For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াই করার উপায়

বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াই করার উপায়

বিষণ্ণতা জীবনযাত্রার একটি উপাদান যা যেকোনো সময় ছোটখাটো বাধা থেকে ব্যাপক জরুরী অবস্থার দিকে মোড় নিতে পারে। এবং যদিও আপনার বিষণ্ণতার পরিস্থিতি সবসময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তবুও আপনি যা কাজ করেন তার মাধ্যমে একে প্রভাবিত করতে পারেন। যদি বিষণ্ণতা চরম বা দীর্ঘায়িত হয় তবে এটি আপনার সুস্থতাকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিষণ্ণতা সবচেয়ে সাধারণ মেজাজের ব্যাধিগুলির মধ্যে একটি। এটি একজন মানুষের জীবনে ক্রমাগত দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়ায় এবং একজন ব্যক্তিকে দৈনন্দিন ক্রিয়াকলাপ করতে বাধা প্রদান করে। বিষণ্ণতা আমাদের দ্রুত বিপদের জবাব দিতে এবং বিপদ প্রতিরোধ করতে দেয় না।

দীর্ঘমেয়াদী বিষণ্ণতার সংস্পর্শে মানসিক সমস্যা যেমন মানসিক চাপ, মানসিক শান্তি হারানো, আত্মহত্যা করা বা শারীরিক অসুস্থতা বৃদ্ধি হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত করেন যে বিষণ্ণতার ক্রমবর্ধমান মাত্রা আপনার শারীরিক অসুস্থতার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে।

প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে একজন বিষণ্ণতার সাথে লড়াই করে, এবং অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট ওষুধগুলি এই অবস্থার চিকিৎসার একটি সাধারণ উপায়। তবে, বিষণ্ণতার জন্য ওষুধই একমাত্র সমাধান নয়।

Related: How Important is Alone Time for Mental Health

বিষণ্ণতা কি?

Depression

বিষণ্ণতাকে বর্তমান সমাজে দুঃখ, রাগ, ক্রোধ বা আর দশটা সাধারণ মানবিক অনুভূতির মতোই একটি বিশেষ অনুভূতি হিসেবে গণ্য করা হয়। তবে এটি বড় একটি ভুল, প্রকৃতপক্ষে বিষণ্ণতাকে একপ্রকার মানসিক ব্যাধি হিসেবে বিবেচনা করাটা অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত।

বিষণ্ণতা এমন একটি ব্যাধি যা দুঃখ এবং আগ্রহ হারানোর অবিরাম অনুভূতি সৃষ্টি করে। এছাড়াও এটিকে মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার বা ক্লিনিকাল ডিপ্রেশন বলা হয়, যা একজন মানুষের অনুভূতি, চিন্তা এবং আচরণকে প্রভাবিত করে এবং বিভিন্ন মানসিক এবং শারীরিক সমস্যার দিকে পরিচালিত করতে পারে।

বিষণ্ণতা নিয়ে একটা সুন্দর লাইন হলো, “the opposite of depression is not happiness, it’s vitality.” এর মানে হলো যে, আপনি বিষণ্ণ নন এর মানে এইটা নয় যে আপনি সারাদিন আনন্দে আছে কিংবা সারাদিন ফুর্তি করে বেড়াচ্ছেন। আপনি বিষণ্ণ নন তার মানে এইটা দাঁড়ায় যে আপনি আপনার দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে পারছেন কিংবা আপনার কাজকর্ম করার ইচ্ছা আছে।

জ্বর,-সর্দির মতো বিষণ্ণতা সহজে নিরাময় যোগ্য কোনো রোগ নাহ। প্রথমেই আমাদের জানা উচিত যে বিষণ্ণতার কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। এটা একটা দীর্ঘমেয়াদী শ্রমসাধ্য কাজ যেটা আপনাকে নিয়মিত করে যেতে হবে। একসময় আপনি নিজেই বুঝতে পারবেন আপনি আর আগের মতো বিষণ্ণ নন।

 

বিষণ্ণতা কেন এত ভয়াবহ?

