For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
শূণ্য  থেকেই  হোক বিসিএস

শূণ্য থেকেই হোক বিসিএস

প্রতিটি মানুষের জন্য অন্যতম বড় একটি ধাপ হলো পেশা নির্বাচন করা। হতে পারে আপনি স্নাতক প্রথম,দ্বিতীয়,তৃতীয় কিংবা চতুর্থ বর্ষে পড়ছেন। স্বপ্ন দেখছে  বিসিএস  ক্যাডারের কিন্তু কিভাবে শুরু করবেন তা বুঝতে পারছেন না। 

অথবা অনেকেই আছেন যারা স্নাতক ও স্নাতকোত্তর শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন কিন্তু নিজের প্রস্তুতি শুরু করতে পারছেন না।

তাদের জন্যই আজকের আলোচনা।

সিলেবাসঃ

আপনার প্রথম কাজ হলো প্রস্তুতির শুরুতে ভালো করে সম্পূর্ণ সিলেবাসটি দেখা। সিলেবাসটি আপনার রোড ম্যাপ এই পথ ধরেই এগিয়ে যেতে হবে তাই প্রথমেই আপনাকে সম্পূর্ণ সিলেবাস সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে হবে। 

সিলেবাসের কোন টপিক্সগিলো আপনার পড়তে হবে এবং কোন টপিক্সগিলো বেশি সময় ব্যয় না করে আপনি  প্রিলিমিনারিতে পাস করতে পারবেন সেই সকল বিষয় সম্পর্কে ধারনা নিতে ১০টি বিষয়ে কোনগুলো গুরুত্বপূর্ণ তা সিলেবাসের ১৫ নম্বর পৃষ্ঠাতে পেয়ে যাবেন।

 গুরুত্বপূর্ণ টপিক্সগুলো ধরে পড়া শুরু করুন আর নিজেকে প্রশ্ন করুন আপনি ঠিক কোন কোন বিষয়ের উপর দুর্বল। আপনার কাছে সবচেয়ে কঠিন যেই বিষয়টি সেই বিষয়টি দিয়েই শুরু করুন। 

যেকোন বিষয়ে ভালো করার জন্য বারবার পড়ার কোন বিকল্প নেই তাই সিলেবাসটি বুঝে নিজের মত করে সাজিয়ে নিন এবং পড়া শুরু করে দিন।

বেসিক বিষয়সমূহঃ

স্বপ্নের বিসিএস থেকে শুরু করে সরকারী- বেসরকারী যেকোন চাকরীর পরীক্ষায়  বেসিক টার্মস থেকে প্রশ্ন আসতেই বেশি দেখা যায়।

 আর অনেকে চাকুরির জন্য এতটাই বিভোর হয়ে থাকে যে অনেকসময় সহজ ও বেসিক টার্মগুলোই বাদ দিয়ে জটিল বিষয়গুলোর উপরে হুমড়ি খেয়ে পড়ে থাকে। 

আপনার কাছে পর্যাপ্ত সময় থাকলে আপনি পঞ্চম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত সকল গণিতগুলো আয়ত্ত করে নিন। যদি সময়ের স্বল্পতায় ভোগেন তাহলে নবম-দশম শ্রেণির গণিত বইটি শেষ করে ফেলুন। 

বাংলা ব্যকরণের জন্যও নবম-দশম শ্রেণির পাঠ্যবই আয়ত্ত করার বিকল্প হয় না। পাশাপাশি ইংরেজির জন্য টেক্সটবুকের সকল Vocabulary শিখতে পারেন। গণিতের সূত্রগুলো মুখস্ত করে রাখতে পারেন। 

চাপ না নিয়ে অল্প অল্প অল্প করে প্রতিদিন মুখস্ত করুন। এতে আপনার বেসিক টার্মসগুলো আরও মজবুত হবে।

প্রিলিমিনারি প্রশ্নব্যাংকঃ

প্রিলিমিনারির প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নিতে প্রশ্নব্যাংক আপনাকে অনেক সহায়তা করবে। ১০ম থেকে ৪০ তম বিসিএস প্রিলি পর্যন্ত প্রশ্নগুলো সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন যদিও ৩৫তম থেকে প্রশ্ন রিপিট হওয়ার প্রবণতা কম থাকে তবুও প্রিভিয়াস প্রশ্নব্যাংক আপনাকে প্রশ্নের ধরন ছক আকারে তুলে ধরবে। তাই প্রশ্নব্যাংক স্লভ করে ফেলুন।

বিগত সালের প্রশ্নগুলো সংগ্রহ করতে বাজারে বিভিন্ন পাবলিকেশন কর্তৃক প্রকাশিত নানান বই পেয়ে যাবেন। 

