For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
কীভাবে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করবেন?

কীভাবে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করবেন?

কর্মক্ষেত্র কিংবা ব্যক্তিজীবনে নিজেকে দক্ষ করে গড়ে তুলার বিকল্প হয় না।নিজের পছন্দের ক্যারিয়ারে যেতে এবং দৈনন্দিন জীবনে প্রতিযোগিতার মাঝে নিজেকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হলো দক্ষতা অর্জন।সাধারণত দক্ষতাকে ২টি ভাগে ভাগ করা যায়।

১.মানসিক দক্ষতা(সফট স্কিল)

২.শারীরিক দক্ষতা(হার্ড স্কিল)

ব্যক্তি জীবনে এই উভয় ধরনের দক্ষতাই প্রয়োজন আছে। তবে সকলের মাঝে উভয় দক্ষতা সমান থাকে না।কেউ শারীরিকভাবে দক্ষ হলেও মানসিক দিক দিয়ে দুর্বল হয়ে থাকে।অন্যদিকে মানসিকভাবে দক্ষ লোকরাও শারীরিকভাবে  দুর্বল হয়ে থাকে। আবার অনেক ক্ষেত্রে অনেকে শারীরিক ও মানসিক দক্ষতার মধ্যস্ততায় অবস্থান করে। মূলত ব্যক্তিভেদে দক্ষতার ধরন আলাদা হয়ে থাকে।তাই প্রথমে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে নিজের দুর্বলতা ও পারদর্শিতা দিকগুলো চিহ্নিত করতে হবে।

চলুন জেনে নেওয়া যাক দক্ষতা বৃদ্ধির উপায়গুলো-

▪️জ্ঞান অর্জনের আগ্রহঃ

জ্ঞান অর্জনের আগ্রহ মানসিক দক্ষতা বৃদ্ধি করে। বলা হয়-দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অর্জন কর।অধিক

জ্ঞান আগ্রহ প্রবণতা মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে আপডেট রাখা যায়। ক্যারিয়ার গড়তে এবং জীবনকে এগিয়ে নিতে জ্ঞান অর্জন করার পাশাপাশি নিজেকে আপডেট রাখার মধ্যদিয়ে বাস্তবমুখী জ্ঞানলব্ধ করে নিজেকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

▪️সৃজনশীলতাঃ

যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে আপনাকে সৃজনশীল হতে হবে।আপনার সৃজনশীলতার উপর নির্ভর করে আপনি কতটা সফল হবেন। নিজের বুদ্ধিমত্তার বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ সৃজনশীলতা আপনাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা ও ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন হিসেবে গড়ে তুলবে তাই নিজের বুদ্ধিমত্তার সৃজনশীলতা আপনার দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

▪️ যোগাযোগে পারদর্শিতাঃ

যেকোন সেক্টরে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারস্পরিক যোগাযোগ স্থাপন করা প্রয়োজন। আপনার যোগাযোগের দক্ষতা যত সম্প্রসারিত হবে তত আপনি নিজেকে গড়ে তুলতে পারবেন এবং নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক হবে।সহজেই সকলের সাথে মিশতে পারা, ভাষাগত দক্ষতা,গল্প বলার দক্ষতা, শোনার আগ্রহ,রসবোধ ইত্যাদির মাধ্যমে নিজের মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে নিজেকে দক্ষ করে তোলা সম্ভব।

▪️নিজেকে উপস্থাপনঃ

অন্যের কাছে নিজেকে কিভাবে উপস্থাপন করেছেন তার উপর ভিত্তি করে আপনার দক্ষতা।অন্যের নিকট নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করাও একটা দক্ষতা তাই নিজেকে উপস্থাপন করা শিখতে হবে।নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়।

▪️ইতিবাচক চিন্তাভাবনাঃ

আপনার চিন্তা চেতনা আপনার দক্ষতার বহিঃ প্রকাশ ঘটায়। ইতিবাচক চিন্তাভাবনা আপনাকে সফলতার দিকে নিয়ে যাবে। ইতিবাচক চিন্তাভাবনা আনয়নে ইতিবাচকমূলক বই পড়তে পারেন। বা সাফল্যমন্ডিত ব্যক্তিবর্গের জীবনী বই অধ্যয়নের মাধ্যমে ইতিবাচক মনোভাব জাগ্রত করতে পারেন এবং অন্যকেও উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।

▪️সমস্যা চিহ্নিতকরণ সমাধানঃ

ব্যক্তিজীবনে নানা ধরনের সমস্যা থাকবে সে সমস্যাকে কেন্দ্র করে নয় বরং সমস্যার কারন চিন্তিত করা এবং সেই সমস্যা সমাধানে পথ খুঁজা।

নিজের সমস্যা চিহ্নিত করে তার সমাধান করার মাধ্যমেই নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করা যায়।নিজের দক্ষতা অর্জনে নিজের সমস্যা সমাধান করা শিখতে হবে।