Effects of Depression

রেজাল্ট খারাপ করা, পারিবারিক কিংবা সামাজিক জটিলতা, বন্ধুদের সাথে তুচ্ছ বিষয়ে মনোমালিন্য, মৃত্যুশোক, বর্তমান সময়ের সীমাহীন একাকিত্ব, সোশ্যাল মিডিয়া ট্রায়াল ইত্যাদি আরো হাজারটা কারণে বিষণ্ণতা প্রবেশ করতেছে আমাদের জীবনে। আর অল্প সময়েই নিজের পাকাপোক্ত অবস্থানও বানিয়ে নিতে পারে এই মানসিক অস্থিরতা। সম্প্রতি দেশে টিনেজদের মধ্যে আত্মহত্যার পরিমাণ পূর্বের তুলনায় আশংকাজনক হারে বেড়েছে। এজন্য বিশেষজ্ঞরা দায়ী করছেন ডিপ্রেশনকে।

বিষণ্ণতা আপনার শক্তি, আশা এবং কর্মক্ষমতা হ্রাস করে, যা আপনাকে আরও ভাল বোধ করতে সহায়তা করবে এমন সহজ যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়াকে কঠিন করে তোলে। বিষণ্ণ লোকেরা প্রায়শই অন্য লোকেদের কাছ থেকে মূল্যহীন বা মনোযোগের অযোগ্য বোধ করে। কখনও কখনও, ব্যায়াম বা বন্ধুদের সাথে সময় কাটানোর মতো ভাল বোধ করার জন্য আপনার যা করা উচিত তা নিয়ে চিন্তা করা ক্লান্তিকর বা কার্যকর করা অসম্ভব বলে মনে হতে পারে।

বিষণ্ণতার একটি ভয়াবহ দিক হলো শূন্যতা। বিষণ্ণতায় ভুগছেন এমন অনেকেই জানিয়েছেন যে, তারা বুকের মধ্যে এক ধরনের অসীম শূন্যতা অনুভব করেন। নিরন্তর শূন্যতা। এই শূন্যতার অনৃভূতিই সবচে ভয়ংকর। যাদের বিষণ্ণতা রয়েছে তাদের মানসিক ব্যথা সহ্য করার জন্য লড়াই করার সাথে সাথে অনেক গুরুতর সমস্যা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

এই শূন্যতাই মানুষকে প্ররোচিত করে আত্মহত্যা করতে কিংবা নিজের ক্ষতি নিজেকেই করতে। যারা বিষণ্ণতায় ভোগেন তারাও সামাজিকভাবে সরে যান, যা এই শূন্যতার অনুভূতিতে আরও অবদান রাখতে পারে। দীর্ঘসময় ধরে এই শৃন্যতাকে বুকের মাঝে আটকে রাখার পর, একজন বিষণ্ণ মানুষ একদিন এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন যে, তার এই জীবন সম্পূর্ণ অর্থহীন, এবং আত্মহত্যার মাধ্যমে তার এই যন্ত্রণা একবারে বন্ধ করে ফেলা সম্ভব।

বিষণ্ণতা এবং আত্মহত্যা প্রবণতা বা সুইসাইভাল টেন্ডেন্সি তাই খুব ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। বিষণ্ণতা শুরুতে মানুষকে দ্বৈত জীবনযাপনের দিকে ঠেলে দেয়। বাকি পৃথিবীর সামনে একজন সুস্থ সামাজিক মানুষের অভিনয়, আর একান্ত নিজের কাছে এমন এক ভয়ানক জীবন, যেখানে সবকিছুই অর্থহীন লাগে। এই ছন্দ, টানাপোড়েনে একসময় দুই জীবনের মধ্যের নড়বড়ে সেতুটি ধ্বংস হয়ে যায়, আর একজন বিষগ্ন মানুষ আটকা পড়ে যান তার নিজের অর্থহীন জীবনে।

