For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
করোনাকালীন সময়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা

করোনাকালীন সময়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা

করোনা মহামারির সময়ে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো বন্ধ! সেই অর্থে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থায় কিছুটা অনিশ্চয়তা কিংবা আমাদের সামাজিক প্রেক্ষাপটে আমরা সবসময় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বলতে বিদ্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হওয়ার পরিবর্তে এখন বিকল্প উপায় বেছে নিয়েছি, যেমন অনলাইন ক্লাস, ভার্চুয়াল লার্নিং, এ্যাসাইনমেন্ট টাস্ক ইত্যাদি।

কিন্তু আমরা কি জানি? প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার যে আরো কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে । সেরকমই একটি প্রকারভেদ হলো উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা (Non-formal Education) । প্রথমেই জেনে নেয়া যাক, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা কি?

উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা হলো, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে একটি টার্গেটদলকে নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রয়োজন অনুসারে কোন কিছু শেখানোর যে শিক্ষা কার্যক্রম।যদিও এই শিক্ষাব্যবস্থাটি কখনোই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সমকক্ষ নয়, কিন্তু সকল দেশে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে তাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে জীবনমান উন্নত করার জন্য উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার আয়োজন করা হয়। বাংলাদেশে ১৯১৮ সালে বয়ষ্কদের জন্য নৈশস্কুল খোলার মাধ্যমে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বা নন-ফরমাল এডুকেশনের প্রচলন শুরু হয়। ব্র্যাক, সিসিডিবি, কারিতাস, ডানিডা, কনসার্ন, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র, আরডিআরএস, ঢাকা আহসানিয়া মিশন, প্রশিকা ইত্যাদি সহ আরো অনেক এনজিও বর্তমানে আমাদের দেশে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়ে কাজ করছে। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাকে “শিক্ষার ২য় সুযোগ” বলা হয়ে থাকে।

বর্তমান অবস্থায় আমরা চাইলেই উপানুষ্ঠানিক শিক্ষাধারায় আমাদের ব্যবহারিক বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষন গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে পারি তবে তা অবশ্যই হতে হবে স্বইচ্ছায়। ব্যক্তিকে যদি জোরপূর্বক কোন শিক্ষায় বা প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তবে সেটি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা হিসেবে গণ্য হবে না। উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ধারায় মানুষ স্বেচ্ছায় আসে এবং এই নন-ফরমাল এডুকেশন মানুষ দক্ষতা বৃদ্ধি করতে গ্রহণ করে, সার্টিফিকেট এই ক্ষেত্রে প্রধান বিষয় নয়, এখানে কোন বিষয় সানন্দে শেখাটাই মূল বিষয় পাশাপাশি ব্যবহারিক জ্ঞান বৃদ্ধি করে বাস্তবজীবনে প্রয়োগমূলক কোন কিছু শেখা হলো টার্গেট দলের জন্য ব্যবহারিক শিক্ষা।

এখন বর্তমান অবস্থায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা ঘরে বসে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষা গ্রহণ করছে। যদিও ঝড়ে পড়া শিক্ষার্থীরা যেন অক্ষরজ্ঞান ভুলে না যায়, তার জন্যে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে তাদের লেখাপড়া চলমান রাখার ব্যবস্থা স্বরূপ বিভিন্ন এনজিও নৈশ স্কুল খুলে থাকে। সেদিকে বিস্তারিত আলোচনা না করে, আমরা আজ জানবো, সাধারণ শিক্ষার্থীরা কি করে উপানুষ্ঠানিক বা নন-ফরমাল এডুকেশনের মাধ্যমে এই করোনাকলীন অবসর সময়টি কাজে লাগাতে পারে।

জীবন দক্ষতা সম্পর্কিত বিভিন্ন শিক্ষা

জীবনে চলার পথে একজন ব্যক্তিকে যেসব বিষয়ে সচেতন হতে হয়, দক্ষতা অর্জন করতে হয় সেগুলোই মূলত জীবন দক্ষতা, যা মানুষের জন্য অভিযোজনমূলক এবং ইতিবাচক আচরণের দক্ষতা যেগুলো মানুষকে তার জীবনের চ্যালেঞ্জগুলির সাথে কার্যকরভাবে মোকাবেলা করতে সক্ষম করে তোলে। মনো-সামাজিক দক্ষতা হিসেবে পরিচিত এই জীবন দক্ষতায় বর্তমানে আরো কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যোগ হবে যা আমাদের এই করোনাকালীন সময়ে সুস্থ থাকতে বেশি জরুরি। এমন কিছু শিক্ষা হতে পারে সুস্থ থাকার জন্য কিংবা শরীর ও মনকে রোগপ্রতিরোধে সক্ষম করে তুলতে। যেমন, ব্যায়াম শেখা, সাইকেল চালানো কিংবা সাতার শেখা ইত্যাদি যা শিক্ষার্থীদের মনকে সতেজ করবে, সাথে সুস্থও রাখবে, যেটি এই সময়ে সকলের জন্য কাম্য।