▪️নেতৃত্ব দানঃ

ব্যক্তিজীবনে পেশাগত দক্ষতা অর্জনের জন্য নেতৃত্ব দান অন্যতম একটি ধাপ।নেতৃত্ব দান ক্ষমতা ব্যক্তির দক্ষতাকে বৃদ্ধি করে।ধরুন আপনি বিভিন্ন সংঘাত নিরসন করতে পারেন সহজেই এবং পরামর্শ প্রদান করতে পারেন।এরূপ পারদর্শিতা আপনাকে অন্যদের তুলনায় আলাদা করে গড়ে তুলবে। বিভিন্ন মতামত দেওয়া-নেওয়া,তত্বাবধায়ন ও দায়িত্বশীলতা আপনার নেতৃত্বের গুনাবলী আপনাকে দক্ষ করে তুলবে।

▪️ দৈনন্দিন কাজকর্মের নিয়মশৃঙ্খলাঃ

প্রতিদিনের কাজকর্ম রুটিনমাফিক করা ।যেমন-ঘুম,খাদ্যাভাস,স্বাস্থ্যের যত্ন,পরিচ্ছন্নতা ও চিত্তবিনোদন ইত্যাদি নির্দিষ্ট সময় মেইনটেইন করার মাধ্যমে নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়া। নিজেকে সময় দেওয়ার মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস অর্জন করা যায় যা নিজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

▪️শরীরচর্চাঃ

সুস্থ ও সুন্দর থাকার পূর্বশর্ত হলো শরীরচর্চা। শরীর ভালো থাকলে মন ভালো থাকে আর মন ভালো থাকলে আশ-পাশের পরিবেশর প্রতি ইতিবাচক মনোভাব বিস্তার করে। নিয়মিত শরীরচর্চা তাই শরীরকে সুস্থ রাখে যা শারীরিক ক্ষমতা(হার্ড স্কিল) বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

▪️নিয়ন্ত্রণক্ষমতাঃ

কর্মজীবন বা ব্যক্তি জীবনে পরিবেশের সাথে আপনি কতটা খাপ খায়িয়ে চলতে পারেন তার উপর ভিত্তি করেই আপনার দক্ষতা গড়ে উঠে।নিজের পরিবেশকে নিজের কর্ম দ্বারা নিয়ন্ত্রণ রাখার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারেন।

▪️মেন্টর বা পরামর্শ নেওয়াঃ

যেকোন কাজের জন্য মেন্টর বা পরামর্শদাতার নিকট হতে পরামর্শ নেওয়ার মাধ্যমে আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করতে পারেন।ভালো পরামর্শ প্রদানে আপনার সীদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা সম্প্রসারিত হবে।

▪️পেশাগত দক্ষতাঃ

আপনার পেশা হোক সফট স্কিল বা হার্ড স্কিল সেই কাজের প্রতি আপনার দক্ষতা ব্যক্তি জীবনে দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করবে।

পরিকল্পনা, মিটিং, প্রযুক্তি ব্যবহার,কাজ করার আগ্রহ ও অংশগ্রহণ আপনার দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।

▪️ব্যক্তিগত দক্ষতাঃ

আপনার ব্যক্তিত্ব কেমন ইতিবাচক না নেতিবাচক, আপনার পরিবেশকে আপনি কতটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন সবকিছু আপনার ব্যক্তিত্বের উপর নির্ভর করে।আপনার সচেতনতা,বুদ্ধিমত্তা,সহানুভূতিশীলতা,সংবেদনশীলতা আপনার আত্মবিশ্বাস অর্জন করতে শেখায়।তাই নিজের দূর্বলতা খুজে বের করতে হবে এবং নিজের যতটুকু ব্যক্তিগত দক্ষতা রয়েছে তা কাজে লাগিয়ে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির চেষ্টা করতে হবে।

▪️বহুমূখীতাঃ

নিজের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে নিজেকে বহুমুখী হতে হবে।একজন বহুমুখী জ্ঞান সম্পন্ন ব্যক্তি যে কোন কাজ সহজভাবে নিতে পারে এবং যেকোন পরিবেশের সাথে নিজেকে খাপ খায়িয়ে নিতে পারেন।তাই নিজের  দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বহুমুখী হতে হবে।

সুতরাং,নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে নিজেকে সময় দিতে হবে,নিজেকে জানতে হবে,নিজের দুর্বলতা ও পারদর্শিতার দিকগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। নিজেকে পরিবর্তন করার ইতিবাচক চিন্তাধারাই একপার্যায়ে আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে সহায়তা করবে।

Comments (2)


  1. How To Introduce Yourself in An Interview – Interactive Cares

    […] Related:কীভাবে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করবেন? […]

  2. 5 Sports Which Boost Our Brain – Interactive Cares

    […] Related:কীভাবে নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি করবেন? […]

leave your comment