটি কিনতে চান। কিন্তু অন্য জায়গা থেকে ক্রেতা আনার জন্য ঘড়ির উপর তথ্যবহুল কোন আর্টিকেল বা ওয়েবসাইট একটি উপায় হতে পারে। ঘড়ি কিনতে আগ্রহী কোন ক্রেতা সেখানে বিজ্ঞাপন দেখে আপনাকে পেয়ে যাবে।

•          আপনি যে পন্য নিয়ে ব্যবসা করছেন সে সম্পর্কে একটি ডকুমেন্টারী ভিডিও আকারে ইউটিউবে ছাড়ুন।

•          ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয়ে পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করুন বা ব্লগ লিখুন। এরপর এই লেখাগুলো এসইও করে পরোক্ষ প্রচারণার কাজ করুন।

•          অবৈতনিক প্রতিনিধি নিয়োগ দিতে পারেন কমিশনের ভিত্তিতে।

•          বিভিন্ন জায়গায় সরাসরি বিজ্ঞাপন দিতে পারেন।

•          ফেইসবুকে একটি ব্যবসাসংক্রান্ত এডভাইস পেইজ খুলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে ব্যবসার প্রসার ঘটান।

•          পন্য ডেলিভারির পর কাস্টমারের সন্তুষ্টি সাক্ষাৎকার নিয়ে কয়েকটি ভিডিও ছাড়ুন।

•          বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্পন্সর করার মাধ্যমে ব্যবসার প্রচার করুন।

•          আপনি আপনার ব্যবসায়িক বিষয়ে প্রশিক্ষনের মাধমে তা ছড়িয়ে দিতে পারেন। যেমন ধরুন আপনি অনলাইনে স্কুল মানেজমেন্ট সফটওয়ার সেল করেন। আপনার মার্কেটিং এর জন্য আপনি সারাদেশের বিভিন্ন স্কুলের ১০০ একাউন্টস কর্মকর্তাকে যদি ফ্রি অপারেটিং প্রশিক্ষণ দিতে পারেন তাহলে পন্য বিক্রয় অনেকাংশে সহজ হয়ে যাবে।

•          নগদ টাকা না দিয়ে সার্ভিস দেওয়ার মাধ্যমে কো-স্পন্সর হোন। যেমন ধরুন আপনি ইলেট্রনিক গেজেট সেল করেন। সেক্ষেত্রে আপনি কোন জনপ্রিয় প্রতিযোগিতার সেরা ২০ জনকে একটি করে গেজেট দেবেন। শর্ত হলো প্রতিটি কাগজপত্রে গেজেট স্পন্সর বা কো স্পন্সর হিসেবে আপনার নাম লোগে স্থান পাবে। এতেও আপনার ব্র্যান্ডিং হবে।

Read More: ইউটিউব মার্কেটিং কি এবং কিভাবে করবেন?

leave your comment