For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
যেভাবে তৈরি করবেন একটি ভাল সিভি

যেভাবে তৈরি করবেন একটি ভাল সিভি

প্রফেশনাল জীবনের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে সিভি (Curriculum Vitae)। এটি হচ্ছে এমন একটি ডকুমেন্ট যাতে একজন ব্যক্তির নিজস্ব পরিচয়, শিক্ষাগত যোগ্যতা, পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ইত্যাদি বিষয়গুলোর উল্লেখ থাকে। এগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে হয় যেন সিভিটি দেখেই যে কেউ সেই ব্যক্তির একাডেমিক এবং প্রফেশনাল জীবন সম্পর্কে মোটামোটি একটি স্পষ্ট ধারণা পেয়ে যায়। সিভি সাধারণত ইংরেজীতে লিখা হয়। এখনকার সময়ে চাকরি তো বটেই, এমনকি স্কুল-কলেজ পর্যায়েও নানান কাজে সিভির প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশের বেশ বড় একটি অংশ সিভি লিখার বেসিক নিয়ম বা স্ট্যান্ডার্ডগুলো ঠিকমত জানে না। যার দরুণ যে উদ্দেশ্যে সিভিটা তৈরি,তা সহজে পূরণ হয় না!

যে সিভিতে আপনি আপনার কাজের বর্ণনা সুন্দর করে সাজিয়ে ভাল মত ফুটিয়ে তুলতে পারবেন, সেটিই হবে একটি ভাল সিভি। সিভি লিখার নানা রকম ফরম্যাট রয়েছে। সবচেয়ে প্রচলিত ফরম্যাটটি হচ্ছে ক্রনোলজিক্যাল। তবে অন্য যেকোনো ফরম্যাট অনুসরণ করেও আপনি আপনার সিভিটি তৈরি করতে পারেন। যে ফরম্যাটই অনুসরণ করুন না কেন,কিছু জিনিসের দিকে অবশ্যই লক্ষ্য রাখতে হবে।

সিভির দৈর্ঘ্য
একজন শিক্ষার্থী বা ফ্রেশারের সিভির দৈর্ঘ্য হবে ১-২ পৃষ্ঠা এবং কোনোভাবেই ২ পৃষ্ঠার বেশি নয়! কেননা বেশি দীর্ঘ হলে সেই সিভি দৃষ্টি আকর্ষণের যোগ্যতা হারায়। চেষ্টা করতে হবে যেন প্রথম পৃষ্ঠাতেই গুরুত্বপূর্ণ জিনিসগুলো জায়গা পায়। এবার আসি যারা দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করছেন তাদের ব্যাপারে। এক্ষেত্রে প্রতি ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতার জন্যে সর্বোচ্চ ১ পৃষ্ঠা করে বাড়ানো যায়।

ব্যক্তিগত বিবরণ
এ অংশে আপনার নাম,ছবি,যোগাযোগের ঠিকানা,ই-মেইল,মোবাইল নাম্বার,লিংকড ইন প্রোফাইল,স্কাইপ আইডি ইত্যাদি দেয়া থাকে। খেয়াল রাখুন, আপনার পরিচয় বা বিবরণ মানে শুধুই আপনার তথ্যগুলো থাকবে (অনেকে মা-বাবা,ভাই-বোন সহ আরো অনেক অপ্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে থাকেন, এটি করবেন না)। সদ্য তোলা একটি পরিপাটি ছবি যোগ করুন। যোগাযোগের ক্ষেত্রে আপনার বর্তমান সঠিক ঠিকানাটি দিবেন। ই-মেইলের ক্ষেত্রে কোনরকম অদ্ভুত মেইল এড্রেস (যেমন neelpori@gmail.com, lonelyboysadab@yahoo.com ইত্যাদি) মোটেও ভাল দেখায় না! তাই চেষ্টা করুন আপনার নাম আর বড়জোর কিছু সংখ্যা বা বিশেষ চিহ্নযুক্ত একটি ছোট ইমেইল এড্রেস দিতে। অবশ্যই একটি (সর্বোচ্চ দুইটি) সব সময় এভেইলেবল, এমন কোনো ফোন নাম্বার দিন। লিংকড ইন প্রোফাইল থাকলে তা দেয়া উচিৎ। আর যদি কোনো ইন্টারন্যাশনাল বা দেশের বাইরের কোম্পানি হয়, আপনার ইন্টারভিউ কিন্তু অনলাইনেও নেয়া হতে পারে। সেজন্যে নিজ দায়িত্বে স্কাইপ একাউন্ট দিয়ে দিলে আপনি যে স্মার্ট এবং প্রফেশনাল, সেটি রিক্রুটাররা বেশ ভালভাবেই বুঝে যাবেন।

পেশাগত লক্ষ্য
যে কোনো জায়গায় একজন ডেডিকেটেড ও লক্ষ্যধারী ব্যক্তিকে গুরুত্ব দেয়া হয়। তাই আপনি যে কাজ বা জবের জন্য এপ্লাই করবেন তার সাথে সামঞ্জ্বস্যপূর্ণ একটি লক্ষ্য আপনার সিভিতে লিখতে হবে। সংক্ষিপ্ত এবং প্রাঞ্জল ভাষায় গুছিয়ে এ অংশটি লিখতে পারলে তা চাকরিদাতার মনোযোগ আকর্ষণ করবে।

