For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
বাংলাদেশে উদ্যোগতা হওয়ার কিছু বাঁধা সম্পর্কে জেনে নিন

বাংলাদেশে উদ্যোগতা হওয়ার কিছু বাঁধা সম্পর্কে জেনে নিন

যেকোন কাজের বা কর্ম পরিচালনার ও কর্ম পরিকল্পনার বা বাস্তবায়নের মূল দায়িত্ব যিনি পালন করে থাকে তাকেই উদ্যোক্তা বলা হয়ে থাকে।

অর্থাৎ, উদ্যোক্তা হলো পরিচালক বা সংগঠক। আর এই সংগঠকের বা উদ্যোক্তাকে তার কাজের সফল বাস্তবায়নের জন্য সুষ্ঠু কর্ম পরিকল্পনা সহ নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়। বর্তমান বিশ্বে উদ্যোক্তা হওয়ার অনুপ্রেরণা দিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নশীল এই দেশের প্রধানমন্ত্রী সহ বিশ্বের নামকরা নেতাগনও। 

আধুনিক এই যুগের মানুষজন ক্রমাগত স্বল্প সময়ে অধিক অর্থ  ও অল্প পুজিতে নিজেকে টিকিয়ে রাখতে নতুন নতুন ব্যবসায় মনোনিবেশ করছেন।

এসকল ব্যবসা পর্যায়ক্রমে অধিকতর লাভজনক হলেও তরুণ ও নবীনদের জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশ একটি  উন্নয়নশীল দেশ হওয়ায় প্রতিযোগিতা বেশি তেমনি নানামুখী বাধাও বেশি লক্ষ করা যায়।

বিভিন্ন তথ্য মতে,

বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী ‘Ease of Doing Bussiness’ সূচকে চলতি বছরের টপ হিসেব করলে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৬ তম। যেখানে যুদ্ধ বিধ্বস্ত আফগানিস্তানকে বাংলাদেশ থেকে ৯ ধাপ এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। তবে বাংলাদেশের  গড় হিসেব করলে অন্যান্য বছরের তুলনায় এক ধাপ এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছে। সেক্ষেত্রে এটিকে পজিটিভ ধরে নিলেও চলবে না।

প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যেমন কঠিন তেমন নিজের অবস্থা ধরে রাখা হতে তার পরিবর্তন অনেকটাই কঠিনতম। আর এই সকল কাজের দায়িত্ব নিয়ে থাকেন উদ্যোক্তা। স্বল্পোন্নত এই দেশে তাই নানা বাঁধার সম্মুখীন হতে হয়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক বাংলাদেশের উদ্যোক্তা হওয়ার কিছু বাধা সম্পর্কে –

১.প্রশিক্ষণের অভাবঃ

পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে বাংলাদেশে উদ্যেক্তাদের  কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান ও অন্যতম একটি বাধা হয়ে দাড়ায়। পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা যাচ্ছে না যার জন্য দক্ষ কর্মী সংকট দেখা দেয় । এমনকি প্রশিক্ষণের অভাবে দক্ষ উদ্যোক্তা তৈরিতেও বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের কারিগরি শিক্ষায় জোর দিয়ে জনসংখ্যাকে জনশক্তিতে রূপান্তরের জন্য প্রশিক্ষণের সুব্যবস্থা না হলে দেশে উদ্যোক্তা সমাজ অনেকটাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

২.পারিবারিক সমস্যাঃ

পরিবার হলো সমাজ গঠনের প্রাথমিক প্রতিষ্ঠান । যখন সেই প্রাথমিক প্রতিষ্ঠানটিতেই নানান সমস্যা লক্ষ করা যায় তখন সেখান থেকে যুদ্ধে নামার সৈনিকের আশা কিন্তু নিরাশা মাত্র! বাংলাদেশের অধিকাংশ পরিবারের পারিবারিক নানান জটিলটতার কারনে বাংলাদেশে বিভিন্ন অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে আর যার দরূন যোগ্য সংগঠক গড়ে উঠায় বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।

৩.পরিবেশঃ

প্রযুক্তি নির্ভর দেশগুলোতে তাদের পরিবেশের জন্যই কর্মীরা বা সংগঠক অধীক কাজে আগ্রহী হয়ে থাকেন কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র আলাদা। 

বাংলাদেশে শিল্প কারখানা যেসব রয়েছে এর অধিকাংশই অনুন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারে পরিচালিত হয়। উন্নত প্রযুক্তির অভাবে কাজের সঠিক পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে না। অস্বাস্থ্যকর,অনুন্নত ও বিশৃঙ্খল পরিবেশ উদ্যোক্তাদের জন্য অন্যতম একটি বাঁধা ।

৪.সঠিক তথ্যের অভাবঃ

বলা হয় (Information is power) তথ্যই শক্তি আর তা হোক ব্যক্তি,দল বা সমষ্টির ক্ষেত্রে,দেশ-বিদেশ কিংবা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে সঠিক তথ্য সঠিক জায়গায় থাকলে যেকোন কাজ সুষ্ঠুভাবে সমপন্ন করা সম্ভব অন্যথায় হিতে বিপরীত হয়। তাই পর্যাপ্ত তথ্যের অভাবে দেশের উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে আরেকটি বাধা হিসেবে ধরা যায়।

