For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
“ফ্রিল্যান্সিং করার আগে যা যা চিন্তা করবেন”

“ফ্রিল্যান্সিং করার আগে যা যা চিন্তা করবেন”

বর্তমান সময়ে ঘরে বসে আয় করার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং।চাকরির চেয়ে অনেক কম সময় এবং পরিশ্রমে আয় করা যায় এর মাধ্যমে। এখানে রয়েছে কাজ করার অবাধ স্বাধীনতা।কাজের স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি কাজের স্থান ও সময়ের কোনো বাঁধাধরা নিয়ম থাকে না এই পেশা সকলের নিকটই অনেকটা গ্রহনযোগ্য।
 
কিন্তু অনেকে ফ্রিল্যান্সিং কি জানলেও এর বাধা এবং চ্যালেন্জগুলো সম্পর্কে জানে নাহ।কিন্তু এ পেশায় প্রবেশ করার ক্ষেত্রে এসব বাধা এবং চ্যালেন্জগুলো সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী।সামাজিক স্বীকৃতি, সময়, রাত জেগে কাজ করার এবং অসুস্থ হয়ে পড়ার আশঙ্কা এরকম অনেক চ্যালেন্জগুলো ফ্রিল্যান্সিং এর সাথে সম্পর্কিত।
 
বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সার মনে করেন যে ফ্রিল্যান্সিং অনেক সময়সাপেক্ষ এবং কঠিন পরিশ্রমের কাজ।এছাড়া চাকরিতে যেমন ধরা বাধা সময়ে কাজ সম্পন্ন করা লাগে এবং নিদিষ্ট মাসের সময়ের পর বেতন দেয়া হয়, এদিক থেকে ফ্রিল্যান্সিং একটু ভিন্ন।সব সময় ফ্রিল্যান্সিং এর কাজ নাও থাকতে পারে। ফলে কাজের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা লাগে।সুতরাং যারা চিন্তা করছেন যে নতুন করে ফ্রিল্যান্সিং পেশায় ঢুকবেন বা চাকরি ছেড়ে ফ্রিল্যান্সিং করবেন তাদের জন্য কিছু বিষয় জেনে রাখা খুবই জরুরী।বিষয়গুলো হলোঃ
 

একাকিত্ব:

ফ্রিল্যান্সিং এমন এক পেশা যা আপনাকে একা করে দিবে।মানে একাকিত্বে থাকতে হবে আপনাকে।ভাবছেন কিভাবে? ফ্রিল্যান্সিং এ কোনো নিদিষ্ট সময় নেই।যার কারনে যেকোনো সময় আপনাকে কাজ করতে হবে।এদিক থেকে আপনার জীবনযাপন অন্যের থেকে আলাদা হয়ে যাবে।বন্ধুবান্ধব কে আগের মতো সময় দিতে পারবেন নাহ।রাত জেগে বা দিনের বেশিরভাগ সময় কাজ করা লাগবে।আবার বাসায় কাজের পরিবেশ নাও পেতে পারেন অফিসের মতো।আপনার কাজে কোনো সহকর্মী না থাকার কারনে অফিসে যাওয়া-আসা কিংবা কাজের চাপ থাকবে নাহ।হয়তো তাত্বিকভাবে এটা আপনার ভালো লাগতে পারে কিন্তু এটা মোটেও ভালো লাগার জিনিস নাহ।কারন,এরকম হলে আপনি পুরোপুরি একা হয়ে যাবেন।এই একাকিত্ব দূর করার জন্য আপনার ভাবা লাগবে, আপনার ভালো লাগা জিনিসগুলো খুঁজে বের করা লাগবে।মোট কথায় আপনার সাপোর্ট নেটওয়ার্ক থাকা জরুরী।যখন কাজ থাকবে নাহ তখন বন্ধুবান্ধবদের সাথে আড্ডা দিবেন।পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বেন না।এমনকি আত্মীয়স্বজনদের সাথে যোগাযোগ রাখবেন।এসব আপনাকে আপনার একাকিত্ব থেকে দূরে রাখবে।

