For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
জেনে নিন জনপ্রিয় সব বাংলা ফন্টগুলো

জেনে নিন জনপ্রিয় সব বাংলা ফন্টগুলো

বিশ্বের একমাত্র বাঙালি জাতিকেই তার মাতৃভাষার জন্য যুদ্ধ করে প্রাণ দিতে হয়েছে। রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলা ভাষা বাঙালি জাতির পরিচয়,বাঙালি জাতির অহংকার,বাঙালীর স্বাধীনতা।

এই বাংলা ভাষা বর্তমানে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে গেছে।বিশ্ব জুড়ে কোটি কোটি বাঙালী ডিজিটাল মাধ্যমগুলোতে বাংলা লিখছেন,কাজ করছেন অনবরত। আর এই বাংলা ভাষাকে মার্জিত করে তুলছে বাংলা ফন্টগুলো।

তাই প্রতিনিয়ত বাংলা ফন্টগুলো রূপ নিচ্ছে তার আপনরূপে এবং তৈরি হচ্ছে নতুন বাংলা ফন্ট। এরূপ জনপ্রিয় ও নতুন অনেক বাংলা ফন্ট রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি আপনার লেখাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারবেন। একাধিক ফন্ট থাকায় অনেকেই বাংলা ফন্টগুলো নির্বাচনে দ্বিধান্বিত হয়ে পরে তাই জনপ্রিয় কিছু ফন্ট নিয়ে আলোচনা করব।

চলুন জেনে নেওয়া যাক জনপ্রিয় কিছু বাংলা ফন্ট সম্পর্কেঃ

*শহীদ বরকত রেগুলার ফন্টঃ

‘শহীদ বাংলা ফন্ট’ টি ভাষা শহীদ বরকতের নামে নামকরণ করা হয়েছে। এই ফন্টের নকশা করেছেন তৌফিকুর রহমান ও এর বিকাশ ঘটেছে নীলাদ্রি শেখর বালার হাত ধরে।

শহীদ বরকত ফন্টটির ধরন ইউনিকোড এবং ANSI আর স্টাইল ২ ধরনের।এই ফন্টটির প্রকাশ হয় ২০২১ সালের ৬ ফেব্রুয়ারিতে। ফন্টটির প্রকাশের মাত্র এক মাসের মধ্যে এর ডাউনলোড সংখ্যা দাঁড়িছে ৩৬ হাজারেরও অধিক।

*শুভ সন্ধ্যা ফন্টঃ

বাংলা ফন্টের মধ্যে শুভ সন্ধ্যা ফন্ট অন্যতম একটি ফন্ট। শুভ ফন্টটি বাংলা ফন্টের দ্বিতীয় সর্বাধিক ডাউনলোডকৃত ফন্ট। যার নকশা ও বিকাশ ঘটিয়েছেন শুভ দ্বীপ রায়। এই ফন্টটির ধরন ইউনিকোড এবং ANSI এবং স্টাইল দুইটি। অবিশ্বাস্যকর এই ফন্টটির ডাউনলোড সংখ্যা দাঁড়িয়ে প্রায় ১৮৬,৯৯৬ বার। এর প্রকাশ কাল ২১ ফ্রেব্রুয়ারী ২০১৯।

*আজাদ পরী ফন্টঃ

আজাদ পরী ফন্টটির নকশা করেছেন আব্দুল কালাম আজাদ এবং এর বিকাশ ঘটিয়েছেন নীলাদ্রি শেখর বালা। আজাদ পরী ফন্টটিও বাংলা ফন্টগুলোর মধ্যে সর্বাধিকবার ডাউনলোডকৃত ফন্ট।এই ফন্টির ধরন ইউনিকোড এবং ANSI, স্টাইল একটি। এটি ডাউনলোড হয়েছে প্রায় ২২৪,৩৩০বার। এর প্রকাশকাল ২২ডিসেম্বর,২০১৯ সালে। 