বিষণ্ণতা অন্যদের সাথে সম্পর্ক তৈরী করা কঠিন করে। বিষণ্ণতা অন্যদের উপর ক্রোধ এবং ক্রোধ পরিচালনা করতে পারে। এই আচরণের প্রায়শই পরিণতি এমন হয় যা মানুষকে আরও বিষণ্ণতার দিকে পরিচালিত করে। আগ্রাসন, ক্রোধ এবং বিরক্তি বন্ধু এবং পরিবার থেকে মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়, যার ফলে লোকটি আরও বিচ্ছিন্ন এবং নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে।

যাইহোক, বিষণ্ণতা চিকিৎসাযোগ্য, এবং মানুষ এটি থেকে বের হয়ে আসতে পারেন। জীবনযাত্রার পরিবর্তন এবং চিকিৎসা উভয়ই ব্যক্তিদের আরও ভাল বোধ করতে সহায়তা করতে পারে। সাধারণত, বিষণ্ণতা দূরীকরণ করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। বিষণ্ণতা বিরুদ্ধে প্রথম পদক্ষেপ নেওয়া সর্বদা সবচেয়ে কঠিন একটি কাজ হয়ে দাঁড়ায় কিন্তু নিচে বর্ণিত উপায় গুলো অবলম্বন করলে হয়তো বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াই করা আপনার জন্যে হয়তো আরও সহজ করে তুলবে,

বিষণ্ণতাকে জানুন এবং বিষণ্ণতার কারণ শনাক্ত করুন

একজন ব্যক্তি যত বেশি বিষণ্ণতা সম্পর্কে জানেন, তারা তত বেশি সক্ষম হবেন এমন একটি চিকিৎসা খুঁজে বের করা যা তাদের জন্য কাজ করে। এটি সাধারণভাবে বিষণ্ণতা সম্পর্কে শিখতে সহায়ক হতে পারে, এর কারণ এবং উপসর্গসহ। বিষণ্নতার কারণ বের করতে পারলে খুব সম্ভবত চিকিৎসকের সহায়তা ছাড়া আপনি নিজেই এর থেকে মুক্তির উপায় বের করে ফেলতে পারবেন

বিষণ্ণতার কারণ খুজে বের করা সর্বপ্রথম ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ। বিষণ্নতায় ভোগা মানুষগুলোর মধ্যে অধিকাংশই জানেন না যে, ঠিক কী কারণে তারা বিষণ্নতায় ভুগছেন কিংবা বিষণ্নতার যথাযথ কারণ নির্ণয় করতে ব্যর্থ হন। আপনি যদি এর সঠিক কারণই বের করতে না পারেন, তাহলে এর সমাধান কিছুতেই মিলবে না।

মানুষের জন্য তাদের নিজস্ব উপসর্গ এবং সতর্কীকরণ লক্ষণগুলি জানাও গুরুত্বপূর্ণ যাতে যদি তারা খারাপ বোধ করে তবে তারা এটি সনাক্ত করতে পারে। বিষণ্ণতা পর্বগুলি কীভাবে মানুষকে ক্ষতি করে তা জানা মানুষকে ট্রিগারগুলি এড়াতে বা পরিচালনা করতে সহায়তা করতে পারে, যা ভবিষ্যতের বিষণ্ণতা পর্বগুলি হ্রাস করতে পারে।

বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যদের শিক্ষিত করাও সাহায্য করতে পারে, কারণ প্রিয়জনরা সতর্কীকরণ চিহ্নগুলির দিকে নজর রাখতে পারে এবং যখন কোনও ব্যক্তির কঠিন সময় থাকে তখন সহায়ক হতে পারে।

ধ্যান অথবা শরীরচর্চা মূলক কাজ করা

শরীর ও মন পরস্পর সংযুক্ত। তাই আমাদের মনকে ভাল রাখতে হলে অবশ্যই আমাদের একটি সুস্থ শরীর বজায় রেখে চলতে হবে। যারা বিষণ্ণতায় আক্রান্ত তারা সক্রিয় হতে খুব বেশি অনুভব নাও করতে পারেন। তবে যেভাবেই হোক নিজেকে এটি করতে বাধ্য করুন।

