For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
ক্রিটিক্যাল থিংকিং এর টুলসমূহ

ক্রিটিক্যাল থিংকিং এর টুলসমূহ

ক্রিটিক্যাল থিংকিং বলতে মূলত কোন বিষয় নিয়ে সহজভাবে সম্ভাব্য সকল দিক বিবেচনা করে চিন্তা করার নামকেই বুঝায়। খুব সুন্দর একটি বিষয় এই ক্রিটিক্যাল থিংকিং।

প্রতিটি বিষয়কে নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ চিন্তার যেই মানদণ্ড তাকেই ক্রিয়েটিভ থিংকিং বলা যায়। এটি আপনাকে সুন্দরভাবে চিন্তা করার সুযোগ ও সুন্দর সামাজিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

ফিলসফি অব মাইন্ড,ফিলসফি অব সাইন্স নিয়ে যিনি কাজ করছেন অর্থাৎ আমেরিকার দার্শনিক, লেখক এবং কগনিটিভ সাইন্টিস্ট ড্যানিয়েল ড্যানেট তার মাল্টি ডিসিপ্লিনারি চিন্তার জন্য তিনি খুবই বিখ্যাত একজন দার্শনিক হিসেবে আলোচিত।

তিনি আমাদের ক্রিটিক্যাল থিংকিং এর জন্য কয়েকটি টুলের সাথে পরিচয় করান যা চিন্তাকে আরও ভালো করতে সহায়তা করে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক ক্রিটিক্যাল থিংকিং এর টুলসমূহ-

ভুল থেকে শিক্ষা গ্রাহণঃ

মানুষ মাত্রই ভুল। মানুষ হিসেবে ভুল করাটাই যেমন স্বাভাবিক তেমনি সেই ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করাটা বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ ট্রায়াল এন্ড এররের মাধ্যমে এগিয়ে লজ্যিক্যাল কোন যায়গায় পৌঁছাতে আপানকে ক্রিটিক্যাল থিংকার হিসেবে গড়ে উঠতে হবে।

আপনি কখনোই ভুল করতে পারেন না বা সেই ভুল স্বীকার না করা ও সেই ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করার মানসিকতা বাদ দিতে হবে। 

আপনার চিন্তায় ভুল হওয়াটাই স্বাভাবিক। এটা মানতে হবে। এবং আপনার লজিক্যাল ভ্রান্তিও হতে পারে। আবার তথ্যগত ভ্রান্তিও হতে পারে।  মনে করেন, যেই তথ্যটি আপনি জানতেন তা ভুল। 

আবার কখনো কখনো নিজের অসতর্কতার জন্য কিছু মিস করাটাও ভুল। 

এছাড়াও অতি আবেগ বা উত্তেজিত হওয়া কিংবা ভয় বা অন্যকোন আবেগ তাড়িত করা।

এরূপ বিষয়গুলো হলে আপনার উচিৎ  এসব এড়িয়ে চলা এবং পরিত্রাণে ভালো কিছু চিন্তা করা।

প্রতিদ্বন্দ্বী/প্রতিপক্ষকে সম্মান করুনঃ

নিশ্চই ভাবছেন আপনি কেন আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষকে সম্মান দিবেন? এর কারন হলো আপনি যদি সম্মানের সাথে তাদের কথা শুনেন তাহলে তাহলে তারাও সম্মানপূর্বক আপনার সকল কথা শুনবে। আপনার কথা বুঝার চেষ্টা করবে এবং আপনার যৌক্তিক বিষয়গুলো প্রতিপক্ষের কাছে মানতে সহজ হবে। তাই প্রথমেই আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী বা প্রতিপক্ষকে শত্রু ভাবাপন্ন দৃষ্টিতে না দেখে সম্মান করতে শিখুন। তাহলে আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী ও প্রতিপক্ষ  আপনাকে শত্রু ভেবে হিংস্র হয়ে উঠবে না।

