For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
ভ্রমণ-বিষয়ক শিষ্টাচারসমূহ-যা জানা প্রয়োজন

ভ্রমণ-বিষয়ক শিষ্টাচারসমূহ-যা জানা প্রয়োজন

প্রয়োজনে কিংবা শখে আমাদের সবারই জীবনে কম বা বেশি ভ্রমণ করতে হয়। ভ্রমণের আগে প্রস্তুতি থেকে শুরু করে,যানবাহনে চড়া,নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানো,সেখানে অবস্থান,অতঃপর নিজের জায়গায় ফেরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কিছু অলিখিত নিয়ম বা শিষ্টাচার মেনে চললে ভ্রমণ অভিজ্ঞতা অনেক সুন্দর হতে পারে। এখনকার সময়ে ভ্রমণপিপাসু মানুষের সংখ্যাও নেহাৎ কম নয়! নিজ দেশের ভেতরে তো বটেই, দেশের বাইরের বিভিন্ন জায়গা, সংস্কৃতি, পরিবেশ ইত্যাদি দেখতে এবং বুঝতে অনেকেরই বিশেষ আগ্রহ থাকে। নিজ অঞ্চলের ভেতরে হোক আর বাহিরে,প্রত্যেক ভ্রমণকারীর উচিৎ ভ্রমণ বিষয়ক শিষ্টাচারসমূহ অনুসরণ করা।

যথাযথ রিসার্চ
আপনি যেখানে যাবেন তার যাত্রাপথ,পরিবেশ,রীতিনীতি ইত্যাদি সম্পর্কে ভ্রমণের পূর্বে অবশ্যই ভালভাবে জেনে নিন। বিশেষ করে আপনি যদি নতুন কোথাও যাচ্ছেন (হতে পারে তা আপনার নিজের দেশের ভেতরেই কোনো জায়গা বা ভিন্ন কোনো দেশ), তাহলে অবশ্যই সেখানকার সংস্কৃতি ও মৌলিক রীতিনীতি সম্পর্কে সচেতন থাকুন। কারণ আপনার কোনো স্বাভাবিক আচরণ হয়তো সেই জায়গায় স্বাভাবিক নয়। যেমনঃ মেক্সিকোর কিছু অংশে চোখের দিকে তাকানোকে খারাপ বা রূঢ় মনে করা হয়, আবার বেশিরভাগ জায়গায় রেস্টুরেন্টে টিপ্স দেয়া স্বাভাবিক হলেও জাপানের মানুষজন এই প্র্যাকটিস একেবারেই পছন্দ করে না। এ ধরণের ছোটখাটো শিষ্টাচার সম্পর্কে জানা থাকলে ভুলক্রমে স্থানীয় মানুষজনের অনুভূতিতে আঘাত করার মত কিছু ঘটবে না।

সকলের সাথে ভাল ব্যবহার
সুন্দর আচরণ একজন মানুষের অন্যতম গুণ। অন্য মানুষের সাথে ভাল আচরণ করা,নিচু স্বরে কথা বলা এগুলো সাধারণ ভদ্রতারই অংশ। দেখা যায় যে অনেক সময় মানুষজন উত্তেজিত হয়ে বাক-বিতন্ডা শুরু করেন। কেউ আপনার সাথে রেগে গিয়ে উঁচু স্বরে কথা বললেও চেষ্টা করুন যথাসম্ভব স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে। এছাড়াও দূর যাত্রার ক্ষেত্রে হোটেল স্টাফ,ট্যুর গাইড,স্থানীয় জনগণ সবার সাথে আন্তরিকতা ও শ্রদ্ধার সাথে কথা বলার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনার প্রতি বাকিরা একইভাবে সংবেদনশীল হবে।

যাত্রাকালীন আচারবিধি
প্রথমত অযথা লাইন ভঙ্গ করা মোটেও ঠিক না। খুব বেশি ইমার্জেন্সি হলে, আপনার সামনের মানুষদের সমস্যার কথা জানিয়ে অনুরোধ করতে পারেন। বাস,ট্রেন,প্লেন যা-ই হোক না কেন, আপনার আশপাশের মানুষের সুবিধা-অসুবিধার কথা চিন্তা করুন। যেমনঃ আপনি হঠাৎ করে সিটটা সম্পূর্ণ হেলিয়ে দিলে,পেছনের ব্যক্তিটি হয়তো পায়ে বা মাথায় ব্যথা পেতে পারেন। আবার হয়তো পাশের ব্যক্তিটির কথা না ভেবেই দুই সিটের মাঝের একটি হাতলের পুরোটাই নিজে দখল করে রাখলেন। এই কাজগুলো আপনার সাথে অন্য কেউ করলে কিন্তু আপনার মোটেও ভাল লাগবে না! অনেকে যানবাহনে উঁচু স্বরে ফোনে কথা বলে বা গান বাজায়। কেউ বা অপরিচিত সহযাত্রীটিকে ব্যক্তিগত প্রশ্ন করে বসেন বা অযথা আলাপ জুড়ে দেন। অন্যদেরকে ভদ্রভাবে বোঝানোর পাশাপাশি নিজেও এ ধরনের কাজগুলো করা থেকে যথাসম্ভব বিরত থাকুন।

পর্যটনস্থলে করণীয়
যে জায়গায় ভ্রমণ করবেন, তার সামাজিক এবং স্থানীয় রীতিনীতির পাশাপাশি নিয়ম-কানুনও মেনে চলতে হবে। একজন ভ্রমণকারী হিসেবে স্থানীয় আইন ও সংস্কৃতির প্রতি সম্মান প্রদর্শন আপনার কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে। তাই এমন কিছু না করার চেষ্টা করুন যেটি সে স্থানের মানুষের কাছে গ্রহণীয় বা স্বাভাবিক নয়। ধর্মীয় উপাসনালয় বা পবিত্র মনে করা হয় এমন স্থানসমূহে অবশ্যই যথাযথ আদব-কায়দা অনুসরণ করুন। যদি আপনি ফটোগ্রাফির স্বার্থে কোনো বিশেষ জায়গার ছবি তোলেন,অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিন। অপরিচিত কারো ছবি তোলা বা অযাচিত মন্তব্য করা রীতিমতো অপরাধের পর্যায়ে পড়ে। এছাড়া স্থানীয় ভাষার কয়েকটি সাধারণ শব্দ শিখে নিলে যোগাযোগে অনেক সুবিধা হয়। এর মাধ্যমে সেখানকার মানুষজন অনেক বেশি আন্তরিকতা অনুভব করে। যেখানে সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকুন। যদি আশেপাশে কোনো ডাস্টবিন না-ও থাকে, আপনার বর্জ্যটি ব্যাগে রেখে দিন। সর্বোপরি সবসময় চেষ্টা করুন সবার প্রতি সহানুভূতিশীল থাকতে।

উল্লেখিত প্রতিটিই একদম সাধারণ শিষ্টাচারের অন্তর্গত। ভ্রমণ আমাদের মনকে উদার করে। তাই ভ্রমণকালীন এ সকল শিষ্টাচার মেনে চললে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা যেমন সুন্দর হবে,তেমনি ব্যক্তিত্বও আরো উন্নত হবে।



leave your comment