For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
বর্তমান প্রেক্ষাপট অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম

বর্তমান প্রেক্ষাপট অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম

বর্তমান প্রেক্ষাপট আলোচনা করলে প্রথমেই যেই বিষয়টি মাথায় আসে তা হলো এই করোনা মহামারী।এই করোনো মহামারীতে বিশ্ব যেমন থমকে দাড়িয়েছে তেমনি থমকে গিয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।করোনা যেমন বিশ্বকে গৃহ বন্দি করে দিয়েছে ঠিক তেমনি ঘরে বসে মানুষ এখন বিকল্পব্যবস্থা খুঁজে নিচ্ছে।অন্যান্য কাজের মতই শিক্ষা কার্যক্রম এখন অনলাইনে ঘরে বসে করা যায়। বহুল প্রচলিত এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমটি অতি প্রাচীন না হলেও সাম্প্রতিকও নয়। করোনা উদ্ভব হওয়ার আগেও পশ্চাত্যের অনেক দেশে শিক্ষা কার্যক্রম অনলাইনে চালু করেছেন। বিভিন্ন তথ্য মতে- ২০০০সালের প্রথম দশক থেকেই যুক্তরাজ্যের বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি অধিক সুবিধার্থে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালু করেছে।
এই করোনা মহামারীকে উপেক্ষা করে শিক্ষা ব্যবস্থাকে গতিশীল রাখতে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের বিকল্প নেই। আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স বা মেশিন লার্নিং এবং ই-লার্নিং বর্তমানে শিক্ষার্থীদের যথোপযুক্ত শিক্ষা দিতে সক্ষম।এই শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক ও নেতিবাচক উভয় দিক রয়েছে।
অনলাইন শিক্ষার ইতিবাচক দিকসমূহঃ
▪️প্রবাদে আছে-নাই মামার চেয়ে কানা মামা ভালো।তাই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে সাদুবাদ জানাই। এই মহামারীতে শিক্ষার্থীরা মানসিক সাপোর্ট হিসাবে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমকে কাজে লাগিয়ে উপকৃত হচ্ছেন।
▪️শিক্ষক শিক্ষার্থীর মাঝে অনলাইন পাঠদানে এক অন্যরকম বন্ধন তৈরি হচ্ছে।সাধারণত ক্লাসে অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী থাকায় আলাদা ভাবে শিক্ষার্থীদের যত্ন নেওয়া সম্ভব হয় না কিন্তু অনলাইন ক্লাসে প্রতি শিক্ষার্থীর সাথে কানেক্ট থাকা যাচ্ছে।
▪️অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম বা পাঠদানে ছাত্র-শিক্ষক উভয়ই নতুন নতুন প্রযুক্তি ও ই-লার্নিং সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারছেন। কেননা ক্লাসের পূর্বে শিক্ষকরা প্রশিক্ষণ গ্রহণ করছেন এবং শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহারে ক্লাসের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছে।তাই উভয়ী নতুনভাবে অনলাইন ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জন করতে পারছেন।
▪️করোনায় সারাদিন ঘরে বসে থাকার এই কঠিন প্রবণতা থেকে কোমলমতি শিক্ষার্থীর জীবনে এক অভিনব পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।এখন অনলাইন ক্লাসের জন্য শিক্ষার্থীরা সময়মতো ঘুম থেকে উঠছে এবং নিয়মানুবর্তিতায় দিন কাটাচ্ছে যা শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক উভয় দিকের ইতিবাচক প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হচ্ছে।
▪️এই অনলাইন শিক্ষা কার্ক্রমের ফলে ঘরে বসেই পাঠদান ও পাঠগ্রহণ করা যাচ্ছে তাই শিক্ষার্থী,অভিভাবক ও শিক্ষকদের মাঝে এক স্বস্তির আভাস নিয়ে এসেছে।
▪️শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো জ্ঞান অর্জন।আর এই জ্ঞান অর্জনের প্রতিবন্ধকতা স্বরূপ বর্তামান করোনা প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম এক নতুন ধারার সংযোজন সৃষ্টি করেছে।
অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের নেতিবাচক দিকসমূহঃ