কিছু শারীরিকভাবে নিঃসৃত হরমন রয়েছে যেগুলো আমাদের মন ভাল রাখতে ভূমিকা রাখে। এই হরমোনকে বলা হয় “এন্ড্রোফিন”। নিয়মিত শরীরচর্চা আমাদের দেহ থেকে এ হরমোন নিঃসরণে সাহায্য করে। যা মন ভাল রাখতে সাহায্য করে।

প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটুন অথবা আপনি পছন্দ করলে জগিং করুন কিংবা সাইকেল চালনা করুন। একবার আপনি ব্যায়ামের অভ্যাসে প্রবেশ করলে, আপনার মেজাজের পার্থক্য লক্ষ্য করতে বেশি সময় লাগবে না।

অ্যারোবিক ব্যায়াম করার পাশাপাশি, কিছু যোগব্যায়াম নিয়মিত করলে বিষণ্ণতার অনুভূতি থেকে মুক্তি দিতে সহায়তা করে। যোগব্যায়ামের আরও দুটি দিক শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং ধ্যান, বিষণ্ণতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের আরও ভাল বোধ করতে সহায়তা করতে পারে।

Related: Activities Which Help to Relieve Stress & Anxiety

নিজেকে নিজের পছন্দসই কাজে ব্যস্ত রাখা

Choosing Hobbies

বিষণ্ণতার সাথে, একজন ব্যক্তির সৃজনশীলতা এবং মজার অনুভূতি অবরুদ্ধ বলে মনে হতে পারে। বিষণ্ণতা কাটিয়ে উঠতে, আপনাকে এমন কিছু করতে হবে যা আপনাকে এবং আপনার মনকে শিথিল করে এবং উজ্জীবিত করে। এর মধ্যে রয়েছে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা অনুসরণ করা, কীভাবে চাপ আরও ভালভাবে পরিচালনা করতে হয় তা শেখা, আপনি কী করতে সক্ষম তার সীমা নির্ধারণ করা এবং আপনার দিনে মজাদার ক্রিয়াকলাপগুলি সময়সূচী করা।

আপনি যা উপভোগ করেন কিংবা করতে অভ্যস্ত তা করুন। যদিও আপনি নিজেকে মজা করতে বা আনন্দ অনুভব করতে বাধ্য করতে পারেন না কিন্তু আপনি নিজেকে জিনিসগুলি করার জন্য চাপ দিতে পারেন। এমনকি যদি আপনার বিষণ্ণতা অবিলম্বে না কেটে যায়, আপনি ধীরে ধীরে আরও উচ্ছ্বসিত এবং উদ্যমী বোধ করবেন যখন আপনি আপনার পছন্দসই ক্রিয়াকলাপের জন্য সময় বের করবেন।

আপনার পছন্দ মতো একটি প্রাক্তন শখ বা খেলা তুলে নিন। গান, চিত্রকলা কিংবা লেখার মাধ্যমে নিজেকে সৃজনশীলভাবে প্রকাশ করুন। বন্ধুদের সাথে বাইরে যান্। একটি জাদুঘর, পাহাড় বা বিনোদনকেন্দ্রে একদিনের জন্য ভ্রমণ করুন।

বিষণ্ণতার সাথে, একজন ব্যক্তির সৃজনশীলতা এবং মজার অনুভূতি অবরুদ্ধ বলে মনে হতে পারে। যখন আপনি আপনার কল্পনাশক্তি প্রকাশের অনুশীলন করেন, তখন আপনি কেবল সেই সৃজনশীলতা এর অনুভূতি অনুভব করবেন নাহ বরং আপনি কিছু ইতিবাচক আবেগও আলগা করেন। পোষা প্রাণীর সাথে খেলতে সময় নিন, অথবা নিজের জন্য মজা করার জন্য কিছু করুন।

