For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
ভিডিও ইডিটিং এর ভবিষ্যৎ কী?

ভিডিও ইডিটিং এর ভবিষ্যৎ কী?

আধুনিকতার ছোয়ার ফটোগ্রাফি বা ভিডিওগ্রাফি,এখন হাতের মুঠোয়। যে কেউ যখন তখন মুঠোফোন কিংবা ক্যামেরায় নিজের ছবি হতে শুরু করে প্রিয় সব মুহুর্তের চিত্র ধারন করে রাখে।আবার অনেকেই শখের বসে ভিডিও করে থাকে। কেউ কেউ ভিডিও নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার গড়ার কথা ভাবলেও বেশিরভাগই মনে করেন এটা শখ ছাড়া পেশা হতে পারে না! ভিডিও ইডিটিং নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তা করা বোকামির!  এইরকম ধারনাকে বাদ দিয়ে চলুন জেনে নেয়া যাক ভিডিও ইডিটিং সম্পর্কে –

 

ভিডিও ইডিটিংঃ

ভিডিও ইডিটিং একটি সৃজনশীল কর্মদক্ষতা।এটি সেই প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে একটি ভিডিও ফুটেজকে এডিটরের পছন্দশীলভাবে সাজিয়ে সুন্দর একটি ভাবধারায় প্রকাশ করা।কোন গল্প বা চরিত্রকে অনুভূতিতে রূপান্তর করার একটি বিশেষ পদ্ধতি। অর্থাৎ ভিডিও ইডিটিং বলতে মূলত নিজের পছন্দশীলভাবে গুছিয়ে একটি অর্থবোধক ভাবদারা প্রদান করাকেই বুঝায়। সাধারণত যিনি এই কাজ করে থাকেন আমরা তাকে ভিডিও ইডিটর বলে থাকি।

 

ভিডিও ইডিটর ও ইডিটিং এর প্রয়োজনীয়তাঃ

 

যেকোন বিষয়কে ফুটিয়ে তুলতে যেমন আপনি বিভিন্ন কারুকার্য ব্যবহার করেন তেমনি একটি ভালো মানের ভিডিও পেতে ও আপনাকে ভিডিও ইডিটিং করতে হবে।একটি গল্প বা চরিত্রের অসুন্দর,অসামাঞ্জস্য জিনিস বাদ দিয়ে সুন্দরকে উপস্থাপন করার জন্য ভিডিও ইডিটিং প্রয়োজন। আপনার বিষয়বস্তুকে আরও আকর্ষণীয় ও শিল্পসম্পন্ন করে তুলতে এবং দর্শকরা যাতে বিরক্ত না হয় সেদিকে লক্ষ রেখে দর্শকদের বিক্তির হাত থেকে রক্ষা পেতে চরিত্র,গল্প বা বিষয়বস্তুকে সুচারু ও নান্দনিক উপস্থাপনে ইডিটিং এর তুলনা হয় না।

 

ভিডিও ইডিটিং এর চাহিদাঃ

প্রযুক্তির বিকাশে ভিডিও ইডিটিং বর্তমানে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে রয়েছে।এই ভিডিও ইডিটিং পেশায় আপনি ঘরে-বাইরে যুক্ত থাকতে পারেন এবং নিজের ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে পারেন।  এটি মূলত আপনার দক্ষতা,সৃজনশীলতা, বুদ্ধিমত্তা ও পারদর্শিতা এবং কৌশলতার প্রয়োগের উপর নির্ভর করে। যত বেশি ফিচার আয়ত্ত করতে পারবেন আপনার ইডিটিং তত বেশি সুন্দর হবে।আরেকটি সুন্দর কাজকে সবাই প্রসংশা করে।আপনি যত দক্ষ হবেন আপনার চাহিদাও তেমনি বৃদ্ধি পাবে।

টিভি চ্যানেলগুলোতে বিজ্ঞাপন তৈরি,সংবাদ,অনুষ্ঠান, নাটক,ম্যাগাজিন,চলচিত্র সহ বিভিন্ন আ্যনিমেশনের কাজ করা হয়ে থাকে।দক্ষ ইডিটরা উচ্চ বেতনে জায়গা করে নিচ্ছে এমন হাজারো টিভি চ্যানেল ও অন্যান্য প্লাটফর্মে।এখন তো ঘরে বসে ইউটিউবিং করে মানুষ হাজার হাজার অর্থ উপার্জন করছে।সেক্ষেত্রেও আপনার ভিডিও ইডিটিং এর দক্ষতার উপর নির্ভর করছে।

শুধুমাত্র বাংলাদেশর কথাই ভাবছেন? একবার হলিউডের কথা চিন্তা করেন।শুধুমাত্র চলচিত্র দিয়েই বিশ্বকে মাতিয়ে বেড়াচ্ছে আর তার পিছনে রয়েছে হাজারও ভিডিও ইডিটর।ইডিটরই দৃশ্যকে দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে সহায়তা করছে।প্রতিটি চলচিত্র যেমন চাহিদা সম্পন্ন ঠিক তেমনি ব্যয়বহুলও আর এখানে কর্মরত সকল ইডিটর চওড়া বেতনে কাজ করে থাকেন।

 

ভিডিও ইডিটিংয়ে ইডিটরের কাজঃ

?