▪️অনলাইন শিক্ষার জন্য মূলত একজন শিক্ষার্থীর দরকার মুঠোফোন, কম্পিউটার এবং ইন্টারনেট সংযোগ। দেশের কিছু সংখ্যক ছাত্রছাত্রী গ্রাম,চর,হাওড় ও দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় বসবাস করে এমন শিক্ষার্থীরা এই অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
▪️কিছু পরিবার এই মহামারীতে তাদের সংসার ঠিকমত চালাতে পারছেন না যেখানে ইন্টারনেট খরচ বহন করা খুবই কষ্টকর হয়ে পরছে।
▪️দেশের নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা সকল জায়গায় একরকম না হওয়ায় দেখা দিচ্ছে নানা সমস্যা।ভিডিও-অডিও কলিং কানেক্ট হতে সময় লাগে যার জন্য শিক্ষার্থীরা পাঠে মনোযোগী হতে পারে না।
▪️অনলাইন ক্লাসে পড়াশুনা ফাঁকি দেওয়ার অনেক সুযোগ রয়েছে।যা শিক্ষার্থীর পড়াশুনার ভাবধারায় নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে।
▪️বিভিন্ন সমস্যা জর্জরিত হয়ে শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা অনলাইন কার্যক্রমের আগ্রহ হারাচ্ছেন।
অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণে করণীয়ঃ
বর্তমান বিশ্বে অন্যান্য দেশের সাথে তাল মিলিয়ে আধুনিকতাকে কাজে লাগিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন নিয়ে এসেছে।এক্ষেত্রে –
▪️শিক্ষক শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে অনলাইন শিক্ষার সরঞ্জাম স্মার্টফোন, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সেবা প্রদান করতে হবে।
▪️দেশের সকল জায়গায় প্রতি জেলা ও উপজেলায় ইন্টারনেট সেবার মান সমতা রাখতে হবে। ফোর-জি কানেক্ট ইন্টারনেট ব্যবস্থা সকল জায়গায় দিতে হবে।
▪️প্রতি জেলা ও উপজেলায় শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে শক্তিশালী মোবাইল নেটওয়ার্ক বিস্তার করতে যথাযত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।এবং স্টুডেন্ট ডাটা পেকেজ বা ফ্রী ডাটা সুবিধা ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
▪️যেসকল শিক্ষার্থীরা অস্বচ্ছল ও টিউশনি করে পরিবারকে সহায়তা করে সেসকল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে শিক্ষাবৃত্তির আওতায় নিয়ে আসা।
▪️ কোনো শিক্ষার্থী যেন অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত না হয়।এমন লক্ষে সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিৎ। নাহয় হাজারো মেধাবী মুখ হারিয়ে যাবে।এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি বিনিয়োগ করা উচিৎ শিক্ষাখাতে।
▪️বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের অনেককিছুই নিজের ইচ্ছার বিরুদ্ধে করতে বাধ্য করছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীসমাজও এর ব্যতিক্রম নয়।তাই এইসময় শিক্ষার্থীদের অভিভাবকগণ বিশেষ দৃষ্টি জ্ঞাপন করবেন।বর্তমান সময়টাকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতেকে গড়ে তুলতে হবে।
▪️আমরা জেনেশুনে শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রযুক্তি হাতে তুলে দিচ্ছি।সেদিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।যেন শিক্ষার্থীরা এই প্রযুক্তি ব্যবহারে অতিরিক্ত আসক্ত হয়ে না পরে।
▪️অনলাইন কার্যক্রমের যেমন ভালো দিক রয়েছে তেমনি কিছু খারাপ দিক থাকে তাই খারাপকে বর্জন করে ভালো দিক গ্রহণ করতে শিক্ষাক,শিক্ষার্থী ও অভিবাবক মহলকে সচেতন হতে হবে।
সর্বোপরী যেকোন দিকেরই ইতিবাচক নেতিবাচক উভয় দিক থাকে। করণীয় হলো নেতিবাচক দিকগুলোকে বর্জন করে ইতিবাচক দিকগুলো প্রাধান্য দেওয়া। সকলের উচিৎ এই মহামারীর সময়টা মাথায় রেখে সময়ের ইতিবাচক ব্যবহার নিশ্চিত করে ভবিষ্যতকে সুন্দর করে গড়ে তোলার লক্ষে ই-লার্নিং বা অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রমের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে উপকৃত হওয়া এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে স্বাভাবিক রূপে ফিরে পাওয়ার প্রার্থণা করা।

leave your comment