*খালিদ কালকিনি ফন্টঃ

খালিদ কালকিনি ফন্টটির নকশাকার এইচ.এম.খালিদ এবং বিকাশকারী নীলাদ্রি শেখর বালা। এটি মূলত একটি প্রিমিয়াম ফন্ট। ফন্টটির ধরন ইউনিকোড ও ANSI এবং স্টাইল দুইটি। এটি সাধারণত ক্রয়কৃত ফন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে হয়। এর ক্রয়মূল্য ১০০ টাকা। এখন পর্যন্ত এর ক্রয় হয়েছে ৭১৬ বার। খালিদ কালকিনি ফন্টটির প্রকাশকাল ৬ই মে ২০১৯।

*সুতন্বী এমজে ফন্টঃ

সুতন্বী এমজে একটি রেগুলার বাংলা ফন্ট।এর পরিচিতি অনেক।বাংলা ভাষার সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং বহুল প্রচলিত একটি ফন্ট। সুতন্বী এমজে বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশ পত্র পত্রিকা হতে শুরু করে বই পুস্তকে এই ফন্ট ব্যবহার করেই ছাপা হয়ে থাকে।এই ফন্টটি ব্যবহারের জন্য চর্চা ও দক্ষতা প্রয়োজন। ফন্টটি স্বাভাবিক অবস্থায় অভ্রে ব্যবহার করা যায় না।

*রূপসী বাংলা ফন্টঃ

প্রায় সব ফন্ট সকল কাজে ব্যবহার করা যায় না। কিছু ফন্ট পত্র-পত্রিকা, বই-পুস্তকে যায় কিছু ফন্ট কবিতা,ছন্দ,ছোট গল্পে যায়।তেমনি গল্প উপন্যাসের জন্য অতি স্টাইলিশ ফন্ট ব্যবহার করলে তা পাঠক’কে নিরুৎসাহিত করে।তাই সাবলীল ভাষায় ব্যবহারের জন্য রূপসী বাংলা ফন্ট নির্বাচন বুদ্ধিমানের কাজ। এই ফন্টের ধরন ইউনিকোড ও ANS এবং স্টাইল চারটি।এই ফন্টটির নকশা করেছেন নীলাদ্রি শেখর বালা। 

*নিকষ ফন্টঃ

নিকষ ফন্টটিও অন্যান্য ফন্টের মত বহুল প্রচলিত একটি ফন্ট। নিকষ নামটি নিশ্চয়ই চেনা চেনা লাগছে? হ্যাঁ,এটি বাংলাদেশে নির্বাচন কমিশন তৈরি করেছেন। এর গ্লিফ ডিজাইন করেছেন জাওয়াদ কাজি ওমি ডেভেলপার। অন্যদিকে জাওয়াদ কাজি ওমি আজাদ ও মোজাম্মেল সরকারের নাম উল্লেখযোগ্য। এই ফন্টটি মূলত সরকারি কাজে বেশি ব্যবহার করা হয়। ২০১৬ সালে নিকষ ফন্টটিকে সরকারি ফন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়। শুধু সরকারিই নয়,সরকারীর পাশাপাশি এই ফন্টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমানতালে ব্যবহার হয়ে আসছে।

*চারুকলা ফন্টঃ

চারুকলা ফন্টটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপার্টমেন্ট অফ  গ্রাফিক্স ডিজাইনার চন্দন আচার্য প্রতিষ্ঠা করেছেন। এই ফন্টটির মোট ৬টি স্টাইলে রয়েছে। এর প্রধান বৈশিষ্ট্য আল্ট্রা লাইট(Ultra light)। অন্যান্য ফন্ট হতে এটি কিছুটা সরু। বোল্ড ও রেগুলার টাইপ করা যায়।২০১৬ সালে এটি প্রকাশ করা হয়।চারুকলার সাময়ীকি বা শৈল্পিক বইয়ের প্রচ্ছদে এটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।

বাংলা ভাষার সকল ফন্টগুলো যেনো ভাষা শহীদের কথা বলে, শহীদের প্রতিচ্ছবি জ্ঞাপন করে। তাই ভাষাশহীদদের প্রতি রইল শ্রদ্ধা। আসুন বাংলাকে ভালোবাসি,বাংলাকে লালন করি।

আশা করি উপরোক্ত ফন্টগুলো আপনাকে আপনার পছন্দের ফন্ট নির্বাচনে সহায়তা করবে।

leave your comment