‘অবশ্যয়ই’(শিউরলি) সতর্কতাঃ

দার্শনিক ড্যানিয়েল ড্যানেট এই ‘অবশ্যয়ই’ বা ‘নিশ্চয়ই’ কে ইংরেজিতে ‘শিওরলি ক্ল্যাক্সেন’ নামে অভিহিত করেছেন। ক্ল্যাক্সেন মানে এক ধরনের ইলেক্ট্রনিক হর্ণ। বাংলায় যা বুঝায় তা হলো নিশ্চয়ই ও অবশ্যয়ই শব্দটিকে সন্দেহের চোখে দেখুন। কারন লেখক যা বলতে চেয়েছেন তা স্বপক্ষে যুক্তি হাজির করেননি তাই বিষয়টিকে সতর্কতা অবলম্বন করুন। হতে পারে লেখক আগে যুক্তি উপস্থাপন করেছেন এবং পরে অবশ্যই বলেছেন। কিন্তু আপনি এটিকে সন্দেহের তালিকায় চেক করে নিবেন।

বুলিসর্বস্ব প্রশ্নের জবাব দিনঃ

কিছু কিছু প্রশ্ন মূলত আপনার চিন্তাধারার ধোঁয়াশা সৃষ্টির জন্য লেখক করে থাকেন। সেসকল প্রশ্নের উত্তর দিন কারন লেখক আপনাকে যে ধরনের প্রশ্ন করবে সেই প্রশ্নের উত্তরে লেখক নিজ জায়গা থেকে সরে দাঁড়াবে তাই সকল প্রশ্নের বা বুলিসর্বস্ব প্রশ্নের উত্তর দিন।

যেমন, আপনি নিজেকে কি মনে করেন? এমন প্রশ্ন কেউ মূলত তর্কের খাতিরে করে থাকে আর আপনি এরূপ প্রশ্নকে প্রশ্ন হিসেবেই নিন এবং উত্তর দিন।

 

অকামের রেয়জ প্রয়োগঃ

এটি মূলত দার্শনিক উইলিয়াম অব অকামের নামঅনুসারে এই নীতিটি। তবে ড্যানেটের মতে এই নীতির প্রয়োগ হয়ে থাকে এরূপ,

যেকোন সমস্যার অতি সহজ ও সুন্দর উপায়টিকে কখনোই জটিল করবেন না বা কঠিন করে ফেলবেন না।

অযথা সময় ব্যায়ঃ

অযথা বা আবর্জনায় সময় ব্যায় না করা ক্রিটিক্যাল থিংকিং এর একটি বিশেষ পার্ট।

সাইন্স ফিকশন লেখক স্টারজেনের একটি ল আছে। তার জনরার অনেক সমালোচনা দেখা যায় বলে তিনি বলেছেন, যেকোন জনরাতেই নব্বই শতাংশ হলো আবর্জনা। আপনি কিছু কাজ দেখে ভাবতেই পারেন যে এটি আসলেই নিখুত কর্ম কিন্তু কালক্রমে টিকে থাকাটাই হলো প্রধান ব্যাপার তাই সকল বিষয়কে যুক্তি হিসেবে নয় বরং কিছু বিষয় এড়িয়ে যাবেন কেননা তর্কের বেশিরভাগই হয়ে থাকে অযথা ও আবর্জনা। আপনার সময় বাঁচাতে তাই কিছু জিনিস এড়িয়ে চলুন।

ডিপিটি সতর্ক হোনঃ

ডিপিটি মূলত কনফিউজিং সাইড। এটি যেমন একদিকে সত্যি হয় ঠিক তেমনি অন্যদিক দিয়ে ভুল হয়ে থাকে। যা মানুষকে সহজেই বিভ্রান্ত করে ফেলে।

যেমন ড্যানেট এর উদাহরণ হলো-

“ভালোবাসা একটি শব্দমাত্র”

উক্তিটি যেমন একদিক দিয়ে সত্য ঠিক তেমনি অন্যদিক দিয়ে ভুল। কারন ভালোবাসা একটি শব্দ ঠিক কিন্তু এর অর্থ ভাবগম্ভীর।  মানুষের আশা,ভরসা ও বিশ্বাস মিশে থাকে এর মাঝে।

এমনি অনেক শব্দ আছে যা বাক্যগতভাবে ঠিক হলেও অর্থে ঠিক নয়। তাই এরূপ ডিপিটি থেকে সতর্ক হোন।

ক্রিটিক্যাল থিংকিং খুব ক্রিয়েটিভ একটি পার্ট কিন্তু বেশিরভাগই এর কদর নেই। এরূপ পরিস্থিতিত মেনেও অনেকেই ক্রিটিক্যাল থিংকিং চর্চা করে থাকেন। আর তাদের হাত ধরেই চলবে আগামী প্রজন্মের পথচলা।

leave your comment