হাসির মতো কিছু খুঁজুন যা হতে পারে একটি মজার সিনেমা কিংবা একটি হাস্যরসাত্মক অনুষ্ঠান, হাসি আপনার মেজাজ হালকা করতে সহায়তা করে। হাসি এন্ডোর্ফিন হরমোন নিঃসরণ করে বিষণ্ণতার প্রধান কারণ যে স্ট্রেস হরমোন তা নিঃসরণ কমিয়ে দেয়। এতে আপনি বিষণ্ণতাবোধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারেন খুব সহজে।

নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া

Care Yourself

বিষণ্ণতা একজন মানুষের খাদ্যাভ্যাসকে প্রভাবিত করতে পারে। কোনো কোনো ব্যক্তির খাওয়ার অনুভূতি নাও হতে পারে আবার কোনো কোনো ব্যক্তি অতিরিক্ত খেতে পারে। যদি বিষণ্ণতা আপনার খাওয়াকে প্রভাবিত করে, তবে আপনাকে সঠিক পুষ্টি পাওয়ার বিষয়ে অতিরিক্ত সচেতন হতে হবে। সঠিক পুষ্টি একজন ব্যক্তির মেজাজ এবং শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। সুতরাং প্রচুর ফল এবং শাকসবজি খান এবং নিয়মিত খাবার পানি পান করুন।

আপনি সুষম খাদ্যতালিকা বানিয়ে সেটা ফলো করতে পারেন আবার কয়েকটা খাবার খেতে পারেন যা তাৎক্ষণিকভাবে ডিপ্রেশন দূর করতে সহায়তা করে, যেমন চকোলেট সেরোটোনিন বুস্ট করে আমাদের মধ্যে হাসিখুশির অনুভূতি তৈরি করে। এছাড়া চা, কফিও বেশ ভালো বিষণ্নতার অনুভূতি কাটানোর জন্য। বিশেষ করে সামুদ্রিক মাছে যে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে, তা নিয়মিত গ্রহণ করলে সেটি বিষণ্নতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।

বিষণ্ণ অবস্থায় বিশেষ করে ঘুম এবং খাওয়ার প্রতি মনোযোগী হতে হবে। বেশি রাতজাগার অভ্যাস সাধারণত বিষণ্নতা বাড়িয়ে তোলে। তাই চেষ্টা করতে হবে বেশি রাত না জাগার এবং অন্তত ৬-৯ ঘন্টা ঘুমানোর। ভিটামিন বি, সি, ডি এবং আয়রনযুক্ত খাবার মন ও শরীর ভাল রাখতে সাহায্য করে।

নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মন ভালো করতে সহায়ক ভুমিকা পালন করে।ভালো ভালো মোটিভেশনাল বই যেগুলো আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেবে সেগুলো পড়ার অভ্যাস করা উচিত। বিশেষত কিছু কিছু বই আছে যেগুলো বিষণ্নতা টার্গেট করেই লেখা। এই বই গুলোতে দেওয়া থাকে কীভাবে আপনার মানসিক অবস্থার পরিবর্তন করবেন, বিষণ্নতার সাথে মানিয়ে নেবেন আর জয় করবেন এই জীবনঘাতি ব্যাধিকে।

Related: Nutrition for Busy People

ইতিবাচক চিন্তা করা

Positive Thinking

বিষণ্নতা একজন ব্যক্তির চিন্তাকে প্রভাবিত করে, যা সবকিছুকে হতাশাজনক, নেতিবাচক এবং আশাহীন বলে মনে করে। যদি বিষণ্নতার ফলে আপনি শুধুমাত্র আপনার জীবনে নেতিবাচক জিনিসগুলো লক্ষ্য করেন তবে খুব দ্রুতই জীবনের ভাল জিনিস লক্ষ্য করার চেষ্টা করুন। আপনার শক্তি, উপহার বা আশীর্বাদ বিবেচনা করুন। যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের উপরে ধৈর্য ধরতে ভুলবেন না। বিষণ্ণতা নিরাময় করতে সময় নেয়।