বই সিলেকশনঃ

প্রস্তুতির শুরুতেই প্রতিযোগিতামূলক এই পরীক্ষা ভেবে শখানেক বইয়ে তালিকা নিয়ে অনেকেই ভয়ে মনোবল হারিয়ে ফেলে। কিন্তু ভাবলে অবাক হবেন যে  অল্প কয়েকটি বই পড়েই প্রিলিতে পাশ করা যায়। আপনার মোট কতটা সাবজেক্ট ও মার্কস বেস করে  কিছু বই নির্বাচন করুন। 

যেমন,বাংলা ভাষা ও সাহিত্য, ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য, গাণিতিক যুক্তি ও মানসিক দক্ষতা এই বিষয়ের উপর প্রেকটিস করতে ১টি করে বই রাখুন। 

অন্যদিকে বাংলাদেশ বিষয়াবলি, আন্তর্জাতিক বিষয়বলি, ভূগোল, পরিবেশ  ও দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নৈতিকতা মূল্যবোধ ও সুশাসন এই বিষয়গুলোর জন্য অন্তত একটি করে বই এবং আপডেটের সাথে নিজেকে এগিয়ে রাখতে বিভিন্ন কারেন্টস, মাসিক বা ষান্মাসিক ম্যগাজিন পড়তে পারেন।

বাজারে বিষয়ভিত্তিক প্রফেসর/ওরাকল/এমপিথ্রি/ ডায়জেস্ট সহ হাজারো পাবলিকেশনের বই পাবেন । আপনার পছন্দের যেকোন প্রকাশনী বই সংগ্রহ করতে পারেন।

প্রার্থী ও প্রতিযোগীঃ

ভাবছেন সর্বাধিক প্রার্থী থাকে যেই পরীক্ষায় সেখানে নিজে প্রতিযোগী হিসেবে কতটা সফল হবেন? তাহলে আজই এইসকল চিন্তার মুক্তি দিন মনে রাখবেন প্রার্থী অনেক হলেও প্রতিযোগিতা করার জন্য প্রতিযোগী কিন্তু কম। প্রিলিতেই প্রায় অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী ঝড়ে পরে যায়। তাই প্রতিযোগীর কথা চিন্তা না করে নিজের প্রস্তুতির কথা ভাবুন।

মডেল টেস্টঃ

অল্প অল্প করে আয়ত্ত করা বিষয়গুলো ঝালাই করে নিতে বাসায় বসে নিজে নিজে মডেল টেস্ট দিন। আপনি কয়টা প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পেরেছেন এবং আপনার অনুমান করা উত্তরগুলো কতটা সঠিক পর্যালোচনা করুন। নিজের পরিসর সম্পর্কে জানতে পারবেন এবং নিজেকে আরও সমৃদ্ধ করতে পারবেন । বাজারে এমন অনেক বিসিএস মডেল টেস্টের বই পেয়ে যাবেন।

ধৈর্য্য ও মূল্যায়নঃ

প্রস্তুতির শুরুতেই বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ধৈর্য্যহারা হয়ে অনেককিছুই পড়ে থাকেন কিন্তু পরবর্তীতে দেখা যায় তার কিছুই মনে থাকে না  অর্থাৎ সহজেই ভুলে যাওয়ার প্রবণতা বা ভুলে যাওয়া।

তাই ধৈর্যের সাথে মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। অনেকক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন দিনের সর্বাধিক সময় পড়াশোনায় ব্যয় করলে বেশি জিনিস আয়ত্ত করা সম্ভব তেমনটিও নয় নিজের মেধা ও সক্ষমতার উপর নির্ভর করে অনুশীলন করুন মনে রাখবেন অনুশীলনই জ্ঞান অর্জনের অন্যতম মাধ্যম।

স্বাভাবিকতা ও মনোবলঃ

বিসিএস প্রস্তুতি নিচ্ছি এখন তো কিছুই করা যাবে না এমনটা ভাবা যাবে না, এতটা চাপ না নিয়ে লাইফটাকে স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।

 দৈনন্দিন সকল কাজকে শিখনীয় কিছু বেছে নিন যা আপনার জ্ঞান অর্জনে সহায়ক। যেমন, টিভি নিউজ দেখা, খেলা দেখা,  চলচিত্র (বাংলা/ ইংরেজি), কবিতা, গল্প, উপন্যাস সহ বিভিন্ন বিখ্যাত নিদর্শনমূলক বিষয় দেখতে পারেন এসব সম্পর্কে জানতে পারেন। এসব বিষয় থেকে প্রশ্ন হয়ে থাকে।

অল্প অল্প করে নিজেকে তৈরি করুন। নিজের মাঝে পজিটিভ ও লার্নিং থিংকস বৃদ্ধি করুন তাহলে আপনার মনোবল দৃঢ় হবে। যেকোন বিষয় সফল হওয়ার পিছনে আপনার মনোবল যত দৃঢ় হবে আপনি তত নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন এবং সফল হতে পারবেন। তাই নিজেকে নিজের মত করো তৈরি করুন। সর্বোপরী নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করবেন। দেখবেন আপনার স্বপ্ন আপনার হাতের মুঠোয়। 

leave your comment