For a better experience please change your browser to CHROME, FIREFOX, OPERA or Internet Explorer.
অনলাইনে ঘরে বসেই IELTS প্রস্তুতি

অনলাইনে ঘরে বসেই IELTS প্রস্তুতি

বিদেশে পড়াশোনা কিংবা স্থায়ী বসবাসের জন্য যেতে হলে প্রায় বেশিরভাগ দেশেই ইংরেজি ভাষার ওপর দক্ষতার প্রমাণ দিতে হয়। আর এই দক্ষতা প্রমাণের জন্য রয়েছে IELTS, TOEFL, PTE এর মতো বিভিন্ন পরীক্ষা। তবে এসব পরীক্ষার মধ্যে ১৯৮৯ সালে চালু হওয়া IELTS সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়, কেননা বর্তমানে প্রায় প্রতিটি দেশই IELTS স্কোর গ্রহণ করে। কানাডা বা অস্ট্রেলিয়াতে স্থায়ী বসবাসের (পার্মানেন্ট রেসিডেন্সি) জন্য আবেদন করতে হলে IELTS দেয়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ইংরেজির প্রতি আমাদের একটা ভয় কাজ করায় IELTS এর প্রতিও অনেকের ভয় কাজ করে। IELTS এর মতো পরীক্ষাগুলোর আরেকটি সুবিধাজনক দিক হচ্ছে এই পরীক্ষাগুলোতে কোনো পাশ-ফেল নেই। IELTS আপনাকে যে স্কোর দিবে সেটা আপনার ইংরেজির দক্ষতা কতটুকু সেটি নির্দেশ করে। IELTS-এ কীভাবে ঘরে বসে ভালো প্রস্তুতি গ্রহন করা যায়, সেটি নিয়েই এই লেখা।

কত দিনের প্রস্তুতি প্রয়োজন

IELTS এর প্রস্তুতির ব্যাপারে সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটি করা হয় সেটি হচ্ছে ভালো স্কোর করতে কতদিন সময় লাগে। এই প্রশ্নটির কোনো সুনির্দিষ্ট উত্তর নেই। প্রস্তুতির সময় সম্পূর্ণ নির্ভর করবে আপনার ইংরেজির দক্ষতার উপরে। তবে আপনার ইংরেজি দক্ষতা যেমনই হোক না কেন, রিডিং সেকশনের জন্য আপনার পড়ার অভ্যাস থাকতে হবে। এটি আবশ্যক। রিডিং সেকশনে তিনটি প্যাসেজ থেকে প্রশ্ন হয়, আর প্যাসেজগুলো একেকটি ৭০০-৮০০ শব্দের হয়। সুতরাং পরীক্ষার চাপ আর মাত্র এক ঘন্টা সময়সীমা আপনার পড়ার দক্ষতার বেশ ভালো পরীক্ষাই নেবে।

পরীক্ষা পদ্ধতি

দুটি মডিউলে আইইএলটিএস পরীক্ষা দেওয়া যায়। একাডেমিক এবং জেনারেল ট্রেনিং। স্নাতক, স্নাতকোত্তর অথবা পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনার জন্য একাডেমিক মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়। কোনো কারিগরি বিষয় বা প্রশিক্ষণে অংশ নিতে হলে সাধারণত জেনারেল ট্রেনিং মডিউলে পরীক্ষা দিতে হয়। এ ছাড়া সেকেন্ডারি স্কুলে ভর্তি এবং ইমিগ্রেশনের জন্য জেনারেল ট্রেনিং মডিউলে পরীক্ষা দিতে হবে। আইইএলটিএস পরীক্ষায় বসার আগে জেনে নিন কোন মডিউলে আপনাকে পরীক্ষা দিতে হবে। দুটো পদ্ধতিতে পার্থক্য খুব সামান্য। আইইএলটিএস পরীক্ষায় দুই ধরনের মডিউলেই চারটি অংশ থাকে। Listening, Reading, Writing ও Speaking।

