For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
  কেমন হবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ?

  কেমন হবে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ?

 

ইউরোপের অনেক দেশেই করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার একবার কমে আসার পরে আবার বাড়তে শুরু করেছে—যাকে বলা হচ্ছে সংক্রমণের দ্বিতীয় ধাপ বা সেকেন্ড ওয়েভ।

বিশেষজ্ঞরা আগেই সতর্ক করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় করোনা ভাইরাস ফিরে আসতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। যার জেরে সাময়িক স্বস্তির পরে ফের করোনা নিয়ে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে বিভিন্ন দেশে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে দ্বিতীয় দফায় আরও ভয়াবহ চেহারা নিতে পারে করোনা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন,সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে এ ওয়েভ শুরু হতে পারে।এবং শীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাহিরে চলে যেতে পারে।১৯১৮ সালে ভয়ংকর মহামারী স্প্যানিশ ফ্লুর দ্বিতীয় ধাপ অনেক বেশি ভয়াবহ ছিলো প্রথম ধাপের তুলনায়। সে হিসেবে করোনার দ্বিতীয় তরঙ্গ আরো ভয়ঙ্কর হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন কোভিড-১৯ সংক্রমণের দ্বিতীয় বা তৃতীয় ঢেউয়ের হাত থেকে কীভাবে বাঁচা যায় তা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে বিশ্বের সব দেশই।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এরই মধ্যে লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে সেই সাথে বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এই লকডাউন শিথিলের পর অর্থনীতিতে গতিশীলতা ফিরলেও তৈরি হয়েছে দ্বিতীয় তরঙ্গের শঙ্কা।

লকডাউন তোলার ফলে করোনা আক্রান্ত কতটা হারে বাড়ছে, তার উপরে একটি জরিপ করা হয়। রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে, করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ বা সেকেন্ড ওয়েভের ঝুঁকি প্রবল। রিপোর্ট বলছে, অর্থনীতির বড় অংশ খুলে গিয়েছে, এমন ১৭টি দেশে সংক্রমণের সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ঢেউ আসার লক্ষণ নেই৷ ১৩টি দেশের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেকেন্ড ওয়েভের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ তবে ঝুঁকি তুলনামূলক কম৷ ১৫টি দেশের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, সেকেন্ড ওয়েভের ঝুঁকি প্রবল৷

দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করার জন্য সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়তে হবে। নিউজিল্যান্ড ২৪ দিন করোনাভাইরাসমুক্ত থাকার পর আবার দেশটিতে কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে। চীনের রাজধানী বেইজিং ৫০ দিন ভাইরাসমুক্ত থাকার পর আবার প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এগুলোকে মহামারির দ্বিতীয় পর্যায় বা দ্বিতীয় ঢেউ বলা যায় না।

তবে বিজ্ঞানীদের কেউ কেউ বলছেন, ইরানে আবার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়াটা মহামারির সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় পর্যায় হতে পারে।

লকডাউনের বিধি-নিষেধ দ্রুত তুলে ফেললে দ্বিতীয় পর্যায় দেখা দিতে পারে। লকডাউন বিশ্বজুড়ে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটিয়েছে, বহু মানুষ কাজ হারিয়েছে, স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলেছে, শিশুদের স্কুল থেকে দূরে রেখেছে। তবে তাতে ভাইরাস নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাও হয়েছে। ডা. কুচারস্কি বলেন, ‘চূড়ান্ত ধাঁধা হলো দৈনিক কাজে বিঘ্ন না ঘটিয়ে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা যায়।’

এভাবে কতদূর যাওয়া যাবে তা নিয়ে কেউ শতভাগ নিশ্চিত নন। এ জন্যই কয়েকটি ধাপে লকডাউনের বিধি-নিষেধ তোলা হচ্ছে এবং করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণের নতুন নতুন উপায় চালু করা হচ্ছে।

ডা. কুচারস্কি বলেন, নিয়ন্ত্রণ বজায় না রেখে বিধি-নিষেধ শিথিল করা হলে যুক্তরাজ্য এবং প্রতিবেশী দেশগুলোতে হঠাৎ প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাবে।

কিন্তু যদি সে রকম হয়, তবে তা হবে মানুষের গুরুতর কোনো ভুলের জন্য। মহামারি শুরুর দিকে একজন আক্রান্ত মানুষ থেকে গড়ে তিনজনের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়েছে। এর অর্থ ভাইরাসটি খুব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল। তবে এখন মানুষের আচরণ বদলেছে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার সচেতনতা বেড়েছে। তাই সংক্রমণের গতি এবার বেশি হবে না বলে ধরে নেওয়া যায়।

leave your comment