ভিডিও ইডিটর ক্যামেরায় বিষয়বস্তু রেকর্ড করে থাকে এবং প্রয়োজনে তার সাথে নিজের সৃজনশীলতার ও বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ করে থাকে।মোশন,গ্রাফিক্স,ভিডিও কমপ্রেশন, ভিডিও সিকুয়েন্স এর কাজ করে থাকে।

আবার বিভিন্ন স্থানে গিয়ে একটি দৃশ্যকল্প রেকর্ড করে তার সাথে তার পরিমার্জন,ব্যাকগ্রাউন্ড,ইকুইপমেন্ট কৌশলের কাজ করে থাকে। মূলত একটি গল্প আা চিত্রের মূল ধারক হিসেবে কাজ করে থাকে একজন ভিডিও ইডিটির।

 

ভিডিও ইডিটিংয়ে ভিডিও ইডিটরের যোগ্যতাঃ

ভিডিও ইডিটিং যেহেতু একটি দক্ষতাভিত্তিক পেশা তাই আপনার ব্যক্তিগত দক্ষতা বেশ প্রয়োজন। আপনার দক্ষতার উপর নির্ভর করেই আপনি আপনার কাজের দায়িত্ব পাবেন।মিডিয়া,ফিল্ম বা ভিডিও প্রডাকশন বিষয়ে ডিগ্রি থাকলে প্রার্থী হিসেবে আপনি অগ্রাধিকার পাবেন।

এছাড়াও আপনি যদি ভিডিও ইডিটিং নিয়ে কাজ করে থাকেন তবে আপনার অভিজ্ঞতা কাজে লাগতে পারে বা কোন প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে কোর্স করে থাকলে আপনি প্রাধান্য পাবেন।

আপনাকে এই পেশায় নিজেকে ডেডিকেটেড করতে হবে,আপনার ধারণ ক্ষমতা ও মানানসই চিন্তাচেতনা,চর্চা ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে পারবেন পাশাপাশি নিজের সৃজনশীলতা প্রয়োগের মাধ্যমে যোগ্য করে তুলার সুযোগ পাবেন।

 

ভিডিও ইডিটিংয়ে ইডিটরের মাসিক বেতনঃ

সৃজনশীল দক্ষতাসম্পন্ন এই পেশায় একজন ইডিটরের মাসিক বেতন তার কাজের ভিত্তিতে হয়। কাজের ধরন দেখেই আপনার মাসিক বেতন প্রদান করা হবে।সেক্ষেত্রে টিভি চ্যানেল ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন ইডিটরদের বেতন প্রায় ১৫-২০হাজার টাকা হয়ে থাকে এবং যারা বহুদিন কাজ করছে অভিজ্ঞ তথা একজন সিনিয়র ইডিটরের বেতন ৫০হাজার-১লাখ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। এছাড়াও বাহিরের দেশের মিডিয়া ভিত্তিক কাজ পাওয়া অনেক সহজ যেমন-ইউরোপ,মধ্যপ্রাচ্য এরূপ দেশসমূহ।সেখানে ইডিটরদের বেতনও তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে।

 

ভিডিও ইডিটিংয়ে ক্যারিয়ারঃ

একটি প্রতিষ্ঠান বা চ্যানেলে কয়েকটি ধাপে ভিডিও ইডিটর নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে।

*ভিডিও ইডিটর ইনচার্জ 

*সিনিয়র ভিডিও ইডিটর

*ভিডিও ইডিটর

*জুনিয়র ভিডিও ইডিটর

এবং নতুন যারা শিক্ষানবিশ হিসেবে যোগ হতে চায় তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকে। তাই ভিডিও ইডিটিং এর উপর নিজের ক্যারিয়ার গড়তে আপনাকে আপনার কর্মরত প্রতিষ্ঠানের উপর নির্ভর করতে হবে। সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রচারণার জন্য ভিডিও ইডিটর রাখে। আপনার কাজের ধরন এবং দক্ষতা আপনাকে সেখানে অন্যতম একজন করে তুলবে। বেকারত্ব, দারিদ্র্যতা ও হতাশা থেকে নিজেকে মুক্ত দিতে সাধারণ পেশা হতে বিকল্প নান্দনিক একটি পেশা হিসেবে আপনার ক্যারিয়ার গড়ে নিতে পারে যা ভবিষ্যত প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।

 

সর্বোপরী দক্ষতাভীত্তিক সৃজনশীল এই কাজটি আপনি যত প্রাকটিস, ঘাটাঘাটি ও চর্চা করবেন ততই সফল হতে পারবেন।ভিডিও ইডিটিং এর ক্ষেত্রে তাই ভালো প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করুন  এবং নিজেকে ডেডিকেটেড করুন তবেই আপনি সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে পারবেন

leave your comment