For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার উপায়

একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার উপায়

একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতাটি বর্তমানে বহুল প্রচলিত।একজন সফল উদ্যোক্তা তার ব্যক্তিগত অবস্থানের প্রতি  যত্নশীল হবেন।একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য তার ব্যবসায় উন্নয়নের পাশাপাশি সবসময় নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করবে নিজের ব্যক্তিত্বের যত উন্নয়ন সাধন করবে ততই সে সফল হবেন। আর এটাই হলো একজন সফল উদ্যোক্তার মূল মন্ত্র।

জেনে নেয়া যাক সফল উদোক্তা হওয়ার উপায়গুলো-

.আত্মবিশ্বাসী হওয়াঃ

একজন ব্যক্তি তখনই একজন সফল উদ্যোক্তা  হয়ে উঠেন যখন তার নিজের আত্মবিশ্বাস দৃঢ় হয়।নিজের দক্ষতার উপর আত্মবিশ্বাসী হলেই সফল হওয়া সম্ভব।

.পরিশ্রম অধ্যাবসায়ঃ

সফল হতে হলে পরিশ্রম ও অধ্যাবসায়ের বিকল্প নেই।নিজের কাজের প্রতি নিষ্ঠাবান হওয়া,কাজের প্রতি অটল থাকা ও মনোনিবেশ করাই একজন সফল উদ্যোক্তার অন্যতম সূত্র।

.লক্ষ্য নির্ধারণ করাঃ

যেকোন কাজের প্রতি লক্ষ স্থীর করা এর লক্ষ্য অনুসারে সুনির্দিষ্ট কাজের অনুশীলন করার মাধ্যমে একজন সফল উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।

.উচ্চাকাঙ্খাঃ

প্রায় মানুষই একটি স্বচ্ছল ও শান্তিময় জীবন আশা করে। শুধুমাত্র স্বচ্ছল ও শান্তিময় জীবন চাওয়া থেকেই প্রয়োজনীয়তার তাগিদে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা জাগ্রত হয়।

.ঝুঁকি গ্রহণ ক্ষমতাঃ

একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে তাকে ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা থাকতে হবে।হাজারো ঝড় ঝাপটার সাম্মুক্ষীণ হতে হবে।এই ঝড় ঝাপটা পেরিয়েই তাকে সফল উদ্যোগতা হতে হবে।

.অর্থ ব্যয় করার ইচ্ছাঃ

যেকোন কাজের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করার মূল সম্পদ হলো অর্থ। পর্যাপ্ত অর্থ ও সেই অর্থ ব্যয় করার ইচ্ছাশক্তি একজন সফল উদ্যোগতার অন্যতম দিক।

.যোগাযোগের পারদর্শীতাঃ

ব্যবসায়ী কাজে সাহায্য করার মত মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন একজন সফল উদ্যোগতার অন্যতম একটি হাতিয়ার।পারস্পরিক নেটওয়ার্কিং সফল উদ্যোগক্তা হওয়ায় অনেকাংশে সহায়তা করে।

.ধৈর্যশীলতাঃ

যেকোন কাজের জন্য সফল হওয়ার অন্যতম একটি হাতিয়ার হলো ধৈর্যশীলতা।বলা হয়-ধৈর্য করিলে রত্ন মিলিবে।যেকোন বিষয়ে শুরুর দিকে আপনি  ব্যর্থতার সম্মুখীন হবেন আর তা যদি ধৈর্যের সাথে মোকাবেলা করে এগিয়ে যেতে পারেন তবেই আপনি সফল।

.উদ্ভাবনী শক্তিঃ

আপনি একজন উদ্যোক্তা হতে চাইলে আপনাকে অবশ্যই উদ্ভাবনী হতে হবে।আপনার কাজই হবে নতুন নতুন বিষয় আবিষ্কার করা।এবং তা সকলের মাঝে উপস্থাপন করা।উদ্ভাবনী ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উদ্যেক্তা হওয়ার জন্য নিজের অবস্থার পরিবর্তন করতে হবে।

১০.সুষ্ঠু পরিকল্পনা গ্রহণঃ

সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশ কাজের অগ্রগতির জন্য অপরিহার্য। একজন সফল উদ্যোক্তা তার সুষ্ঠু কর্ম পরিকল্পপন দ্বারা তার কার্য সম্পাদন করবে।এক্ষেত্রে তার কার্যসম্পাদনে কর্ম পরিকল্পনা গ্রহণের সৎ সাহস থাকা জরুরী।

১১.নেতৃত্বদান ক্ষমতাঃ

সফল উদ্যোগতারা  তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার ও কাজের ক্ষেত্রে সৎ সাহস ও যোগ্যতার সাথে মেনেজ করতে পারে।ঠিক তেমনি নেতৃত্ব দেওয়ার গুণটি থাকতে হবে।যে যত সুন্দর,আকর্ষণীয় ও সুশীল নেতৃত্ব প্রদান করে সে মানুষের মাঝে তত জনপ্রিয়তা অর্জন করতে পারে। তাই সফল উদ্যোগতা হতে নেতৃত্বের গুণাবলি থাকা আবশ্যক।

