For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
কয়েকটি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম যা তোমার জীবনকে বিকশিত করবে

কয়েকটি সহ-শিক্ষা কার্যক্রম যা তোমার জীবনকে বিকশিত করবে

ছাত্রজীবনের মূল লক্ষ্য যে পড়ালেখা করা – এ কথা আমরা সবাই জানি। বাস্তবে জীবনে চলার জন্য পুঁথিগত পড়াশোনার পাশাপাশি আমাদের আরো নানান রকম জ্ঞান ও দক্ষতার প্রয়োজন হয়। এজন্যই স্কুল-কলেজ সহ বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহ-শিক্ষা কার্যক্রম-এর চর্চা দেখা যায়। এ ধরনের কার্যক্রমগুলো একজন শিক্ষার্থীকে পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করে।

বর্তমান সময়ে এসকল সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের চাহিদাও ব্যাপক। দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের গন্ডি পার করার পর এখন আর শুধু ভালো রেজাল্ট থাকলেই হয় না। ভাল একটা চাকরি, এমনকি উচ্চতর শিক্ষার জন্য স্কলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রেও একজন শিক্ষার্থী পড়াশোনার পাশাপাশি আরো কী কী কাজ করেছে তা খুব গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য করা হয়। তাই স্কুল কিংবা কলেজ জীবন থেকেই পড়াশোনার পাশাপাশি অন্তত একটি সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকা ভাল।

নানা রকম সহ-শিক্ষা কার্যক্রম রয়েছে যা তুমি স্কুল,কলেজের ভিতরে কিংবা বাইরে চর্চা করতে পারো। আজ এমন কিছু সহ-শিক্ষা কার্যক্রম সম্পর্কেই তোমাদের জানাব।

খেলাধুলা
পড়াশোনার পাশাপাশি যেকোনো খেলাধুলা সহ-শিক্ষা কার্যক্রমের অংশ হতে পারে। যেমনঃ দৌড়-ঝাঁপ, ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবল, দাবা, কাবাডি ইত্যাদি। এ সকল খেলাধুলায় যেমন কায়িক শ্রমের মাধ্যমে শারীরিক সক্ষমতা অর্জিত হয়, পাশাপাশি নেতৃত্ব,সময়ানুবর্তিতা,শৃঙ্খলাবোধ ইত্যাদি গুণাবলীও বিকশিত হয়। সাধারণত প্রতিটি স্কুলেই বছরে একবার বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকা বা জেলাভিত্তিক প্রতিযোগিতা থাকে, যাতে তুমি চাইলেই খুব সহজে অংশ নিতে পারো।

স্কাউটিং
ছেলেদের ক্ষেত্রে কাব স্কাউট বা স্কাউট আর মেয়েদের ক্ষেত্রে হলদে পাখির দল বা গার্ল গাইড নামে স্কুল পর্যায়ে এই স্কাউটিং চর্চা হয়ে থাকে। এর বিভিন্ন রকম কার্যক্রম, যেমন স্বেচ্ছাসেবা কিংবা সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ইত্যাদি একদিকে যেমন মানবিক গুণাবলী বিকশিত করে, পাশাপাশি ক্যাম্পিং-এর মত কার্যক্রম সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দেয়। আর আত্মবিশ্বাসের কথা নাই-বা বলি!

নাচ-গান-আবৃত্তি-অভিনয়
বিভিন্ন রকম সাংস্কৃতিক আয়োজন ও প্রতিযোগিতায় এই চারটির অন্তর্ভুক্তি দেখা যায়। এদের প্রত্যেকটিই চর্চার উপর অনেক বেশি নির্ভরশীল। বিভিন্ন রকম সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান রয়েছে যেগুলোতে নাচ-গান-আবৃত্তি অভিনয় শেখানো হয়। যেমনঃ শিশু একাডেমী, ছায়ানট, বুলবুল ললিতকলা একাডেমী ইত্যাদি। এছাড়াও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কালচারাল ক্লাবগুলোতে অংশ নেয়ার মাধ্যমে এই শিল্পগুলো আয়ত্তে আনার পাশাপাশি দলগত কাজ, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের মত দক্ষতাগুলো অর্জিত হয়।

বিতর্ক
এ কথা বলাই বাহুল্য যে বিতর্ক চর্চার গুরুত্ব অপরিসীম। এটি যেমন জ্ঞানের পরিসীমা বিস্তৃত করে, তেমনি পাব্লিক স্পীকিং কিংবা প্রেজেন্টেশন স্কিলকেও অনেক বেশি উন্নত করে। বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই বিতর্ক ক্লাব থাকে। ক্লাবগুলো অন্তঃ বা আন্তঃ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিতর্ক প্রতিযোগিতাও আয়োজন করে থাকে। ক্লাবের হয়ে এই ফেস্টিভ্যালগুলোর আয়োজন করতে গেলে অর্গানাইজিং স্কিলের বেশ উন্নতি হয়।