 

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা আয়োজন

যেহেতু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, সব শিক্ষার্থী পরিবারের সাথেই সময় কাটাচ্ছে বেশি। চাইলেই তো আমরা আমাদের ছোট ভাইবোনদের শিক্ষার দায়িত্বটি নিতে পারি। যাদের ভাইবোন এখনো স্কুলে ভর্তি হয়নি, তাদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার হাতেখড়ি হতে পারে তাদের বড় ভাইবোনদের কাছেই, যার ফলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঘরে বসেই হয়ে যাবে উপানুষ্ঠানিক ধারায় শিক্ষণ-শিখন কাজটি।

 

কম্পিউটার শিক্ষা

যান্ত্রিকতার যুগে সকল কাজেই কম্পিউটার প্রয়োজন। কিংবা সকল ধরনের চাকরিতেই দেখা যায় কম্পিউটার দক্ষতা প্রয়োজন হয়।
বর্তমানে তথ্য প্রযুক্তির যুগে কম বেশি সকল শিক্ষার্থীরাই প্রযুক্তির সংস্পর্শে রয়েছে। তারা ইচ্ছা করলেই অনলাইনে তাদের পছন্দের বিষয়ে কোর্স করে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। তাছাড়া আজকাল বিভিন্ন অনলাইন ভিত্তিক কোর্স রয়েছে যা ঘরে বসেই করা যায়। বিভিন্ন কম্পিউটার ল্যাংগুয়েজ, কম্পিউটার বিষয়ক কোর্স করে নিতে পারে, যা কাজে লাগিয়ে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি চাকরির ক্ষেত্রে কাজে আসবে।

 

ইংরেজি ভাষা শিক্ষা

বর্তমানে সব কাজেই দরকার পরে ইংরেজি ভাষা। তাই এই সময়টিতে শিক্ষার্থীরা তাদের ভাষা দক্ষতা বৃদ্ধি করে নিতে পারে। ইংরেজি ভাষা লেখার কাজটি সবাই পারলেও, এই বিদেশি ভাষাটি মৌখিকভাবে বলতে গেলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের জড়তা কাজ করে, কিন্ত অপরদিকে সকল শিক্ষার্থীদের জন্যই দরকারি এই বিষয়ে দক্ষতা অর্জন করা। তাই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ছুটির সময়টিকে কাজে লাগিয়ে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা হয়ে উঠতে পারে ইংরেজিতে দক্ষ।

 

গ্রাফিক্স, প্রোগ্রামিং শেখা

বর্তমানে গ্রাফিক্স, প্রোগ্রামিং ইত্যাদি বিষয় শেখা খুবই কার্যকর কেননা আজকাল এসব বিষয়ে দক্ষ হয়ে যে কেউ, যে কোন বিষয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী আয় করতে পারে। লেখাপড়ার পাশাপাশি পার্টটাইম চাকরি করার জন্য খুবই আকর্ষনীয় একটি ক্ষেত্র হলো গ্রাফিক্স ডিজাইনিং, প্রোগ্রামিং, ওয়েব ডেভেলপিং ইত্যাদি যেগুলো শিখলে ফ্রিল্যান্সিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আয়ও করতে পারে যার জন্য এখন অফুরন্ত ছুটির সময়টি কাজে লাগানো যায় অন্যরকম শিখনে।

সর্বোপরি বলা যায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ বলেই আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকবে এমনটি নয়। আমরা চাইলেই উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ধারায় আমাদের নিজেদের প্রয়োজন অনুয়ায়ী কার্যকর যে কোন ধরনের শিক্ষা কোর্সের মাধ্যমে ইতিবাচক শিক্ষা গ্রহণ করতে পারি যা আমাদের নিজেদের জন্য উপযোগী হবে আবার দেশের জন্যও মঙ্গল বয়ে আনবে।

leave your comment