১২.সুযোগ সন্ধানী হওয়াঃ

সফল উদ্যোগক্তা হওয়ার অপরিহার্য গুণগুলোর মধ্যে সুযোগ সন্ধানী হওয়া অন্যতম একটি গুণ।উদ্যোগতা হওয়ার জন্য সুযোগ সন্ধানী হতে হবে কেননা যেকোন সমস্যাকে সমস্যা হিসাবে না দেখে সুযোগ হিসাবে কাজে লাগিয়ে উপার্জন করা। সেক্ষেত্রে অবশ্যই ইতিবাচক হতে হবে।

১৩.সময়ের সর্বোত্তম ব্যবহারঃ

প্রবাদে রয়েছে-সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না। তাই সময়ের যথাযথ প্রয়োগ করেই মানুষকে সফলতার দিকে অগ্রসর হতে হয়।সেক্ষেত্রে একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে তার সময়ের সঠিক প্রয়োগ করা প্রয়োজন।

১৪.চারিত্রিক গুণাবলীঃ

একজন উদ্যোক্তা হিসেবে সফল হতে হলে যেই বিশেষ গুণাবলী নিজের মাঝে লালন করতে হয় তা হলো চারিত্রিক গুণাবলী। বলা হয়-চরিত্রহীন মানুষ পশুর সমতুল্য। ভাল চরিত্রের বিকল্প হয় না।একজন চরিত্রবান মানুষ সর্বাপেক্ষা গ্রহণীয় তাই সফল হতে হলে চারিত্রিক গুণাবলী অর্জন করা দরকার।

১৫.বিশ্বাস স্থাপনঃ

আপনার বিশ্বাসের মানদন্ডই আপনার সম্পদ।যেকোন কাজ করতে আপনার মানুষের প্রয়োজন,একা কোনো কাজই করা সম্ভব নয় তাই আপনাকে অন্যের উপর বিশ্বাস স্থাপন করতে হবে(ব্যক্তিভেদে) আর উদ্যোক্তা হতে হলেও আপনাকে বিশ্বাসী হতে হবে।

১৬.মানবিকতাঃ

মানুষ মানুষের জন্য।নানা শ্রেণী পেশার মানুষ নিয়ে আমাদের পথ চলতে হয় সেখানে দেখা দেয় নানা সমস্যা।সেই সমস্যাকে কেন্দ্র করে আপনার মানবিক দৃষ্টিকোন হতে পারে আপনার সফলতার আশীর্বাদ। মানবিক দৃষ্টিকোন লালন করা সফল উদ্যোগতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

১৭.নিজের সমালোচনা করুনঃ

মানুষ মাত্রই ভুল ত্রুটির সমোহার। পৃথিবীতে ভুল করে না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুসকিল তাই নিজের ভুল থেকে নিজের শিক্ষা গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।মানুষের বড় আদালত হলো তার বিবেক। তার নিজের দোষ ত্রুটি নিজে সমালোচনা স্বরূপ নিজে সংশোধন করার মাধ্যমে সফল হয়ে উঠতে পারেন।

১৮.লোকলজ্জা ত্যাগ করাঃ

বিশ্বের অনেক সফল উদ্যোগতাই শুরু করেছেন হকারী থেকে। রাস্তায় রাস্তায় হকারদের মত নিজের পণ্য বিক্রয় করেছেন এবং ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন আকাশচুম্বী। তাই লোকলজ্জা ত্যাগ করে নিজের লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।মনে রাখবেন-পাছে লোকে কিছু বলবেই।

১৯.মূলধন ব্যবহারে কৌশলী হওয়াঃ

উদ্যোক্তা হতে হলে আপনাকে আপনার মূলধনের সর্বোত্তম ব্যবহারে কৌশলী হতে হবে।উদ্যোগে লাভ-লস,উঠা-নামা হবেই।তাই ধৈর্য্য সহাকারে কৌশলতার প্রয়োগই হতে পারে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার অন্যতম ধাপ।

২০.সচেতনতাঃ

ধরুন আপনার কাজের সবকিছুই আছে কিন্তু আপনি সচেতন নন।মনে রাখবেন আপনার সফলতা বা সম্মান অর্জন করতে যতটা সময় লাগবে তার চেয়ে কম সময়ে সবকিছু ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।তাই সচেতনতা জীবনের অন্যতম একটি হাতিয়ার। একজন সফল উদ্যোক্তা হতে হলে অবশ্যই আপনাকে সচেতন হতে হবে।

পরিশেষে বলা যায়, নিজেকে সফল উদ্যোক্তা হিসাবে তৈরি করার আগে নিজেকে তৈরি করুন এবং আলোচিত বিষয়গুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে এগিয়ে চলুন। সফলতা আপনার হাতে ধরা দিবেই।

leave your comment