কুইজিং
কৌতূহলী মানুষদের জন্য কুইজিং হতে পারে অন্যতম একটি সহশিক্ষা কার্যক্রম। কুইজ কম্পিটিশনগুলোতে বিভিন্ন বিষয়ের উপর যেমন দেশ-বিদেশ, সংস্কৃতি, মিডিয়া, এন্টারটেইনমেন্ট, লাইফ স্টাইল ইত্যাদি নানা ধরনের প্রশ্ন করা হয়। এতসব দিকে জানতে অবশ্যই একজনকে পাঠ্যপুস্তকের বাইরের দুনিয়ার ব্যাপারেও খোঁজ রাখতে হবে। কৌতুহলী কয়েকজন মিলে খুব সহজেই নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কুইজিং ক্লাব খুলে নিয়মিত চর্চা করতে পারো।

লেখালেখি
লেখালেখিতে যাদের আগ্রহ, তারা কিন্তু একাই এই কাজটা চালিয়ে যেতে পারো। নিয়মিত বই,পত্রিকা ছাড়াও নানারকম লেখা পড়লে,নিজের ভিতরের লেখক সত্তাও আপনাআপনি জাগ্রত হয়। গল্প,কবিতা ইত্যাদি ছাড়াও বিভিন্ন সমসাময়িক ঘটনায় নিজের মত বা ভাবনাগুলো লিখে পাঠিয়ে দিতে পারো বিভিন্ন পত্রিকা বা ম্যাগাজি্নে। কে জানে, হয়তো তোমার লেখা ছাঁপা হয়েও যেতে পারে!

সায়েন্স বা এস্ট্রোনমি ক্লাব
তুমি যদি বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে থাকো তাহলে এই ধরনের ক্লাব তোমার জন্য এক বিশাল সুযোগ! বিজ্ঞানের নানা প্রায়োগিক দিক চাক্ষুষ দেখার মাধ্যমে কিন্তু অনেক কঠিন কঠিন থিওরির ব্যাখ্যাও খুব সহজেই বুঝে ফেলা যায়। এছাড়াও কেউ যদি বিশেষভাবে জ্যোতির্বিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী হও,কিন্তু মহাকাশের রহস্য নিয়ে খোশগল্প করার তেমন মানুষ পাও না,বেছে নিতে পারো যেকোনো সায়েন্স কিংবা এস্ট্রোনমি ক্লাবকে। সায়েন্স ফেয়ারগুলোতে বিভিন্ন সায়েন্স বা এস্ট্রোনমি অলিম্পিয়াড, প্রজেক্ট কম্পিটিশন ইত্যাদি নানারকম আয়োজন থাকে। এগুলোতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে অনেক কিছু শেখা যায়।

বিজনেস বা ক্যারিয়ার ক্লাব
এ ধরনের ক্লাবগুলো সাধারণত ক্যারিয়ারভিত্তিক বিভিন্ন আয়োজন করে থাকে। বিভিন্নরকম বিজনেস বা কেইস কম্পিটিশন, স্কিল ডেভেলপমেন্ট বা ক্যারিয়ার দিকনির্দেশনামূলক সেমিনার, ওয়ার্কশপ ইত্যাদি ক্যারিয়ার ক্লাবের কার্যক্রমের মধ্যে পড়ে। স্কুল-কলেজ লেভেলে এ ধরনের ক্লাবগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বিজনেস ক্লাব নামেই পরিচিত থাকে। এই ক্লাবগুলোর মাধ্যমে যে নেটওয়ার্কিং হয়, তা পরবর্তীতে অনেক কাজে লাগে।

আর্ট বা গ্রাফিক্স ক্লাব
তুমি যদি ছবি আঁকতে ভালবাসো, তাহলে এরকম যেকোনো একটা ক্লাবের অংশ হয়ে যেতে পারো। এতে করে বিভিন্ন আঁকিয়ের সাথে পরিচয় তো হবেই, পাশাপাশি বিভিন্ন এনালগ বা ডিজিটাল মিডিয়ায় আঁকার হাতটাও হয়তো পাকাপোক্ত হবে। আর বর্তমান যুগে গ্রাফিক্স বা ডিজাইন কত চাহিদাসম্পন্ন একটি স্কিল তা তো আর অজানা থাকার কথা না!

এগুলো ছাড়াও আরো বিভিন্ন ধরনের সহ-শিক্ষা কার্যক্রম আছে যেমন, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ, রেড ক্রিসেন্ট, মডেল ইউনাইটেড ন্যাশনস ইত্যাদি। পড়াশোনার পাশাপাশি পছন্দমতো যেকোনো এক বা একাধিক কাজে অংশ নিলে মন উৎফুল্ল থাকার সাথে সাথে ব্যক্তিগত গুণাবলীও বিকশিত হয়। তাই ছাত্রজীবনে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অবশ্যই অংশগ্রহণ করা উচিৎ।











leave your comment