৫.অবিশ্বাস ও দ্বন্দ্বঃ

যেকোন কাজের জন্য প্রয়োজন বিশ্বস্ত হাত বা সহযোগী।  ব্যবসায়ী ক্ষেত্রেও ঠিক তেমনি আপনি একা একা ব্যবসায় নামতে পারবেন না আপনার সহায়তার জন্য বিশ্বস্ত সহযোগীর প্রয়োজন হবে। ব্যবসায়ী দ্বন্দ্ব সংঘাতে নানা কূটনৈতিক কর্মের মাধ্যমে ব্যবসা মন্দা করার মত এমন হাজারো ঘঠনা এখনো ঘটছে আর যার জন্য দেশে সংগঠক সমাজ ভেঙ্গে পরছে।

৬.রাজনৈতিক জটিলতাঃ

দেশের রাজনৈতিক বিভিন্ন জটিলতা দেশের ব্যবসায় মন্দা ও উদ্যোক্তা সমাজের অন্যতম বাধা হয়ে দাড়িয়েছে । রাজনৈতিক নানা কারনে উদ্যোক্তা সমাজে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে এবং ফলস্বরূপ সংগঠক পিছিয়ে পরছেন। দেশের পরিমন্ডলে এমন রাজনৈতিক জটিলতা দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য বাধার আরেকটি কারন।

৭.পুলিশের চাঁদাবাজিঃ

সকল জায়গায় এবং সকল পেশায় সৎ পেশাজীবির পাশাপাশি অসৎ পেশাজীবিও থাকে। রক্ষক যখন ভক্ষক হয়ে দাড়ায় সেখানে নিজের অস্বস্তি টিকিয়ে রাখাটা কতটা চ্যালেঞ্জিংয়ের ব্যপার এটা শুধুমাত্র যারা প্রত্যক্ষ করেছেন তারাই বুঝতে পারবে। তরুণ উদ্যোক্তার একটা অংশ যার জন্য পিছিয়ে রয়েছে।

৮.অর্থনৈতিক অবস্থাঃ

বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হওয়ায় দেশের প্রায় ৭৫ ভাগ লোকই কৃষিভিত্তিক জীবনযাপনে নির্ভরশীল হয়ে জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। দেশের অধীকাংশ মানুষ গ্রামীণ জীবনযাপনেই সাচ্ছন্দ্য বোধ করে থাকেন। তাদের পুঁজি কম হয় ও প্রকৃতির উপর নির্ভর করে মৌসুমি চাষাবাদ করে থাকে। তাই কৃষিকাজ ও কাঁচামালের ব্যবসা ছাড়া অন্যন্য শাখায় কর্মী ও উদ্যোক্তা তেমন দেখা যায় না। স্বল্প মূলধন ও স্বল্প পুঁজি ভিত্তিক সমাজ যেকোন দেশের অর্থনৈতিক পরিমন্ডলে উন্নয়নে বাঁধাগ্রস্থ করে।

৯.সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতাঃ

একটি দেশে সাধারণ মানুষ যেখানে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে সেখানে ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা বা সংগঠক সমাজকে ভয়ে থাকতে হয়। সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজ দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করছে পাশাপাশি ব্যবসায়ী সমাজ ও তরুণদের নিরুৎসাহিত করছে।

১০.আইনি হস্তক্ষেপঃ

আইন মূলত সকলের জন্য সকল ক্ষেত্রে সমান হিসেবে বলা হলেও অনেকক্ষেত্রে তা এরূপ হয়ে থাকে না। স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক নেতা কর্মীদের সাথে যোগাযোগ এরূপ নানা কারনে দেশের আইন ব্যবস্থায় সঠিকভাবে পরিচালিত হয় না আর দেখা দেয় নানা অপরাধ। যার জন্য তরুণ উদ্যোক্তাসমাজ প্রতিনিয়ত  নিরুৎসাহিত হয়ে পরছে।

 

সর্বোপরী কোন দেশ কাল পাত্র ভেদে নয় যেকোন কাজে নানা বাঁধা বিপত্তি আসবেই। তাই সেসকল বাধা বিপত্তি দেখে পিছুপা বা নিরুৎসাহিত হলে চলবে না । সকল কিছু জেনে নিজেকে সঠিক পথে তৈরি করে নিতে পারলেই সফলতার স্বর্ণ শিখড়ে পদার্পণ করতে পারবেন। 

আশা করি উপরোক্ত আলোচনা থেকে আপনারা উপকৃত হবেন এবং এসব বাঁধা কাটিয়ে উঠার মানসিকতা নিয়ে একদিন সফল হবেনই।

আপনার সর্বাত্মক মঙ্গল কামনা করি।

 

ধন্যবাদ।

leave your comment