বিষণ্ন অবস্থায় যা সর্বপ্রথমে করা উচিত তা হল যত বাধাই থাকুক, যত নেতিবাচক চিন্তা ভাবনাই আসুক আমাদের সবার আগে নিজেদের মাঝে ইতিবাচকতার আলো জ্বালাতে হবে। নিজের মধ্যে থেকেই ইতিবাচকতা খুঁজে বের করতে হবে।একমাত্র তখনই নেতিবাচকতাকে দূর করা সম্ভব।

যেসব তিক্ত অনুভূতি আপনার মন খারাপ করে দেয়, সেগুলোকে এড়িয়ে না গিয়ে মোকাবেলা করুন। আপনার বিষণ্ণতায় অবদান রেখেছে এমন যে কোনও পরিস্থিতি সনাক্ত করুন। এতে আপনার মানসিক বল বাড়বে এবং দীর্ঘমেয়াদে বিষণ্নতা কাটিয়ে ওঠা সহজ হবে।

আপনি তিক্ত অনুভূতিগুলোকে যতোই এড়িয়ে যেতে চেষ্টা করবেন, সেগুলো ততই আপনাকে পেয়ে বসবে এবং আরো বেশি বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দেবে। এরচেয়ে বরং সেগুলোকে মোকাবেলা করে সেগুলোর সাথে অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া ভালো।

আপনি যখন জানেন যে আপনি কখন বিষণ্নতা অনুভব করছেন এবং কেন করছেন, তখন একজন যত্নশীল বন্ধুর সাথে এটি সম্পর্কে কথা বলুন। কথা বলা অনুভূতিগুলি প্রকাশ করার এবং কিছুটা বোঝাপড়া পাওয়ার একটি উপায়। আপনার সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নিন।

Related: Ease Your Life by Thinking Positive

শেষকথা

বিষণ্নতা একটি নিরাময়যোগ্য মানসিক ব্যাধি। একাকিত্বের এবং বিষণ্নতার বোঝা নিয়ে নিজেকে এবং নিজের জীবন শেষ করে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। জীবন একটাই, এটাকে সুন্দর রাখুন, সুখী জীবন-যাপন করুন। নিজে সাহায্য নিন, অন্যের সাহায্যে হাত বাড়িয়ে দিন।

বিষণ্নতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে আপনি নিজেকে সহায়তা করতে পারবেন যদি আপনি আপনার আবেগের উপর, আপনার আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে সক্ষম হন। মানুষের সব কাজের উৎস তাঁর মস্তিষ্ক,তাই মস্তিষ্কের সাথে মানুষের আবেগ দ্বারা প্রভাবিত আচরণের’ বিষয়টি অন্যতম।

আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা কি? কিংবা কিভাবে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার আপনাকে জীবনে বিষণ্নতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করবে? কিভাবে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার যথাযথ প্রকাশ আপনার জীবন থেকে বিষণ্নতার মত ব্যাধিকে দূরে রাখতে সহায়তা করে জানতে চাইলে এখনি নিজেকে ইনরোল করে ফেলুন আমাদের “Emotional Intelligence” কোর্সটিতে।

এই কোর্সটি আপনাকে শুধু বিষণ্নতার বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করবে এমন না, বরং এই কোর্স করার মাধ্যমে আপনি কিভাবে নিবে নিজের আবেগ এর উপরে নিয়ন্ত্রণ করবেন কিংবা কিভাবে নিজের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তাকে শাণিত করবেন তার সম্পর্কেও জানতে পারবেন।

তাহলে আর দেরী কেন?? অতি দ্রুত রেজিস্টার করে ফেলুন “Emotional Intelligence” কোর্সে এবং একবিংশ শতাব্দীতে বিষণ্ণতার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখুন। সবসময় মনে রাখবেন বিষণ্ণতা কখনোই হাসির বিষয় নয় এবং এটি সর্ব অবস্থায় নিয়াময়যোগ্য। কোর্সে কী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে সে সম্পর্কে আরও তথ্যের জন্য এবং কোর্সে নাম লেখাতে নীচের বাটনে ক্লিক করুন এখনই।

leave your comment