For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে নিবে

বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষার প্রস্তুতি যেভাবে নিবে

স্কুল-কলেজ জীবনে নিয়মের কড়াকড়ি থেকে মুক্তি পেতে কম-বেশি সকল শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অপেক্ষায় থাকে। কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে এই বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যায়ের শুরুটা মোটেও সহজ নয়। দেশে পাব্লিক মেডিকেল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিট সংখ্যা সীমিত হওয়ায়, শিক্ষার্থীদের বেশ যুদ্ধ করেই চান্স পেতে হয়। তাই তো এই ভর্তিপরীক্ষাগুলোকে কেউ কেউ “ভর্তিযুদ্ধ”-ও বলে থাকেন।

সাধারণত এইচএসসি পরীক্ষা শেষ হওয়ার তিন-চার মাস পর থেকে এই ভর্তিপরীক্ষাগুলো শুরু হয়। কিন্তু চলতি বছর করোনা ভাইরাসের কারণে যেহেতু এখনো এইচএসসি পরীক্ষা হয় নি, তাই এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতির সাথে সাথে ভর্তি পরীক্ষার জন্যেও নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে। অনেকেরই মনে হতে পারে দু’টোর প্রস্তুতি একসাথে নেয়া সম্ভব না। এটি পুরোপুরি সত্য নয়। আজকের এই লেখায় কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষার জন্য ভালমতো প্রস্তুতি নেয়া যায় – সেটি নিয়েই বলতে যাচ্ছি।

১. লক্ষ্য নির্ধারণ


যদিও এই কাজটা ক্লাস নাইন-টেন কিংবা ইন্টারমিডিয়েট ফার্স্ট-সেকেন্ড ইয়ারেই করে ফেলার কথা, কিন্তু অনেকেই থাকে যারা শেষ মুহুর্তে এসে লক্ষ্য নির্ধারণ করে। সাধারণত কমার্স বা আর্টসের শিক্ষার্থীদের খুব বেশি অপশন হাতে থাকে না, কিন্তু বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা এই লক্ষ্য নির্ধারণ নিয়ে নানা কনফিউশনে ভুগতে থাকে। এরকমটা হলে – নিজেকে প্রশ্ন করো, তুমি কী চাও! এক্ষেত্রে চাওয়াটা বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক না হয়ে, বিষয় ভিত্তিক হলেই ভাল হয়। প্রস্তুতির একদম শুরু থেকেই যদি তোমার লক্ষ্য নির্ধারিত না থাকে, তুমি কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারবে না! নিজের ইচ্ছা যদি স্ট্রং হয় আর বাবা-মা বা পরিবারের ইচ্ছা হয় অন্য কিছু যেটাতে তোমার নিজের খুব একটা ইচ্ছা নেই,এমন হলে অবশ্যই পরিবারকে বুঝানোর চেষ্টা করা উচিৎ। সব মিলিয়ে একটা নির্দিষ্ট গোল সেট করে কোমর বেঁধে লাগতে হবে!

২. টেক্সট বুক-ই প্রকৃত বন্ধু

এইচএসসি হোক আর ভর্তিপরীক্ষা! দু’টির কোনোটিতেই কিন্তু তোমার টেক্সট বুক বা সিলেবাসের বাইরের কোনো টপিক থেকে কোশ্চেন আসবে না। তাই লাইন বাই লাইন টেক্সট বুক পড়তে হবে। এক্ষেত্রে “কোন লেখকের বই পড়ব?” নিয়েও অনেকে কনফিউশনে ভোগে। সবচেয়ে ভাল হয়, তুমি কলেজ লাইফে যে বইটি পড়ে এসেছো, সেটিই আবার ভালমতো পড়লে। নতুন সংস্করণগুলোতে যেসব ইনফরমেশন বা টপিক এড হয়েছে, সেগুলো অন্য কোনো বই থেকে পড়ে নিতে পারো। ‘পড়া’ মানে কিন্তু মুখস্ত করা না! যা পড়ছো, তা অবশ্যই বুঝতে হবে। তুমি যে বিভাগের শিক্ষার্থী সেই বিভাগের মূল বিষয়গুলোর ব্যাপারে যথাসম্ভব স্বচ্ছ ধারণা রাখতে হবে। অন্তত ভর্তি পরীক্ষায় না বুঝে গাদা গাদা সূত্র মুখস্ত করে খুব একটা লাভ হয় না। দেখা যায় একটু ঘুরিয়ে প্রশ্ন করা হলেই অনেকেই না বুঝে ঝটপট ভুল উত্তর দিয়ে ফেলে আর এতে করে নেগেটিভ মার্কিংয়ের শিকার হয়!