ভবিষ্যতের কথা ভেবে সঞ্চয়ঃ

সরকারি চাকরিতে বয়সসীমার পর পেনশনের সুবিধা থাকে। আবার বড় বড় কোম্পানিতে বেতন ও ট্যাক্সের মতো বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেয়া হয়।কিন্তু ফ্রিল্যান্সিং তো একদম স্বাধীন।এখানে আপনি ইচ্ছেমতো যেমন আয় করতে পারবেন ঠিক তেমনি ব্যয় করতে পারবেন।সুতরাং ইচ্ছেমতো অযথা খরচ না করে নিজের অর্থ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিজেকেই নেয়া লাগবে।সরকারি চাকরির মতো চাকরি শেষ যেমন পেনশন সুবিদা থাকবে, ঠিক তেমনি ফ্রিল্যান্সিং করে ভবিষ্যতের জন্য অর্থ সঞ্চয় করলে আপনাকে আর তখন কষ্ট করা লাগবে না বা দুশ্চিন্তা করা লাগবে নাহ।এক্ষেত্রে ফ্রিল্যান্সিং এবং অর্থ সঞ্চয়ের ক্ষেত্রে সচেতন হতে হবে।

আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রাখাঃ

চাকরিতে মাস শেষে যেমন বেতন আসে ফ্রিল্যান্সিংয়ে কিন্তু তেমন না।আপনার কাজ করার উপর আপনার আয় নির্ভর করে আবার তার উপর নির্ভর করবে আপনার ব্যয়।ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করলে অর্থ পাবেন।যদি কাজ না করেন তাহলে অর্থ আসবে নাহ।তাই আয় বুঝে ব্যয় করার চেষ্টা করুন।কোন মাসে কত আয় করবেন,তারও কোনো বাঁধাধরা নিয়ম থাকে নাহ।কোন মাসে বেশি আয় আবার কম আয় সেটা নির্ধারিত নাহ।তাই একজন ফ্রিল্যান্সারের উচিত তার আয় এবং ব্যয়ের ক্ষেকে সামঞ্জস্য রাখা।

নিজের দক্ষতা বাড়ানঃ

যারা ফ্রিল্যান্সিংয়ে নতুন তাদের জন্য অবশ্যসম্ভাবী হচ্ছে নিজের দক্ষতা বাড়ানো।স্বাভাবিকভাবে তার জন্য ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস বেশ কঠিন।কাজ পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।তবে যারা অনেক আগে থেকেই ফ্রীল্যান্সিং করে আসছেন কিংবা প্রতিষ্ঠিত তাদের জন্য সুবিধা বেড়েছে।তাই যারা কাজ খুঁজছেন তারা নিজেদের পোর্টফোলিও তৈরি করুন।শুরুতেই কঠিন পরিশ্রম করুন।নিজের দক্ষতা দিয়ে ক্লায়েন্টকে মুগ্ধ করুন।পেশাদার আচরন করুন।আপনি যে কাজে দক্ষ সেটা আরো ভালোভাবে আয়ত্বে আনার চেষ্টা করুন।এটাই আপনার উন্নতির চাবিকাঠি। আপনি যখন অন্যের থেকে বেশি দক্ষ হবেন,আপনি ঠিক ততটাই সফল হবেন।

কাজ করুন নিজের দক্ষতা অনুযায়ীঃ

যে কেও চাইলেই কোনো রকম দক্ষতা ছাড়া ফ্রিল্যান্সিং শুরু করে দিতে পারবেন নাহ।আগে আপনাকে ভাবতে হবে যে আপনার দক্ষতা ফ্রিল্যান্সার হওয়ার জন্য উপযুক্ত কিনা।কিন্তু মনে রাখবেন, ফ্রিল্যান্সিং দক্ষদের প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র।এখানে আপনাকে নিজের দক্ষতা প্রমান করে টিকে থাকতে হবে।ফলে কম দক্ষতা নিয়ে এখানে টিকে থাকা কঠিন।তাই কাজ এবং দক্ষতা না ঠিক করে এ পেশায় আসা মোটেও সুখকর হবেনা।বাড়িতে বসে কাজ করা এবং বেশি ইনকাম করা আকর্ষনীয় হতে পারে কিন্তু শুরুর আগে এ সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারনা অনুধাবন করে এ ক্যারিয়ারে আসতে হবে।ফাইবার,আপওয়ার্কের মতো প্লাটফর্মগুলোর জন্য দিনদিন ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।এর মধ্যে ক্রিয়েটিভ ইন্ডাস্ট্রি, যেমন ডিজাইন, মিউজিক ও অডিওর পাশাপাশি প্রোগ্রামিং ও টেক খাতে ফ্রিল্যান্সারদের ব্যাপক কাজের সুযোগ রয়েছে।তবে সব ভালো মনে হলেও নিজে কোনটিতে দক্ষ এবং অভিজ্ঞ সেদিক ভেবে আগানো উচিত।