শিক্ষাগত যোগ্যতা
সম্প্রতি আপনি যেই ডিগ্রিটি অর্জন করেছেন বা যেই ডিগ্রিটি চলমান সেটি সবার প্রথমে লিখতে হবে (যদি পরীক্ষার ফল পাশ না হয়ে থাকে তাহলে ব্র্যাকেটে ‘appeared’ শব্দটি লিখতে পারেন)। এরপর একে একে মাধ্যমিক পর্যায় পর্যন্ত সবগুলো লিখুন। প্রত্যেক ডিগ্রির ক্ষেত্রেই কোন প্রতিষ্ঠান বা বোর্ড,কোন বিষয় বা বিভাগ,কত সালে পরীক্ষা দিয়েছেন,তার ফলাফল কী ছিল ইত্যাদি উল্লেখ করুন। শিক্ষার্থী অবস্থায় আপনি যদি কোনো কর্মশালা বা প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে থাকেন বা আপনার যদি কোনো একাডেমিক প্রকাশনা বা ট্রেনিং থেকে থাকে, সেগুলোও এ অংশে লিখতে পারেন। কেননা এগুলো সবই আপনার সিভিকে অতিরিক্ত নাম্বার যোগ করে।

কাজের অভিজ্ঞতা
এ অংশটি প্রায় আগেরটির মতই। বর্তমান থেকে শুরু করে সময়ের বিপরীত ক্রমানুসারে পূর্ব কাজের অভিজ্ঞতাগুলো এখানে লিখতে হবে। ফ্রেশারদের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী থাকাকালীন কোনো ক্লাব/এসোসিয়েশন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ,ইন্টার্নশিপ বা পার্ট টাইম জব করে থাকলে সেগুলো এখানে উল্লেখ করতে হয়। এজন্য বলব, বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়াশোনার পাশাপাশি অন্তত একটি ইন্টার্নশিপ বা ভলান্টারি কাজ অবশ্যই করা উচিৎ।

দক্ষতা
একজন ব্যক্তি কোন কোন ভাষায় দক্ষ, টেকনিক্যাল নলেজ কতটুকু, তার ব্যক্তিগত গুণগুলো কী কী ইত্যাদি এ অংশে যোগ করা হয়। আমাদের দেশে বাংলার পাশাপাশি ইংরেজীর উপর দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই করা হয়। সফটওয়ারের মধ্যে মাইক্রোসফট ওয়ার্ড,এক্সেল,পাওয়ারপয়েন্ট এগুলোয় মোটামোটি সবারই কম-বেশি দক্ষতা থাকে। এছাড়াও বিভিন্ন চাকরিতে বিশেষ সফটওয়ারের উপর দক্ষতা চাওয়া হয় যেমন প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ পাইথন, ডাটা এনালাইসিসের জন্য এসপিএসএস ইত্যাদি। ব্যক্তিগত গুণের মধ্যে পড়ে কমিউনিকেশন বা নেগোসিয়েশন স্কিল, টাইম ও প্রেশার ম্যানেজমেন্ট, দ্রুত অভ্যস্ত হওয়ার ক্ষমতা এরকম নানা জিনিস।

রেফারেন্স
আপনার ব্যাপারে দেয়া তথ্যগুলো কতটুকু সঠিক এটি একজন রিক্রুটার যাচাই করতেই পারেন! তাই স্বচ্ছতা নিশ্চি ত করতে অন্তত দুইজন ব্যক্তিকে রেফারেন্স হিসেবে দিতে হয়।ব্যক্তি বা পরিবারগত সম্পর্কের কাউকে রেফারেন্সে দেয়া মোটেও যুক্তিযুক্ত নয়। এজন্য পেশাদারী সম্পর্কযুক্ত কাউকে যেমন আগের চাকরির কর্মকর্তা যার অধীনে আপনি কাজ করেছেন, ফ্রেশারদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা সিনিয়র যিনি আপনাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন – এমন মানুষদের উল্লেখ করা উচিৎ। অবশ্যই যাকে আপনি রেফারেন্স হিসেবে দিচ্ছেন,তার অনুমতি নিন বা তাকে জানিয়ে রাখুন।


উল্লেখিত প্রত্যেকটি পয়েন্ট একটি ভাল সিভির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইন্টারনেটে নানা ধরনের সিভি টেমপ্লেট পাওয়া যায়। পছন্দসই যে কোনো একটি নিয়ে আপনি বেশ সহজেই সিভি বানিয়ে ফেলতে পারেন। এর জন্য কিছু বিশেষ ওয়েবসাইট বা এপ্লিকেশন রয়েছে যেমন CV Maker, Canva, ResumeBucket, Visual CV ইত্যাদি।

সবশেষে বলব, সিভিতে দুর্বল শব্দ (যেমন seeking for, looking for) ইত্যাদি ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। ইন্টারনেটে সার্চ করলেই সিভিতে ব্যবহারের মত অনেক স্ট্রং ওয়ার্ড পেয়ে যাবেন। আপনার সিভি ভাষাগতভাবে স্ট্রং হলে, তা দেখে রিক্রুটাররা আপনাকে ক্যান্ডিডেট হিসেবে স্ট্রং এবং ক্যাপেবল মনে করবেন। এভাবে অসংখ্য সিভির ভীড়েও আপনারটি পৌঁছে যাবে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে!

leave your comment