For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
রেজিলিয়েন্স : খারাপ সময়ের বড় সহায়ক (ফ্রি মাস্টারক্লাস)

রেজিলিয়েন্স : খারাপ সময়ের বড় সহায়ক (ফ্রি মাস্টারক্লাস)

সময়টা খুব একটা ভালো যাচ্ছেনা কারোরই। আমরা তো পারলে এই ২০২০ সালকে এখনি ডিলিট বাটন প্রেস করে চিরতরে মুছে ফেলি। কি হচ্ছে না এই বছর? বিশাল বড় দাবানল দিয়ে বছর শুরু হল, এরপর সাইক্লোন, আর করোনা ভাইরাসের কথা নতুন করে বলার কিছু নাই। 

হুট করেই পুরো বিশ্বকে থামিয়ে দিয়েছে এই একটি মাত্র ভাইরাস। স্থবির হয়ে পড়েছে সবকিছু। হঠাৎ করেই একদিন বলা হল, বাসা থেকে বের হওয়া যাবেনা, ঘরের মধ্যেই বসে থাকতে হবে! এটা কোনো কথা? নিজেদের চাকরি বাকরি, ব্যবসা, আয় রোজগারের ব্যবস্থা সবকিছুকে শিকেয় তুলে আমরা ঘরের মধ্যে বসে আছি দিনের পর দিন। যতদিন যায়, আমরা ঘরের মধ্যে বসে থাকি, দিন গুনতে থাকি কবে এই মহামারী আমাদের ছেড়ে বিদেয় হবে। সময় পার হয়, মাসের পর মাস যেতে থাকছে কিন্তু করোনা বাবাজির আর যাওয়ার নাম গন্ধ নেই।

“নিউ নরমাল” বলে এক অদ্ভুত জিনিস আসলো, বেঁচে থাকতে হলে নাকি তাতেই মানিয়ে নিতে হবে। তাই, আমরা মাস্ক পরছি, ওয়ার্ক ফ্রম হোম চালু করছি, জুম মিটিং এই দিনরাত্রি পার করছি। এই যে আমরা মাসের পর মাস চার দেওয়ালের মাঝে বসে বসে দিন কাটাচ্ছি, কতদিন নিজেদের ক্লাস-পরীক্ষা কিংবা অনিশ্চিত গ্রাজুয়েশন নিয়ে চিন্তায় অস্থির হচ্ছি, এত কিছুর মাঝে আমরা কি আসলেই মানসিকভাবে ঠিক থাকতে পারছি? 

আর যখন পরিবারের কেউ করোনায় আক্রান্ত একই বাসায় থেকেও দুই সপ্তাহের মত আইসোলেশনে থাকতে হয় কিংবা করোনার থাবায় প্রিয়জনকেই হারিয়ে ফেলি, আবার নড়বড়ে হয়ে যাওয়ার অর্থনীতি যখন আমাদের পেটে আঘাত দেয় তখন যত যাই হোক মানসিকভাবে ভালো থাকা যায় না। এতসবের মাঝে যখন সোশাল মিডিয়াতে নানারকম কাদা ছোড়াছুড়ি দেখি, প্রতিদিন পেপারে করোনো রোগীর সংখ্যা কেবল বাড়তেই দেখি, তখন অন্যদের কেমন লাগে তা ঠাহর করে বলতে পারছিনা তবে আমি তো একদমই ঠিক থাকতে পারিনা। মাঝেমাঝে বেশ অসহায় লাগে। একদমই হুট করে ভেঙ্গে পড়ি। দিশেহারা লাগে। কি করব বুঝে উঠতে পারিনা। মোট কথা ইংরেজিতে আমরা যাকে বলি, “Mental Breakdown” ঠিক সেটাই হয়। 

কিন্তু এইভাবে কি ভেঙ্গে পড়লে চলবে? আমরা না সৃষ্টির সেরা জীব? বলে না, “মেঘ দেখে কেউ করিসনে ভয়, আড়ালে তার সূর্য হাসে”? এখন আমাদের উপর দিয়ে হয়তো শনির দশা চলছে তাই কোনো কিছুই ভাল যাচ্ছেনা, কিন্তু এক সময় না সময় সুদিন আসবেই। সবচেয়ে কঠিন সময় হচ্ছে, শনির দশা থেকে সুদিন আসার মধ্যবর্তী সময়টা। এই সময় যিনি ধৈর্য ধরে রাখতে পারেন, মানসিকভাবে ঠিক রাখতে পারবেন তিনিই দিনশেষে সুদিন দেখবেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, এই মানসিকভাবে স্থিতিশীল থাকবই বা কি করে এই মহামারীর সময়ে?