লিসেনিং (Listening)
কথোপকথন শুনে বোঝার ক্ষমতা যাচাই করা হয় এ অংশে। চারটি বিভাগে মোট ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। আপনাকে একটা প্যাসেজ ইংরেজিতে বাজিয়ে শোনানো হবে, আর সামনে থাকবে প্রশ্নপত্র, ঐ শোনার ভিত্তিতে আপনাকে উত্তর করতে হবে, কী বোঝানো হয়েছে ঐ অডিও টেপে। মোটামুটি ৩০ মিনিটের পরীক্ষা হয়। শেষ ১০ মিনিটে উত্তরপত্রে উত্তর লিখতে হয়। একটি বিষয় কেবল একবারই বাজিয়ে শোনানো হয়। কোনো অংশ শুনে না বুঝতে পারলে সেটা নিয়ে আর মাথা না ঘামানোই ভালো। কারণ, এতে পরবর্তী প্রশ্নগুলোর উত্তর বুঝতে না পারার ঝুঁকি থাকে। সঠিক উত্তর বেছে নেওয়া, সংক্ষিপ্ত উত্তর, বাক্য পূরণ ইত্যাদি নানা ধরনের প্রশ্ন থাকতে পারে।

রিডিং (Reading)
অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের মতে IELTS এর সবগুলো পার্টের মধ্যে এটি কঠিন মনে হয়। এখানে তিনটি বিভাগে ৪০টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়। সময় এক ঘণ্টা। Reading-এ টেস্ট করা হয় একটা প্যাসেজ পড়ে বোঝার ক্ষমতা। আপনাকে বিশাল বিশাল তিন-চারটা প্যারাগ্রাফ দেয়া হবে, তার থেকে আপনাকে অত্যন্ত সিম্পল সিম্পল উত্তর দিতে হবে। কিন্তু ঐ সিম্পল সিম্পল উত্তরগুলো আপনি সহজে পারবেন না, যদি না আপনি প্যাসেজটা ঠিকমতো বুঝতে পারেন। প্যাসেজটা আপনি ঠিকমতো বুঝতে হলে আপনাকে প্রচুর সময় ব্যয় করতে হবে, আর তাহলে বাকি প্যাসেজে সময় কমে আসবে। এভাবেই এই সহজ পরীক্ষাটা সব পরীক্ষার্থীর জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অর্থাৎ এই পরীক্ষায় আপনি যদি কিছু কৌশল রপ্ত না করে চলে যান, তাহলে সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পারবেন না, সে আপনি যতই কনফিডেন্ট হোন না কেন? ইংরেজি মিডিয়ামের শিক্ষার্থীরা এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারেন। এখানেও বাক্য পূরণ, সংক্ষিপ্ত উত্তর, সঠিক উত্তর খুঁজে বের করা ইত্যাদি প্রশ্ন থাকবে। পড়ার সময় গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলোয় দাগ দিয়ে রাখুন। উত্তর খুঁজে পেতে সুবিধা হবে।

রাইটিং (Writing)
এখানে যাচাই করা হয় আপনি কতটুকু কল্পনাশক্তি খাটাতে পারেন এবং একটা বিষয়ের উপরে লিখতে পারেন। এক ঘণ্টায় দুটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। দ্বিতীয় প্রশ্নটিতে প্রথম প্রশ্নের চেয়ে দ্বিগুণ নম্বর থাকে। এজন্য শুরুতেই দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর ভালোভাবে লিখতে পারেন। প্রথম প্রশ্নটিতে মোটামুটি ২০ মিনিট সময় দিতে পারেন। অন্তত ১৫০ শব্দের উত্তর লিখতে হবে। দ্বিতীয় প্রশ্নটির উত্তর দিতে ৪০ মিনিট নিতে পারেন। অন্তত ২৫০ শব্দ লিখতে হবে। শব্দসংখ্যা একটু বেশি হলে ক্ষতি নেই। কিন্তু কম হলে নম্বর কমে যাবে। প্রথম প্রশ্নটিতে সাধারণত কোনো চার্ট, ডায়াগ্রাম থাকে। এ থেকে নিজের কথায় বিশ্লেষণধর্মী উত্তর লিখতে হয়। দ্বিতীয় প্রশ্নটিতে সাধারণত কোনো বিষয়ের পক্ষে, বিপক্ষে মত বা যুক্তি উপস্থাপন করতে হয়।