৩. প্র্যাকটিস, প্র্যাকটিস এবং প্র্যাকটিস

যেকোনো পড়াশোনা আমাদের মস্তিষ্কের লং-টার্ম মেমরিতে স্থান দেয়ার মূলমন্ত্র একটাই! আর সেটা হল প্র‍্যাক্টিস। একটা জিনিস বুঝে শুনে যত বেশি প্র‍্যাক্টিস করবে, যত ভ্যারিয়েশনের প্রব্লেম সলভ করবে, মস্তিষ্কের সিন্যাপ্সগুলো তত শক্তিশালী হবে। এইচএসসিতে সাধারণত একটু বড় আকারের সমস্যাগুলো আসে আর ভর্তিপরীক্ষায় সাধারণত মোটামুটি স্ট্যান্ডার্ড সাইজের সমস্যাগুলো দিয়ে থাকে। প্রত্যেক বিষয়ের প্রতিটা চ্যাপ্টার পড়ে সবরকম সমস্যা বুঝে বুঝে সলভ করতে থাকলে একই সাথে এইচএসসি এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষার রিটেন পার্টের প্রিপারেশন হয়ে যাবে। অব্জেক্টিভের জন্য সাধারণত কিছু শর্টকাট শিখলে দ্রুত এন্সার করা যায়, তাই বলে গাদা গাদা শর্টকাট মাথায় নিয়ে মেইন কন্সেপ্ট ভুলে গেলে কিন্তু চলবে না। মনে মনে কয়েক লাইন স্কিপ করে সমস্যা সমাধান করার দক্ষতা অর্জন করতে হবেম আর এগুলোর কোনোটির জন্যই প্র‍্যাক্টিসের কোনো বিকল্প নেই!

৪. প্রশ্নব্যাংক অনুসরণ


এইচএসসির জন্য যেমন টেস্ট-পেপার, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তিপরীক্ষার জন্য থাকে কোশ্চেন-ব্যাংক। বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন দেখলে সাধারণত ধারণা পাওয়া যায় কোথায় কী রকম প্রশ্ন হয়। অধ্যায়ভিত্তিক প্রিপারেশন বা রিভিশনের সাথে সাথে মাঝেমধ্যে প্রশ্নব্যাংক নাড়াচাড়া করা উচিৎ। নিয়মিত না হলেও সপ্তাহে অন্তত তিনদিন ঘড়িতে সময় ধরে একটা ফুল-সেট কোশ্চেন সলভ করলে কোনো পরীক্ষায় অন্তত সময় সংকটে ভুগতে হবে না।

৫. সাধারণ জ্ঞানে অসাধারণ হতে

তোমাদের মধ্যে যারা মেডিকেলে পড়তে আগ্রহী কিংবা নিজ বিভাগের বাইরে অন্য বিভাগের বিষয় নিয়ে পড়তে (বিভাগ পরিবর্তন ইউনিট) চাও, তাদের জন্য আবশ্যিক কাজ হচ্ছে সাধারণ জ্ঞানটাকে ঝালাই করে নেয়া। এজন্য প্রথমত নিয়মিত খবরের কাগজ পড়তে হবে। প্রথম,শেষ,সম্পাদকীয়,অর্থনীতি,আন্তর্জাতিক – অন্তত এই ৫টি পাতা পড়তেই হবে! কারণ সাম্প্রতিক বিষয়গুলো থেকেই বেশিরভাগ প্রশ্ন থাকে। সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য আরেকটি সহায়ক হতে পারে কারেন্ট এফেয়ার্স। এছাড়াও এমপিথ্রি,নতুন বিশ্ব-র মত বইগুলোর একদম নতুন সংস্করণ থেকে গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো (যেমন সংবিধান,ব্রিটিশ শাসন,গুরুত্বপূর্ণ সাল,ভূগোল,বাংলাদেশ,আন্তর্জাতিক ইত্যাদি) পড়ে নিতে হবে।

৬. নিয়মানুবর্তিতা ও আত্মবিশ্বাস

যে কোনো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতি অনেকটাই নিয়মানুবর্তিতার উপর নির্ভর করে। একদিন ৮-১০ ঘন্টা পড়ে পরবর্তী ৩-৪ দিন পড়াশোনা থেকে দূরে থাকলে কোনো লাভই হবে না! এরচেয়ে দিনে ৩-৪ ঘন্টা করে নিয়মিত পড়া অধিক কার্যকরী। যদিও ঘন্টার হিসেবে না পড়ে, সিলেবাসের নির্দিষ্ট টার্গেট সেট করে পড়া বেশি ভাল। আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আত্মবিশ্বাস। সিট সংখ্যা সীমিত হওয়ায় অনেকেই ভয়ে থাকে সে চান্স পাবে কিনা। বিভিন্ন মডেল টেস্টে অন্যান্যদের অনেক বেশি মার্কস দেখেও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। এ ধরনের তুলনা করার অভ্যাস বাদ দিতে হবে। নিয়মিত অনুশীলনের পাশাপাশি নিজের উপর বিশ্বাস রাখাটাও অনেক বেশি জরুরি। নতুবা অনেক বেশি পড়াশোনা করেও আশানুরূপ ফলাফল পাওয়া যায় না। আবার ওভার-কনফিডেন্সও যাতে না হয়ে যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

সবশেষে বলতেই হয় এই বছরটা এইচএসসি এবং ভর্তি পরীক্ষার্থীদের জন্য আসলেই একটু কঠিন। তবে কোনোকিছুই কিন্তু অসাধ্য নয়। এখন তো বেশিরভাগ বিশ্ববিদ্যালয়ে লিখিত পরীক্ষাই হয়। তাই নিজের নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী ভর্তি পরীক্ষার মূল বিষয়গুলোতে একটু জোর দিয়ে বেসিক আইডিয়াগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা রাখতে পারলেই মোটামুটি ৭০% কাজ হয়ে যায়। বাকি ৩০% কাজ হচ্ছে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে দ্রুততা অর্জন। সাথে যথাযথ আত্মবিশ্বাস রাখতে পারলে এই কঠিন সময়টাকে সহজে পার করে ফেলা অসম্ভব কিছু না।

leave your comment