 

ঠিক তখনই যেই শব্দটা মাথায় আসে তা হচ্ছে Resilience. সহজ বাংলায় আমরা যাকে বলি সহনশীলতা। জীবনে কোন খারাপ দিন আসলে বা এমন কোন দুর্ঘটনা হল যা আমাদের ভেঙ্গে ফেলল, তারপর কিন্তু আমরা সেই জায়গা থেকে উঠে দাড়াই। তাই না? কারো সময় লাগে একমাস, কারো এক বছর কারো কিংবা বছরখানেক ও লেগে যেতে পারে। কিন্তু ধরুন, এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই, হোক না সেটা আকস্মিক বা অনাস্মিক, আপনি যদি নিজেকে মানসিকভাবে প্রস্তুত করে রাখতে পারেন তাহলে ঐ যে শনির দশা থেকে সুদিন আসার সময়টা অত বেশি কষ্টকর হয়ে উঠে না। ধাক্কা সামলিয়ে উঠতে পারেন সহজেই। এই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকার জন্যই দরকার হয় রেজিলিয়েন্স বা সহনশীলতা। একদম সোজা বাংলায় বুঝাতে হলে বলব,, যার সহনশীলতা যত বেশি সে তত বেশি মানসিকভাবে শক্ত। 

সিনেমায় দেখিনা আমরা যুদ্ধে সৈনিকদের হাতে একটা শিল্ড (Shield)  থাকে যাতে শত্রুদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচানো যায়? তেমনি নিজের মানসিক অবস্থাকেও একটি শিল্ডের সাথে তুলনা করুন, শিল্ড যত বড় এবং শক্ত হবে আপনি ততটাই সেইফ থাকবেন। রেজিলিয়েন্স এক কথায় একটা সাইকোলজিকাল স্ট্রেন্থ। 

খুব সুন্দর বাক্যে যদি বলতে হয়, তাহলে রেজিলিয়েন্স বা সহনশীলতা বলতে সেই সক্ষমতাকে বোঝায় যা আপনাকে আপনার দুর্বল মূহুর্তে আপনার সহায়ক হবে, আপনাকে পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। আপনার ডিস্ট্রেসফুল ইভেন্টে (Distressgul Event), মানসিক ট্রমার (Trauma) অভিজ্ঞতাগুলো থেকে আপনাকে বের করতে সাহায্য করবে, তাই নয় বরং পরবর্তীতে এই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটলে আপনি যাতে ভেঙ্গে না পড়ে সাহসের সাথে লড়াই করতে পারেন সেই মানসিক শক্তিটুকু আপনাকে দিবে। 

Super power

সহনশীলতা সবার একরকম হয় না, কারো বেশি কারো কম। সময়ভেদেও ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু এখন মূল কথা হচ্ছে, এই যে সহনশীলতা সহনশীলতা বলছি বারবার, এই সহনশীলতা বাড়ানো কিভাবে? এই মহামারীতে যেখানে মানসিক অবস্থার যাচ্ছেতাই হয়ে আছে, সেখানে রেজিলিয়েন্স থাকতে তো হবেই। 

 

ঠিক সেই কারণেই, ইন্টারেক্টিভ কেয়ারস নিয়ে এসেছে “Free Masterclass on Resilience For Today : Striving Forward From Tough Times”. ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই জুম সেশনে আমাদের অতিথি হয়ে থাকছেন দুইজন স্বনামধন্য সাইকোলজিস্ট আশরাফ ও নাসরিন সুলতানা শীলা, কথা বলবেন Resilience for Today এই সেশনে। জানা যাবে, করোনাকালীন সময়ে কিভাবে নিজেকে মানসিকভাবে শক্ত রাখা যায় তা নিয়ে। রেজিলিয়েন্স কিভাবে বাড়ানো যায় তা নিয়ে তো অবশ্যই জানতে পারব। জানতে পারব কিভাবে করে, নিজেদের মানসিক শক্তিবলে আবারো এই নিজেদের দুর্দশা, ট্রমা, কষ্টকে বুড়ো আংগুল দেখিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় তা নিয়ে। 

Event details of masterclass

আমাদের চারপাশে এত অস্থিরতা, এত কিছু ঘটতে থাকে আমাদের তাই রেজিলিয়েন্স বাড়ানো বৈ আর কোনো গতি নেই। এই অস্থির সময়ে স্থিরভাবে বেঁচে থাকলে হলে আমাদের রেজিলিয়েন্স নিয়ে জানতে হবে, বুঝতে হবে। তাই দেরি না করে আজই রেজিস্ট্রেশনটা সেরে ফেলি? রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময় কিন্তু আগামীকাল ৮ অক্টোবর পর্যন্ত। 

আশা করি, সবাই আসবেন। অনেক কিছু জানা যাবে, বুঝা যাবে, শেখা তো যাবেই। দেখা হবে জুমে!

 

ঘুরে আসুন ইভেন্ট লিংক থেকে।
https://www.facebook.com/events/2434751056819329

leave your comment