সফট স্কিল ডেভেলপমেন্টঃ

ফ্রিল্যান্সিংয়ে দক্ষ হলেই চলবে নাহ আপনাকে আরো অনেক বিষয়ে দক্ষ হতে হবে।এক কথায়,আপনার সফট স্কিল ডেভেলপ করা লাগবে।যেমন,নেটওয়ার্কিং,কমিউনিকেশন,টাইম ম্যানেজমেন্ট ইত্যাদি।এছাড়া আপনাকে ইংরেজিতেও দক্ষ হতে হবে।ফ্রিল্যান্সিংয়ের ক্লায়েন্টগুলোর বেশিরভাগ ই অন্য দেশের হয়ে থাকে যার জন্য অন্যতম দিক হচ্ছে ইংরেজিতে দক্ষ হওয়া।কারন,আপনার ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগের মাধ্যম হচ্ছে ইংরেজি।তাই যদি আপনি ইংরেজিতে দক্ষ হোন তাহলে আপনার ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগের কোনো অস্বস্তিও থাকবে নাহ।

নিখুঁতভাবে কাজ করাঃ

কোনো কাজে সফল হওয়ার একটি অন্যতম দিক হচ্ছে নিজের কাজকে খুব নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করা।সেক্ষেত্রে আরো একটি জিনিসের খেয়াল রাখতে হবে যেনো ক্লায়েন্ট সন্তুষ্ট হয়।ক্লায়েন্টের রুচিকে প্রাধান্য দিতে হবে সবার আগে।এবং ডেডলাইনেরও খেয়াল রাখতে হবে।যেন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপনি কাজটি শেষ করতে পারেন।কাজ সংক্রান্ত যখন ক্লায়েন্টের সাথে যোগাযোগ করবেন তখন যথাসম্ভব ভালো এবং মার্জিত ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন।যাতে আপনার ক্লায়েন্ট মুগ্ধ হয়ে পরবতী নতুন যেকোনো প্রজেক্ট আপনাকে দিতে বাধ্য হয় বা আগ্রহ প্রকাশ করে।

নিজস্ব প্রনোদোনাঃ

অনেক সময় আমাদের কোনো কাজে সফল হওয়ার একটি বৃহৎ নিয়ামক হচ্ছে প্রনোদোনা।খারাপ কাজও ভালো হয় এর ফলে।ফ্রিল্যান্সিংয়ে কাজ করলে আপনার কখনো হতাশ হওয়া লাগবে।এক্ষেত্রে আপনাকে নিজের মোটিভেটর নিজেকেই হওয়া লাগবে।ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনি নিজেই ব্যবসার মালিক, নিজেই ব্যবস্থাপক এমনকি নিজেই হিসাবরক্ষক। নিজের মধ্যেই সকল কিছুর পরিকল্পনা করা লাগবে।যেমন কখন,কোন সময়ের মধ্যে কাজ করা লাগবে সেটা নিজেরই ঠিক করা লাগবে।ক্লায়েন্টের প্রত্যাশা পূরন করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা লাগবে।অথার্ৎ সব সময় নিজেকে কাজের চাপ, নিজের সফলতার দিকে মনোযোগী হতে হবে।অনেক সময় কাজ থাকবে না, সেটা দেখে ভেঙ্গে পড়লে চলবে নাহ।মনে রাখবে হবে, ভালো-খারাপই জীবনের অংশ।নিজেকে প্রনোদিত করতে হবে নিজেরই।নিজের প্রতি আপনি যত আত্মবিশ্বাসী হবেন তত আপনি সফল হতে পারবেন।নিজের অধ্যাবসায়, কঠোর পরিশ্রম, শৃঙ্খলা দিয়ে নিজেকে এগিয়ে রাখতে হবে।
 
সর্বোপরি ফ্রিল্যান্সিংয়ে আপনার দক্ষতা, ধৈর্যই পারবে আপনাকে সফলতা এনে দিতে।সুতরাং ফ্রিল্যান্সিংকে পেশা হিসেবে নেয়ার আগে উপরোক্ত বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন।সফলতা আপনার ই আসবে।
 
leave your comment