স্পিকিং (Speaking)
এখানে কোনো লেখালেখী নেই। আপনাকে নির্দিষ্ট দিনে পরীক্ষাস্থলে (সাধারণত ব্রিটিশ কাউন্সিলে) যেতে হবে। সেখানে দু-তিনজন পরীক্ষকের সামনে আপনাকে বসতে হবে। তাঁরা আপনাকে বিভিন্নভাবে ইংরেজিতে প্রশ্ন করবেন, আপনি তাঁর উত্তর দিবেন। তিনটি অংশে মোটামুটি ১১ থেকে ১৪ মিনিটের পরীক্ষা হয়। প্রথম অংশে পরীক্ষার্থীকে কিছু সাধারণ প্রশ্ন করা হয়, যেমন – পরিবার, পড়াশোনা, কাজ, বন্ধু ইত্যাদি। চার থেকে পাঁচ মিনিটের মধ্যে উত্তর দিতে হয়। দ্বিতীয় অংশে একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে এবং দুই মিনিট কথা বলতে হয়। এর আগে চিন্তা করার জন্য এক মিনিট সময় দেওয়া হয়। তৃতীয় অংশে চার থেকে পাঁচ মিনিটের জন্য পরীক্ষকের সঙ্গে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে কথোপকথন চালাতে হয়।

বর্তমানে দেশি-বিদেশি ই-লার্নিং এমন অনেক প্ল্যাটফর্ম এবং রিসোর্স রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি ঘরে বসেই সেরে ফেলতে পারবেন IELTS এর প্রস্তুতি। এতে আপনার মূল্যবান সময়ের এবং বাড়তি খরচের পরিমাণ, দুই ই বাঁচবে!
চলুন জেনে নেয়া যাক, IELTS পরীক্ষায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিশ্চিত করতে দেশি-বিদেশি কোন ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলো আপনি বেছে নিতে পারেন!

১। Udemy: এটি এমন একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যেখানে বিভিন্ন দেশের প্রশিক্ষকেরা নিজেদের মত করে অনলাইনে বিভিন্ন টিচিং মডেলে, ভিডিও কোর্স তৈরি করে থাকেন। ফ্রি, পেইড দুই ধরণের কোর্সই এখানে পাবেন। তবে এই কোর্সগুলো সাধারণত সম্পূর্ণ নেটিভ-ইংরেজি ভাষায় হয়ে থাকে।
২। Interactive Cares: বর্তমানে বাংলাদেশের সবচেয়ে উদীয়মান এডুটেক প্ল্যাটফর্ম, যেখানে আপনি স্বল্পমূল্যে IELTS এর ওপর কোর্স, মাস্টারক্লাস ইত্যাদি বেছে নিতে পারবেন। স্বনামধন্য ট্রেইনারদের মাধ্যমে তৈরি এই কোর্সগুলোতে এনরোলের মাধ্যমে আপনি রিসোর্সগুলোতে পেয়ে যাবেন লাইফ-টাইম এক্সেস! সবচেয়ে আকর্ষণীয় হলো তাদের IELTS এর কোর্সটি বাংলায় করা যা বিষয়টি বুঝতে আরো সাহায্য করবে। শুধু IELTS ই নয়, বিভিন্ন কম্পিটিটিভ টেস্টের প্রস্তুতিতেও Interactive Cares হতে পারে আপনার একমাত্র নির্ভরতা!

৩। Mentors: অ্যাডমিশন থেকে শুরু করে স্ট্যান্ডার্ডাইজড বিভিন্ন টেস্টের প্রস্তুতিতে মেন্টরস সবসময়ই সার্ভিস দিয়ে আসছে। মূলত অফলাইন ভিত্তিক কার্যক্রম হলেও বর্তমান কোভিড পরিস্থিতির জন্য তারা অনলাইন সেবা নিয়ে এসেছে। তুলনামূলক একটু বেশি খরচে যেকোনো সময়েই আপনি কোর্সে এনরোল করতে পারবেন। তবে কোর্সে এনরোল বা পেমেন্টের জন্য আগে অবশ্যই অফিসে যোগাযোগ করে নিতে হবে।

৪। IDP Bangladesh: এই প্রতিষ্ঠানটি মূলত IELTS ভিত্তিক সেবাই বেশি দিয়ে থাকে। চারটি মডিউলে আলাদা আলাদা লেসন-প্ল্যান বা স্ট্র্যাটেজি প্রয়োগ করে প্রস্তুতিতে সহায়তা করে।

IELTS এ ভালো করার তথাকথিত কোনো ‘শর্টকাট’ নেই তবে ই-লার্নিং প্ল্যাটফর্মগুলো নির্দ্বিধায় হয়ে উঠতে পারে আপনার নির্ভরযোগ্য সহায়ক।

leave your comment